menu

ইউএনও’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

মা নবজাতককে উপহারে বরণ

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ মে ২০১৮

জন্মের পর শিশুকে ও তার মাকে উপহার দিয়ে তাদের স্বাগত জানানোর এক অভিনব উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান। যাতে ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকেই সরকার প্রতিটি শিশুর দায়িত্ব নেয় এমন চিন্তা চেতনা থেকে তার এ উদ্যোগ। অন্যদিকে শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিশু মৃত্যুহার ও মাতৃ মৃত্যুহার রোধ করাও এমন মহতি উদ্যোগের একটি লক্ষ্য। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাকে ও তার পবিরাবকে বুঝানো গেলে পবিরার পরিকল্পনার সুবিধা সম্পর্কেও তারা সচেতন হবেন বলে মনে করেন নির্বাহী কর্মকর্তা। উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য শরীয়তপুরের সদর উপজেলার রুদ্রকর, চন্দ্রপুর ও বিনোদপুর ইউনিয়নকে পাইলটিং হিসেবে হাতে নেয়া হয়। এ তিনটি ইউনিয়নের ২৪০ নবাগত শিশু ও তার মাকে ইতোমধ্যেই উপহার দেয়া হয়েছে। একটি শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার কথা শোনার পর শিশু ও মায়ের জন্য উপহার নিয়ে সেই বাড়ি হাজির হন নির্বাহী কর্তকর্তা জিয়াউর রহমান। তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়সহ হাতে তুলে দেন উপহারস্বরূপ শিশুর জন্য প্রসাধনী সামগ্রী, পোশাক ও বিছানা অন্যদিকে মায়ের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে পুষ্টিকর জাতীয় খাদ্য হিসেবে মাদার হরলিকস। স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিভিন্ন পরামর্শের জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদেরও সঙ্গে নিয়ে যান। সঙ্গে থাকেন পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারও। তিনিও মাকে করছেন জন্ম নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সচেতন। হঠাৎ উপহার দেখে এসব মা অভিভূত হচ্ছেন। তারাও আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করছেন এসব উপহার। এ উদ্যোগে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন সদর উপজেলা পরিষদ। এছাড়া এ কাজে পরিবার পরিবকল্পনার যাবতীয় সহযোগিতা করছেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়। রুদ্রকর ইউনিয়নের মাফিয়া বেগম জানান, কখনও ভাবি নাই একজন সরকারি মানুষ উপহার লইয়্যআমাগো বাড়িতে আইব। অনেক আনন্দ লাকতাছে। হেরা যেই পরামর্শ দিছে হেইয়্যা মাইন্যা চলুম। চরসুন্দি গ্রামের আছমা বেগম বলেন, হঠাৎ এমন উপহার পাইমু ভাবি নাই। অনেক আনন্দ লাগতাছে। বাচ্চার জন্য অনেক কিছু আছে ও আমারেও হরলিকস দিছে। অনেক ভাল ভাল কথা বুঝাইছে। সবই অনেক কাজে লাগবে। রুদ্রকর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান এমন উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিশুদের উপহার দেয়া সম্পূর্ণ নতুন একটি কর্মসূচী। একজন সরকারি কর্মকর্তা বাড়ি বাড়ি উপস্থিত হয়ে মানুষকে বিভিন্ন ধরণের পরামর্শ দিচ্ছেন এতে সমাজের ব্যাপক পরিবর্তন হবে। আমি মনে করি এমন উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করে কর্মসূচি আকারে সারাদেশে ছড়িয়ে দেবে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিল্পি আক্তার বলেন, আমরা ইউএনও মহোদয়ের এ মহতি উদ্যোগের সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করে উপজেলা পরিষদ থেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছি। তার সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যখন মায়ের হাতে উপহার তুলে দিচ্ছি তখন খুবই ভাল লাগছে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের খোঁজ খবরও নিতে পারছি। পাশাপাশি তাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করতে পারছি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ কর্তধর। এসব শিশুই একদিন এদেশকে নেতৃত্ব দেবে। যদি সরকারিভাবে বা জাতীয় পর্যায়ে শিশুদের দায়িত্ব নিতে পারি তাহলে আমরা একটা সুন্দর প্রজন্ম পাব। যারা আমাদের এই সোনার বাংলাকে সামনের দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমি আশা করি আমার এ উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে সরকার যেমন এগিয়ে আসবে তেমনি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসবেন।