menu

শাহজাদপুরে এনজিও ‘প্রত্যাশা’ কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

শাহজাদপুরে ‘প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা’ (রেজি নং- ঢ-০৯০৭৮) নামে একটি বেসরকারি সংস্থা গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই সংগঠনের গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, গত ১ মে ফয়জাল হোসেন, জাহিদ হোসেন ও রেজাউল ইসলাম নিজেদের প্রত্যাশা সমাজকল্যাণ সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে শাহজাদপুর পৌর এলাকার বিসিক বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পরিবহন ব্যবসায়ী মো. বাবুল হোসেনের ড্রিমল্যান্ড ভবনের নিজতলা ভাড়া নেয়। পরদিন কম্পিউটারসহ কিছু আসবাবপত্র নিয়ে ওই বাসায় প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাইন বোর্ড লাগিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম শুরু করে। এক পর্যায়ে পবিত্র ঈদুল-ফিতরকে সামনে স্বল্প সুদে ও সহজ কিস্তিতে ২ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হবে বলে ওই এনজিও সংস্থার স্থানীয়ভাবে নিয়োগকৃত কর্মচারীরা উপজেলার পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নের শত শত ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সঞ্চয়ী আমানত হিসেবে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করতে থাকে। এ সময় কোন কোন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকাও সঞ্চয়ী আমানত হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে গ্রাহকদের কোন ঋণ না দিয়েই প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ওই সংস্থার লোকজন উধাও হয়ে গেছে। গত রোববার থেকে অফিসটি তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে।

এ ব্যাপারে ওই এনজিও’র স্থানীয় কর্মী বিউটি খাতুন জানান, তাকে ১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন প্রদান করা হবে বলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ফয়জাল হোসেনের কাছে জমা দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ফয়জাল হোসেন তাকে বলেন, সারা দেশে আমাদের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শাহজাদপুরে ৪১ প্রতিষ্ঠান। যার হেড অফিস ঢাকায়। অপরদিকে, ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন, সাথী খাতুন, লুৎফর হোসেন, পলি খাতুন, সোহেল হোসেন সহ অফিসের সামনে সমবেত বেশকিছু সঞ্চায়ীকারী সদস্যরা জানান, তাদের কাউকে ৫ লাখ, কাউকে ৩ লাখ আবার কাউকে ২ লাখ টাকা ঋণ প্রদানের আশ্বাস দিয়ে আনুপাতিক হারে সঞ্চয়ের নামে মোটা অংকের টাকা নিয়েছে। অথচ ঋণ দেয়া দূরের কথা আমাদের টাকা নিয়েই প্রতিষ্ঠানটি উধাও হয়েছে। এদিকে, ড্রিমল্যান্ড ভবনের মালিক বাবুল হোসেন জানান, প্রত্যাশা সমাজকল্যাণ সংস্থার কর্মকর্তারা তাদের সংগঠনের নিববন্ধন সনদপত্র দেখিয়ে ১ লাখ টাকা সিকিউরিটি এবং মাসিক সাড়ে ১৩ হাজার টাকায় তার বাসা ভাড়া নেয়। তিনি জানান, ঈদের সিকিউরিটির ১ লাখ টাকা দিয়ে বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র করার কথা। বাসার মালিক আরও জানান, উধাও হওয়ার পর থেকে ওই এনজিও’র কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার গুলো (০১৭৫৩-৬৪৬৭৬৬, ০১৭৮৫-৬৮৪০৬১, ০১৭১৫-১৮৬৮০৯) বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. আবদুল মোতালিব জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে এ ধরনের মাইক্রোক্যাডিট কার্যক্রমের জন্য কোন ধরনের রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হয় না। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে এমআর এর অনুমতি ছাড়া এ ধরণের কার্যক্রম চালানো যায় না। যে সার্টিফিকেট তারা প্রদর্শন করেছে তাতে শুধুমাত্র ঢাকা জেলার মধ্যেই তারা সমাজসেবামূলক কার্যক্রম করতে পারবে। তাদের প্রদর্শিত ওই সার্টিফিকেটটি ভুয়া বলেই মনে হচ্ছে। এ ব্যাপারে, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না।