menu

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ৪৪১ ঘর পেল গৃহহীনরা

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)
  • ঢাকা , শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮
image

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) : প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত নতুন ঘরের সামনে অঞ্জনা রানী শীল-সংবাদ

আর্থ সামাজিক উন্নয়ন এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে মর্যাদার সঙ্গে বেচে থাকার লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধিন’ ‘যার জমি আছে ঘর নাই’ তার নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ শীর্ষক উপ প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সেই বাস্তবায়নের আওতায় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে ৪৪১টি গৃহহীণকে ঘর বানিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ঘর পেয়ে সহায় সম্বলহীন গ্রামের এ পরিবারগুলোর চোখে মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। এ উপজেলায় প্রতিটি ঘরে টয়লেটসহ ঘরপ্রতি ১ লাখ টাকা করে ব্যয় ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে দ্রুত গতিতে চলছে ঘর নির্মাণের কাজ। এ মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান।

মানুষের প্রধানতম ৫টি মৌলিক চাহিদার অন্যতম হচ্ছে বাসস্থান। আর এ মৌলিক চাহিদা পূরণে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্র বাধ্য কিন্তু স্বধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশে উন্নয়ন বান্ধব সরকারের অভাবে মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে হোচট থেকে হয়। উন্নয়নশীল অগ্রযাত্রায় যুগোপযোগী পরিকল্পনায় বর্তমান সরকার যথেষ্ট এগিয়ে।

সূত্র জানায়, রুপকল্প-২০২১-এবং ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে সমূহ (এসডিজি) অর্জনের জন্য এই প্রকল্প দরিদ্র্য নিরাসনে আরও জোরদার ভূমিকা পালন করবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের সাফল্য ও ধারাবাহিকতায় ২০১০-২০১৯ (সংশোধিত) মেয়াদে ২.৫০ লক্ষ গৃহহীন, ছিন্নমূল পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীন যার জমি আছে ঘর নাই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ শীর্ষক উপ প্রকল্পের আওতায় মোরেলগঞ্জ উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ২শ’টি ২য় পর্যায়ে ১২৪টি ও ৩য় পর্যায়ে ১১৭টি সর্বমোট ৪৪১টি আধা পাকা ঘর বরাদ্দ এসেছে। প্রতিটি ঘর টয়লেটসহ নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করেন ৫ সদস্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৬টি ইউনিয়নের সরকার প্রদত্ত বরাদ্দের গৃহহীনদের ঘর নির্মাণের কাজ দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে। এতে প্রধানমন্ত্রী ভূয়সী প্রশংসা করেছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ।

এদিকে প্রতিদিন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন সহ অন্য সদস্যগন ছুটছেন প্রতিটি গ্রামে। যেখানেই সামান্য ত্রুটি বা অভিযোগ আসলেই সেখানেই উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

ঘরপ্রাপ্ত সুবিধাভোগী বণগ্রাম ইউনিয়নের বহরবৌলা গ্রামের দিন মজুর রঞ্জন ঢালীর স্ত্রী সবিতা ঢালী (৩৮) মধুসুধন ঢালী (৫৫) স্বমী পরিত্যক্ত রিনা হালদার(৪৫) ও বিধবা অঞ্জলী রানী শীল(৬০)। নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের লাইলি বেগম(৪০), হোগলপাতি গ্রামের সুর্যবান বেগম ও পিসি বারইখালী গ্রামের মনির খান(৫০) সকলেই ঘর পেয়ে খুশি হয়েছেন। গৃহহীন পরিবারে চলছে নিরব আনন্দ। শত কষ্টের মধ্যেও ঘর পেয়ে তারা আনন্দিত। ঘরপ্রাপ্ত মধুসুধন ঢালী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মায়ের মতো কাজ করেছেন। নিজের মতো করে পরিবার নিয়ে ঘরে থাকব এর চেয়ে খুশি আর কি হতে পারে।

যাদের মাথা গোজার মতো সামান্য ঠাই ছিল না তারা পেয়েছেন ঘর। জীবনের নিরাপত্তায়, পরিবারের নিরাপত্তায় যারা ছিল সংশয় তারা এখন ঘরের মালিক। এখন গৃহপ্রাপ্তির নতুন পরিচয়ে বাঁচবে এবং সপ্ন দেখবেন তারা। এ প্রসঙ্গে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক এই কাজ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়। সে জন্য আমরা রাত দিন আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রতিদিনই কাজের স্পটে ছুটে যাচ্ছি। নিয়ম অনুযায়ী নির্দেশনা মোতাবেকই কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এ মাসের মধ্যেই ঘরের কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।