menu

নিম্নমানের উপকরণে রাস্তা নির্মাণে বেপরোয়া ঠিকাদার

সংবাদ :
  • নজরুল ইসলাম, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ)
  • ঢাকা , শুক্রবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৮

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে একটি রাস্তার কাজে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির পাশাপাশি নির্মাণ কাজে অনিয়মের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এফডিআর প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বালাশুর আর অ্যান্ড এইচ ভাগ্যকুল জিসি মাওয়া সড়ক পুনর্বাসন কাজ বাস্তবায়নের লক্ষে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যে কাজ পায় মিজান এন্ড ব্রাডার্স নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কয়েক মাস আগে রাস্তার কাজে খোরাখুরি শুরু করে কাজ ফেলে রাখেন। বেশ কিছুদিন পরে পুনরায় কাজ শুরু করলেও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় স্থানীয় লোকজন সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে জানা যায়, মিজান এন্ড ব্রাদার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. মিজান নামে জনৈক ব্যক্তি রাস্তার কাজ করছেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যে নিয়ম কানুন মেনে ঠিকাদারের কাজ করার কথা তার কিছুই মানা হচ্ছে না বলে জানান এলাকাবাসী। বর্তমানে রাস্তার পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ চলছে ধির গতিতে। সেখানেও নিম্নœমানের ইট বালু ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুল লতিফ বলেন, রাস্তায় কাজের শুরু থেকেই অনিয়ম করে আসছে ঠিকাদার। আমি একাধিক বার অনিয়মের বিষয়ে তাকে বলেছি। তিনি কোন কিছুর তোয়াক্কা করেন না। পরে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আব্দুল বারেক সিকদার ও কৃষ্ণ হাজারীসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ বলেন, এখানে কাজের অগ্রগতি একদম কম। এ কাজের জন্য আরো শ্রমিক প্রয়োজন। যানবাহন ও সাধারণ জনগণের চলাচলের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি খোরাখুরি করে ফেলে রাখায় চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ রাস্তা দিয়ে ভাগ্যকুল বাজার, হরেন্দ্রলাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, র‌্যাব-১১ অফিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের চলাচলে বিঘœ ঘটছে। এছাড়াও রয়েছে রাস্তার কাজে নানা অনিয়ম। এলাকাবাসী জানান ঠিকাদার মিজান উপজেলা বিএনপি নেতার ভাই হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে কাজ করেন। তিনি কারও কথায় কর্নপাত করেন না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মিজানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনগণ তো কত কথাই বলে! ভালর কি কোন শেষ আছে ?

সড়কটির তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লা আল-মামুন বলেন, ওই রাস্তায় মিজানের কাজে অনিয়মের বিষয়টি জেলা এক্সচেঞ্জ অফিসে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

শ্রীনগর উপজেলা প্রকৌশলী আঃ মান্নান জানান, নিম্নœমানের সামগ্রী দিয়ে কাজের অভিযোগ পেয়ে আমরা তাকে নিষেদ করেছি। তারপরও কর্ণপাত না করায় বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, এই রাস্তার ব্যাপারে ইতোপূর্বে অভিযোগ পেয়ে আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে সরজমিনে গিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলাম। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি কিংবা নিম্নœমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করা কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এরপরেও ঠিকাদার কথা না শুনলে তার লাইন্সেস বাতিলের জন্য আবেদন জানাব।