menu

প্রচারে সরব আ’লীগ পিছিয়ে বিএনপি

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮
image

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। এ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় অনেকটায় এগিয়ে আছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন, ওঠান-বৈঠক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিয়মসহ নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে এখনও পর্যন্ত দলের চূড়ান্ত প্রার্থী ঠিক না হওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

মাহবুব উল আলম হানিফ ২০১৪ সালে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এখানে অভাবনীয় উন্নয়ন কাজ হয়েছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু, কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়ক, শ্রী শ্রী গোপিনাথ জিউর মন্দির, অত্যাধুনিক সুইমিংপুলের মতো বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে মাহবুব উল আলম হানিফ সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর। এছাড়া অত্যাধুনিক শিল্পকলা একাডেমি ভবন, ইকোপার্কসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। বলা হয়ে থাকে স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়াতে কোন সাংসদ এত উন্নয়ন করতে পারেননি। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানান, এই উন্নয়নকে তারা ভোট প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। মানুষ উন্নয়ন চাই, শান্তি চাই। দুটোই বিরাজ করছে জেলায়। গত ৫ বছরে জেলায় কোন চাঁদাবাজি হয়নি, মাস্তানি হয়নি। দলের যেসব কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মাসুম বলেন, সদরে আশাতীত উন্নয়ন হয়েছে। আমাদের নেতা যে ওয়াদা করেছিলেন তা জনগণ পেয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের উন্নয়নের সুফলও সাধারণ মানুষ ভোগ করছে। প্রচারে সব বিষয় আনা হচ্ছে। এদিকে নির্বাচন সামনে একাধিক টিম গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ছাড়াও যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলালীগ প্রচারে মাঠে নেমেছে। এর বাইরে সামাজিক সংগঠনের কর্মীরাও মাঠে নেমেছেন হানিফের পক্ষে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনও প্রচারে নেমেছেন।

তবে এ আসনে বিএনপি নেতাকর্মীরা এখনও সেইভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারেননি। এ আসনে দুইজনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। কে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাবেন সেদিকে চোখ রাখছেন নেতা-কর্মীরা। দলের মনোনয়ন পাওয়া সাবেক এমপি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকারকে ঘিরে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে দলের নেতাকর্মীরা।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন একা বিচ্ছিন্নভাবে গণসংযোগ করলেও তার সঙ্গে শীর্ষ নেতা-কর্মীদের দেখা যাচ্ছে না। দলীয়ভাবে এখনও প্রচারে নামতে পারেনি নেতারা।

অপর প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারও অনেকটা নির্বিকার। তিনিও প্রচারে নামতে পারেননি। চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া প্রতীক পাওয়ার পরই দলটির নেতারা প্রচারে নামবেন বলে জানা গেছে। দলের একটি সূত্র জানায়, চূড়ান্ত মনোনয়ন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির এই দুই নেতার কেউ-ই সেভাবে মাঠে নামতে চাইছেন না। মনোনয়ন নিশ্চিত না হয়ে তারা প্রচার কাজে টাকা পয়সা খরচ করতে নারাজ।