menu

বিধবা-বয়স্ক কোন ভাতাই জোটেনি দুই এতিম বোনের!

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)
  • ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
image

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) : শৌলমারী ইউনিয়নের দুই অসহায় বৃদ্ধা আহেমা খাতুন ও আসরাফন নেছা -সংবাদ

পাগলী দুই বোনের আকুতি মেম্বার, চেয়ারম্যান ও এলাকার সচেতন মহলসহ কেউ শোনে না। দিনের পর দিন তাদের কাছে ধর্না দিয়েও কোন সাহায্য সহযোগিতা না পেয়ে জীবন নির্বাহ করতে বেচে নেয় ভিক্ষাবৃত্তি।

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের শৌলমারী হাফাতিকান্দা উত্তর গ্রামের বাসিন্দা আহেমা খাতুন (৫৪) ও ছোট বোন আসরাফন নেছা (৫৩)। দুই বোনের ভিটেমাটি তো দুরের কথা থাকার ঘরটুকুও নেই। থাকেন এক ভাইয়ের ছেলে ভাতিজা মাইদুল ইসলাম ওরফে মহিম আলীর জায়গায়। যে কোন সময়ে ভাতিজা তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার আশঙ্কা করছেন দুই বোনকে। এখন পর্যন্ত তারা জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের ঘর, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা, বিধবাভাতা, ফেয়ারকার্ড ও ভিজিএফের নামসহ সরকারি কোন সুবিধা না পাওয়ায় সাংবাদিকদের কাছে দুঃখের সঙ্গে অভিযোগ করেন আহেমা ও আসরাফন।

গত রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত ২৫ বছর আগে আহেমা খাতুনের বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের ডাংগুয়াপাড়া গ্রামের নইমউদ্দিনের সঙ্গে। বিয়ের ২বছর পরেই তার স্বামী মারা যায়। তাদের ঘরে কোন সন্তানাদি না থাকায় স্বামীর বাড়িতে আশ্রয় দেয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে চলে আসেন বাবার বাড়িতে। অপরদিকে বড় বোনের বিয়ের কিছুদিন পরে ছোট বোন আসরাফন নেছার বিয়ে হয় কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায়। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার স্বামী তাকে বাড়ি থেকে তারিয়ে দেয়। একই অবস্থায় সেও বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেই থেকে দুইবোন একসঙ্গে থাকেন। তার বাবা-মা কেউ নেই। ভাইয়েরা স্ত্রী সন্তান নিয়ে অন্যত্রে বসবাস করছেন। ভাতিজা মহিম আলী ৩ শতক জমি ক্রয় করে সেখানে বসবাস করছেন। মানবিক কারণে তার ভাতিজা অসহায় পাগলী দুই ফুফুকে ছোট একটি কুটিরে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। এ ব্যাপারে ২নং শৌলমারী ইউপি সদস্য শাফিউল ইসলাম শাফী বলেন, এ বিষয় আমি কিছু জানি না। ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ হাবিবুর রহমান হাবিল জানান, মহিলা ও পুরুষ মিলে তিনজন ইউপি সদস্য থাকা সত্ত্বেও এত বড় তথ্য রয়েছে এটা দুঃখজনক। পাগলী দুইবোনের বিষয় আমাকে কোন কিছু জানায়নি ইউপি সদস্যরা। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে তদন্ত করে আমার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হবে। রৌমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্ল্যাহ্ বলেন , অসহায় দুই বোনের কথা এই মাত্র আপনাদের কাছে শুনলাম বিষয়টা খুব দুঃখজনক। এর জন্য দায়ী ওই এলাকার ইউপি সদস্যরা। তিনি আরও বলেন এই মুহূর্তে আমার কাছে কোন প্রকার বরাদ্দ নাই । পরবর্তীতে আমার উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হবে।