menu

লবণের ভরা মৌসুমে দাম কম : দিশেহারা চাষিরা!

সংবাদ :
  • সৈকত আচার্য্য, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০
image

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : গণ্ডামারায় ক্ষেত থেকে লবণ সংগ্রহে ব্যস্ত চাষিরা -সংবাদ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় ১০ সহস্র্রাধিক লবণ চাষি বর্তমানে লবণ উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে লবণের ন্যায্য মূল্য নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এখানকার চাষিরা। চাষিদের অভিযোগ এখানকার লবণ গুণে ও মানে অন্যান্য এলাকার লবণের চাইতে অনেক গুণ ভাল ও উন্নত। তারপরেও যথাযথ মূল্য না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চাষিরা। বর্তমানে বাঁশখালীতে চাষিদের রাতদিন পরিশ্রমের মাধ্যমে আশানুরূপ ভাল ফলন হয়েছে লবণের। তবে আকাশে মেঘ হলেই লবণ চাষিদের মনের মধ্যে কালো ছায়া নামে। কখন যে এক ফসলা বৃষ্টি সব কিছু ধুয়ে মুছে দেয় এই আশঙ্কায়। বর্তমানে বাঁশখালীর ছনুয়া ও পুঁইছড়ির কিছু এলাকা, গন্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা, পূর্ব বড়ঘোনা ও আলেকদিয়া, শীলকূপ ইউনিয়নের পশ্চিম মনকিচর, সরল ইউনিয়নের পশ্চিম সাগর উপকূল ও শেখেরখীল ইউনিয়নের কিছু অংশে কয়েক হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়ে আসছে।

বাঁশখালীর উপকূলীয় ছনুয়া, গন্ডামারা, শেখেরখীল ও সরল এলাকায় সরজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায় লবণ চাষিরা বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন লবণ উৎপাদন নিয়ে। বাঁশখালীতে যদি লবণ ক্রেসিং মিল থাকত স্থানীয়ভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হতো তাহলে চাষিরা ঢাকা-খুলনা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে লবণ না পাঠিয়ে স্থানীয়ভাবে বিক্রি করার সুযোগ পেত। এজন্য ব্যবসায়ীরা বাঁশখালীর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। যাতে করে বাঁশখালীতে লবণ ক্রেসিং মিল স্থাপন করা হয়। পশ্চিম গন্ডামারা লবণ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির উপদেষ্টা সভাপতি ব্যবসায়ী আবু আহমদ বলেন, আমাদের প্রায় সাড়ে ১৬ শত খানি লবণ মাঠ রয়েছে। তার মধ্যে আমরা দেড় লক্ষ মন লবণ বিক্রি করেছি আরো ৮০ হাজার মন লবণ মজুদ রয়েছে। লবণ মৌসুমে একখানি জমির খাজনা (লাগিয়ত) সহ খরচ পড়ে প্রায় ২২ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ লবণ উৎপাদন হয় প্রতি কানিতে ২ শত মন। যদি প্রতি মন ১৫০ টাকা দরেও বিক্রি করি তারপরেও আমাদের লোকসান থাকে। বাঁশখালীর উপকূলীয় ছনুয়া, গন্ডামারা, শেখেরখীল ও সরল এলাকা ঘুরে দেখা যায় লবণ চাষীরা বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন লবণ উৎপাদন নিয়ে। চাষীরা জানায়, বর্তমানে তারা বাজারের লবণের মূল্যে কম হওয়ায় তাদের শ্রমের মূল্য যথাযথ ভাবে পাচ্ছে না। সরকার যদি মধ্যস্বত্ব ভোগীদের কাছ থেকে লবণ না কিনে সরাসরি চাষীদের কাছ থেকে ধানের মত করে লবণ কিনে নিতো তাহলে লবণ চাষিরা অনেক বেশি লাভবান হতো। তাছাড়া বাঁশখালীতে যদি লবণ ক্রেসিং মিল থাকত তবে স্থানীয়ভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হতো। এতে করে চাষিরা ঢাকা-খুলনা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে লবণ না পাঠিয়ে স্থানীয়ভাবে বিক্রি করার সুযোগ পেত। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা বাঁশখালীর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন, যাতে করে বাঁশখালীতে লবণ ক্রেসিং মিল স্থাপন করা হয়।

এদিকে বাঁশখালীর সবচেয়ে বেশি লবণ উৎপাদনকারী স্থান গন্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লেয়াকত আলী বলেন, লবণ চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের থেকে লবণ ক্রয় না করে সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে সরকারিভাবে লবণ ক্রয় করতে হবে। সরকার যদি সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে লবণ কিনে নিয়ে ক্রেসিং এর মাধ্যমে বাজারজাত করে তাহলে চাষিরা ন্যায্যমূল্যে পাবে।

উল্লেখ্য, বাঁশখালীর উপকূলে প্রচুর পরিমাণ লবণ উৎপাদন হলেও সরল এলাকায় বিসিকের প্রদর্শনী কেন্দ্রে ৩৮৮ একর এলাকায় লবণ চাষ চলছে। আগেই পলিথিন ছাড়াই লবণ উৎপাদন করা হলেও বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে পলিথিনের মাধ্যমে লবণ উৎপাদন করা হয়। ফলে লবণে পূর্বের ন্যায় কাঁদাযুক্ত থাকে না এবং চাষীদের তা পরিস্কারে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয় না। বর্তমানে বাঁশখালীতে উৎপাদিত লবণগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পটিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে পাইকারি আমদানিকারকরা নিয়ে যাচ্ছে।