menu

প্রভাবশালীদের ইন্ধনে রেলটিকিট কালোবাজারে

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, কিশোরগঞ্জ
  • ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন রেলস্টেশনে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ইন্ধনে চলছে টিকেট কালোবাজারি। প্রশাসন থেকে জনপ্রতিনিধি, সবাই প্রাকাশ্যেই এ কথা স্বীকার করছেন। মাঝে মাঝে কোন কোন স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কিছু কালোবাজারিকে কারাদন্ড দিলেও এদের পক্ষে শক্তিশালী তদবিরও আসে। আবার কোন কোন স্টেশনে শক্তিধর রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতেও স্থানীয় প্রশাসন বিব্রত বোধ করে বলে জানা গেছে। গত রোববার জেলা কালেক্টরেট সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় কমিটির একজন সদস্য জানিয়েছেন, ভৈরবে প্রকাশ্যে টিকেট কলোবাজারি হয়। এই স্টেশনে জেলার সর্বাধিক টিকেট বিক্রি হয়। কারণ ভৈরব একটি জংশন স্টেশন। এখান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং ময়মনসিংহ রুটের প্রচুর টিকেট বিক্রি হয়। এর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সেল্টার রয়েছে। যে কারণে এই বেপরোয়া কালোবাজারি বন্ধ হচ্ছে না। এ সময় সভায় উপস্থিত ভৈরব পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট ফখরুল আলমও বলেছেন, ভৈরব স্টেশনে সবসময়ই টিকেট কালোবাজারি হচ্ছে। এদের ধরতে গেলে রথিমহারথিরা এগিয়ে আসেন। ফলে ধরা যায় না। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, কিশোরগঞ্জ স্টেশনেও মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কারোবাজারিদের ধরা হয়। তখন বড় বড় জায়গা থেকে তদবির আসে। এটা খুবই দুঃখজনক। তিনি ওই সভায় উপস্থিত ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীনকে ভৈরব স্টেশনে অভিযান চালিয়ে কালোবাজারিদের ধরার নির্দেশ দিয়েছেন। কয়েকজন ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, জেলার বাজিতপুর, মানিকখালী, গচিহাটাসহ অন্যান্য স্টেশনেও টিকেট কালোবাজারি চক্র গড়ে উঠেছে।

স্টেশন কর্মীদের নিয়ে এক ধরনের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। একাধিক আন্তঃনগর ট্রেন চালু হওয়ায় এবং ভৈরব থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ডাবল লাইন হওয়ায় এখন ক্রসিংয়ের বিড়ম্বনা অনেক কমেছে। ফলে সড়ক পথের তুলনায় অনেক কম সময়ে এবং নিরাপদে মানুষ কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় যেতে পারে। যে কারণে মানুষের মধ্যে রেল ভ্রমণের প্রবণতা অনেক বেড়েছে। আর সেই সুযোগটিই নিচ্ছে কালোবাজারি সিন্ডিকেট। যাত্রীদের দ্বিগুণ দামে টিকেট কিনতে হচ্ছে।