menu

বরুড়ায় আমনের বাম্পার ফলন

সংবাদ :
  • সলিল বিশ্বাস, বরুড়া (কুমিল্লা)
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮
image

বরুড়া (কুমিল্লা) : মাঠ জুড়ে আমনের পাকা ধান -সংবাদ

কুমিল্লার শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত বরুড়া উপজেলায় এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আর সর্তকতার সাথে টুংরো ভাইরাসের যথাযথ প্রতিষেধক ব্যবস্থা নেয়ায় আমনের বাম্পার ফলন আশা করছেন কৃষকেরা। ঋতু চক্রের পালাচক্রে এখন হেমন্তকালের প্রায় শেষ সময় অতিক্রান্ত হতে চলছে। এমতাবস্থায় কৃষকের কষ্টার্জিত আমন ফসলের সবুজের মাঠ জুড়ে পাকা-আধাপাকা আমনের সমারোহ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এ উপজেলায় উচ্চ ফলনশীল জাত (উফশী), হাইব্রিড এবং স্থানীয় জাত মিলে ১২৫০৫ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অর্জিত হয়েছে ১২৫১০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মাত্র ৫ হেক্টর বেশি পরিমাণ জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। আবাদকৃত আমনের মধ্যে রয়েছে, উচ্চ ফলনশীল জাত (উফশী) ১০৪৫০ হেক্টর, হাইব্রিড ৫০০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাত ১৫৬০ হেক্টর। উফশী জাতের মধ্যে রয়েছে বি-আর ২২, বি-আর ২৩, ব্রিধান ৪৯, ব্রিধান ৭২, ব্রিধান ৪৬, ব্রিধান ৩২, ব্রিধান ৭৪, ব্রিধান ৬২ প্রভৃতি এবং স্থানীয় জাতের মধ্যে রয়েছে মুড়া বাজাল, গিগজ, কালো জিরা এবং হাইব্রিড জাতের মধ্যে রয়েছে ধানী গোল্ড, তেজ গোল্ড প্রভৃতি। সরজমিনে গিয়ে, উপজেলার আগানগর ইউনিয়ন, ভবানীপুর ইউনিয়ন, খোশবাস (উঃ) ইউনিয়ন, খোশবাস (দঃ) ইউনিয়ন, ঝলম ইউনিয়ন, আড্ডা ইউনিয়ন, শিলমুড়ী (উঃ) ইউনিয়ন, শিলমুড়ী (দঃ) ইউনিয়ন, শাকপুর ইউনিয়ন এবং পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে কৃষকদের আবাদকৃত বিভিন্ন জাতের আমন ধান অনেকাংশে পরিপক্ব হয়ে গেছে। যার ফলে এখন সবুজের মাঠজুড়ে সোনালী ধানের ঝিলিক। আর কৃষকদের মধ্যে কেউ কেউ পরিপক্ব আমন ধান কর্তন এবং মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন আবার কেউ কেউ তাদের আবাদকৃত পরিপক্ব ধান কর্তনের প্রতিক্ষার প্রহর গুণছেন। এছাড়া কেউ কেউ বোরো আবাদের লক্ষ্যে বোরো বীজ ধান সংগ্রহের নিমিত্তে স্থানীয় হাট-বাজারে বীজ বিক্রেতা ডিলারদের দোকানে ভিড় করতে দেখা গেছে।

খোশবাস (দঃ) ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের প্রান্তিক চাষি মো. জসিম উদ্দিন জানান, তিনি প্রায় দুই একর জমিতে প্রায়জাম, প্রায় পৌনে এক একর জমিতে ব্রিধান ৩২ এর আবাদ করেছেন। ভাউকসার ইউনিয়নের ভাউকসার গ্রামের কৃষক আনামত আলী জানান, তিনি ৬০ শতক জমিতে বিআর ২২ জাতের ধানের আবাদ করেছেন।

এসব কৃষকেরা আরও জানান, আমন আবাদের শুরুতে পানির সঙ্কট দেখা দেয়। এ সময় তারা আমন আবাদ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে কয়েক দফা বৃষ্টিপাতের ফলে আমন আবাদে অবিশ্বাস্য আশার আলোর মুখ দেখেন। এটিকে প্রকৃতির প্রদত্ত পরম আর্শীবাদ হিসেবে অবিহিত করেছেন কৃষকেরা। এছাড়া পরবর্তীতে টুংরো জাতীয় ভাইরাস আবাদকৃত আমন ক্ষেতে বিক্ষিপ্তভাবে আক্রান্ত হতে থাকলে মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শে ওষুধ ছিঠিয়ে অনেকাংশে প্রতিকার পান কৃষকেরা। এছাড়া তারা আরও জানান সব মিলে প্রাকৃতিক পরিবেশ অনেকাংশে অনুকূলে থাকায় তাদের আবাদকৃত আমন ফসল বর্তমানে পরিপক্বতা লাভ করেছে এবং চিটার পরিমাণও অন্য যেকোন বছরের তুলনায় কম প্রতিয়মান হচ্ছে। যার ফলে তারা আমনের বাম্পার ফলন প্রাপ্তির আশা করছেন। আশাতীত এ ফলনে তারা বেশ খুশি। এমতাবস্থায় অধিকাংশ কৃষকেরা এখন আমন কর্তনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন আবার কেউ কেউ কর্তনের প্রতীক্ষার প্রহর গুণছেন। অন্য কৃষকেরাও একই অভিমত প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ বছর প্রাকৃতিক পরিবেশ অনেকটা অনুকূলে থাকায় এবং টুংরো ভাইরাসের আক্রান্তের আভাসের সঙ্গে সঙ্গে এ উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের যথাযথ পরামর্শের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক ওষুধ প্রয়োগের ফলে আমনের বাম্পার ফলনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা প্রতীয়মান হচ্ছে।