menu

বালিয়াকান্দির চত্রা ও গড়াইয়ে তীব্র ভাঙন

নির্ঘুমে শত শত পরিবার

সংবাদ :
  • সনজিৎ কুমার দাস, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী)
  • ঢাকা , শনিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৯
image

বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) : চরঘিকমলা গ্রামে এভাবেই ফাঁটল ধরেছে নদীর পাড় -সংবাদ

পানি কমে যাওয়ায় অস্বাভাবিকভাবে ভাঙন দেখা দিয়েছে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার চত্রা ও গড়াই নদীতে। এরই মধ্যে গত এক সপ্তাহে নদীর পার এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে অন্তত ৩০টি বসতবাড়ি। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাকসাডাঙ্গী, চরঘিকমলা ও খাটিয়াগাড়া গ্রামের পাকা সড়ক। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে অন্তত তিনশত পরিবার। শুধু বসতবাড়ি নয় ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে এই এলাকার ব্রিজ ও কালভার্টসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের চরঘিকমলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অন্তত এক কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বড় বড় ফাটল দেখা দিয়ে নদীর মধ্যে দেবে যাচ্ছে। উৎসুক জনতা হতাশ দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে।

এ সময় বাকসাডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, নদী ভাঙনে ফসলি জমি ভিটেমাটি সব হারিয়ে সবশেষ সম্বল দুই শতাংশ জমির উপর তৈরি করেছিলাম কুরে ঘর। তিন ছেলে আর দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতাম। নদীর পানি কমে যাওয়ায় ভাঙন এখন আমার ঘরের কোনে। এতে দিশেহারা হয়ে পাগলের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছি । কোথায় যাব ? কি করব ? ভেবে পাচ্ছি না।

একই এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, এই চত্রা নদীর দুই পাশের গ্রাম বাকসাডাঙ্গী, চরঘিকমলা, খাটিয়াগাড়া, টাকাপোড়া, মরাবিলা, ঘিকমলা। এসব গ্রামের অন্তত তিনশত পরিবার সবাই এখন না ঘুমিয়ে নদী পারে বসে থাকে। তিনি আরও বলেন, ভাঙন যেভাবে দেখা দিয়েছে এভাবে চলতে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই হারিয়ে যেতে পারে চরঘিকমলা ও খাটিয়া গাড়া গ্রাম দুটির সড়ক।

নারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম জানান, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়ার সময় ও পানি কমার সময় ভাঙন দেখা দেয়। গত তিন বছরে কমপক্ষে ২শ’ বিঘা ফসলি জমি ও হাজার হাজার বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বার বার বলার পরও তারা স্থায়ী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুন্নবী জানান, চলতি বছরের বন্যায় চত্রা ও গড়াই নদীতে জরুরি ভিত্তিতে ১৫টি পয়েন্টে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, গড়াই চত্রা নদী প্রতি বছর পানি কমার সময় বেশি ভাঙ্গে। এ বছরও মারাত্মক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ভাঙনের ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ডিপিপি পাস হলেই শুরু হবে কাজ।