menu

ভালুকায় ১০ গ্রামের ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো

সংবাদ :
  • আতাউর রহমান তরফদার, ভালুকা (ময়মনসিংহ)
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
image

ভালুকা (ময়মনসিংহ) : বয়রার টেক ঘাটে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে ক্ষীরু নদী পার হচ্ছেন এলাকাবাসী -সংবাদ

উপজেলার মল্লিকবাড়ী ও মেদুয়ারী অংশে বয়রাটেক নামক ঘাটে একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপারে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার চারটি ইউনিয়নের দুই পারের ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। গুরুত্বপূর্ণ ওই স্থানে সেতু না থাকায় ইজারাদারের তৈরি বাঁশের সাঁকো পার হতে প্রতিবার পাঁচ টাকা করে গুণতে হয় এলাকাবাসীকে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মল্লিকবাড়ী বাজার সংলগ্ন খীরু নদীর ওপর বয়রাটেকের ঘাটটির মেদুয়ারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইজারা নিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। পরে তারা বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দিয়েছেন নদী পারাপারের জন্য। তাই এই সাঁকোর ওপর দিয়ে পার হতে প্রতিবার পাঁচ টাকা করে দিতে হয় ইজারাদারকে। মল্লিকবাড়ীতে রয়েছে- প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দাখিল মাদ্রাসা, মহিলা মাদরাসা ও কয়েকটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল। প্রতিদিন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষক ও সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সাঁকো পারাপার হতে হয়। এলাকাবাসী জানান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও হঠাৎ করে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য কোন যানবাহন পারাপারের ব্যবস্থা নেই ঘাটে। ফলে এসব রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম বিপাকে পড়তে হয়।

মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নে অবস্থিত কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, তাদের বাড়ি মেদুয়ারী ইউনিয়নে। এখানকার স্কুলের লেখাপড়ার মান ভালো তাই তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুলে আসেন। গত কয়েকদিন আগে তাদের সহপাঠী এক ছাত্রী বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সাঁকো থেকে পা পিছলে নদীতে পড়ে যায়। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দা পানিভান্ডা গ্রামের ছাইফুল ইসলাম বলেন, তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। প্রতিবার পার হতে ইজারাদারকে পাঁচ টাকা করে দিতে হয়।

তাছাড়া এই সাঁকো দিয়ে কৃষি পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহন করা খুবই কষ্টসাধ্য। ফলে তারা উৎপাদিত কৃষি পণ্য ঠিকমতো বেচা-কেনা করতে পারেন না। বর্তমান সংসদের দু’জন এমপি রয়েছেন কাজীম উদ্দিন আহমেদ ধনু অন্যজন সংরক্ষিত মহিলা এমপি মনিরা সুলতানা মনি। উভয়ের গ্রামের বাড়ি ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নে। তাদের বাড়ির পাশের একটি সেতুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

তাই দুই সংসদ সদস্যের কাছে এলাকাবসীর চাওয়া-পশ্চিম ভালুকার হাজারও মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে এই অর্থ বছরেই যেন খীরু নদীর ওপর বয়রাটেকের সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

এ ব্যাপারে ওই ঘাটের ইজারাদার ওয়াদুদ মিয়া জানান এক বছরের জন্য ষাট হাজার টাকায় ঘাটটি মেদুয়ারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তিনি ইজারা নিয়েছেন । পরে তিনি নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খীরু নদীর ওপর বয়রাটেকের সেতুটি অনেক আগেই নির্মাণ করার প্রয়োজন ছিল। প্রতিদিন শত শত মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। এ বিষয়ে ভালুকা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান ওই সেতু নির্মাণ কাজের প্রক্রিয়া চলছে।