menu

বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব রক্ষাবাঁধের কাজ শেষ হতে না হতেই ভাঙন!

৩০ ঘর যমুনায় বিলীন, হুমকিতে সেতু

সংবাদ :
  • বিমল বিহারী দাস, টাঙ্গাইল
  • ঢাকা , বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০
image

টাঙ্গাইল : বঙ্গবন্ধুর সেতুর দ্বিতীয় গাইডবাঁধ ভেঙে এভাবেই বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-সংবাদ

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রক্ষা দ্বিতীয় গাইডবাঁধ ডেবে ৩০টি ঘরবাড়ি যমুনা নদী গর্ভে চলে গেছে। কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের বেলটিয়া উত্তরপাড়ার বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব রক্ষাবাঁধ এলাকায় এই ভাঙন শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু সুরক্ষায় সেতুর পূর্বপাড়ের দক্ষিণ পাশের ভেঙ্গে যাওয়া দ্বিতীয় রক্ষা গাইডবাঁধটি স্থায়ীভাবে নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ৩৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৫০ মিটার কাজ শেষ হতে না হতেই আবার ভাঙন শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা গেছে, সেতু কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব গোরিলাবাড়ি হতে বেলটিয়া পর্যন্ত ৫০০ মিটার এলাকায় সেতু রক্ষা গাইডবাঁধের কাজ শেষ করা হয়েছে। সম্প্রতি এই গাইড বাঁধের কাজ শেষ করেছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাঁধের শেষ হওয়ার পরই ভাঙন শুরু হয়। বাঁধ ডেবে ব্লকগুলো নদী গর্ভে চলে গেছে। সেই সঙ্গে ৩০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। বেলটিয়া উত্তরপাড়ার নুরুল ইসলাম, সামাদ, সাইবালী, হযরত মওলানা বলেন, রাতের মধ্যেই বাড়িগুলো নিমিষেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র সরানোর সময় পায়নি। জানা যায়, বিগত ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের গেরিলাবাড়ি এলাকায় সেতুর দক্ষিণের কয়েকটি গ্রাম ও সেতুর প্রথম রক্ষাবাধ রক্ষার্থে গাইড বাঁধে যমুনা নদীতে সিসি ব্লক ও কার্পেটিং করে দ্বিতীয় গাইড বাঁধ নির্মাণ করেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিসের সহকারী প্রকৌশলী এহসানুল কবীর পাভেল বলেন, সম্প্রতি ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু রক্ষা গাইডবাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়।

বাকি অংশটুকু পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই ভাঙনে বাঁধের ৩৫ মিটার অংশ ডেবে গেছে। টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডেবে যাওয়া অংশে প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হবে ভাঙনরোধ করার জন্য। এরপর আগামী মৌসুমে স্থায়ী বাঁধের কাজ শুরু করা হবে অনুমোদন পাওয়া গেলে। কালিহাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা নিপা বলেন, ভাঙনে ২৯টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রশাসন থেকে প্রত্যেক পরিবারকে নগদ দুই হাজার টাকা ও ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী বলেন, ভাঙনের বিষয়টি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন দুই একদিনের মধ্যে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করবেন। এরপরই যতদ্রুত সম্ভব ভাঙনরোধে কাজ করা হবে।