menu

সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন

নারী নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপ

সংবাদ :
  • সংবাদ জাতীয় ডেস্ক
  • ঢাকা , রবিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৯

জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। লবিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন নারী নেত্রীরা। আমাদের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের তথ্যে বিস্তারিত :

রাজশাহী

রাজশাহী থেকে তিনজন মনোনয়ন চাইবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এরা হলেন, সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেসা তালুকদার, বর্তমান এমপি আক্তার জাহান এবং নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার রেণী। জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মর্জিনা পারভীন ও নিঘাত পারভীন। তারা সবাই এবার সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়ন চাইবেন

এদের মধ্যে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে সংরক্ষিত আসনের এমপি হন জিনাতুন নেসা তালুকদার। পরে তিনি প্রতিমন্ত্রী হন। এরপর ২০০৮ সালে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দ্বিতীয়বারের মতো এমপি হন তিনি। আর ২০১৪ সালে তৃতীয় দফায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে রাজশাহী সংরক্ষিত আসনে প্রথম এমপি হন জেলার সহ-সভাপতি আক্তার জাহান। এবার নতুন মুখ হিসেবে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন চাইবেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার রেণী রাজশাহীর বিশিষ্ট সমাজসেবক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সহধর্মিণী। রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগে নারীদের সংগঠিত করায় বড় অবদান রয়েছে তার। এছাড়াও সিটি ও সংসদ নির্বাচনে নারীদের নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শাহীন আক্তার রেণী। তাকে সংরক্ষিত আসনের এমপি করার জন্য ইতোমধ্যেই জোরালো দাবি উঠেছে রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগ থেকে।

আর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মর্জিনা পারভীন গত দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনী রাজশাহী-৩ আসন থেকে মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হন। তবে রাজশাহীতে এবার তার নাম বেশি শোনা যাচ্ছে। সংবাদের এই প্রতিনিধিকে তিনি জানান, ৩২ বছর আগে ছাত্রলীগ এর রাজনীতি থেকে তার রাজনীতিতে প্রবেশ এরপর বিভিন্ন আন্দোলন, সংগ্রামে তিনি মাঠে থেকেছেন, তিনি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি লেখালেখির সঙ্গেও জড়িত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস থেকে পাস করার পর এলএলবি করেন। অপরজন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নিঘাত পারভীন বিশিষ্ট সমাজসেবক। প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম হারানের সহধর্মিণী তিনি। রাজশাহী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার স্বামীর রয়েছে বড় অবদান।

পটিয়া(চট্টগ্রাম)

http://print.thesangbad.net/images/2019/January/12Jan19/news/Untitled-11.jpgএকাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হিসেবে আলোচনায় উঠে আসছে তিন জনপ্রিয় নারী নেত্রীর নাম। তারা হলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য চেমন আরা তৈয়ব, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা মান্নান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী ও জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর সরকারের শিল্প ও প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক নুরুল ইসলাম চৌধুরীর মেয়ে নাসরিন ইসলাম চৌধুরীর নামটি পটিয়াসহ চট্টগ্রামের রাজনীতির মাঠে খুব আলোচিত হচ্ছে। তিন নারী নেত্রীর কারও শ্বশুর বাড়ি কারও বাপের বাড়ি পটিয়ায় হওয়ায় পুরো চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতিতে এই তিন নারী নেত্রীর যথেষ্ট পরিচিত ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। সংরক্ষিত মহিলা এমপি হিসেবে যাবতীয় গুণাবলীসম্পন্নও।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ও উত্তর জেলা, মহানগরের নারীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে অসাধারণ তাদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত অবদান রয়েছে। জানা গেছে, হাসিনা মান্নান গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তার স্বামী মরহুম আবদুল মান্নান চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর সংসদ সদস্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন, হাসিনা মান্নান একজন মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া হাসিনা মান্নান চট্টগ্রাম জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। হাসিনা মান্নানের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার নারী কাজ করে যাচ্ছেন, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য হিসেবেও হাসিনা মান্নানের নামটি আলোচনায় রয়েছে।

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)

http://print.thesangbad.net/images/2019/January/12Jan19/news/Untitled-12.jpgমির্জাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত সঙ্গীত শিল্পী সালমা সালাম উর্মি সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি প্রার্থী হয়ে লবিং শুরু করেছেন। তার স্বামীর নাম আব্দুছ ছালাম মিয়া। বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের পাঁচ চামারী গ্রামে। স্বামী আব্দুছ ছালাম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।

সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় উপজেলার সর্বত্র সরব ছিলেন তিনি। জাতীয় নির্বাচনে মির্জাপুর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমাও দিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও তিনি এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মো. একাব্বর হোসেনের পক্ষে নৌকায় ভোট চেয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পাালন করছেন।

সালমা সালাম উর্মি ২০০১ সালে টাঙ্গাইল প্রি-ক্যাডেট স্কুল হতে স্বর্ণপদক, ২০১৩ সালে সমাজ সেবায় মাদার তেরেসা স্বর্ণপদক, একই সালে ইউনাইটেড মুভমেন্ট হিউম্যান রাইটস এর পক্ষ হতে ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে বিজয় স্মারক সম্মাননা, চেতনায় ৭১ বাঙালি ও বাংলাদেশ সম্মাননা ও নেলসন ম্যানডেলা স্বর্ণপদক, ২০১৪ সালে সফল ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্বর্ণপদক, একই বছর ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে সুচিত্রা সেন স্বর্ণপদক পান। সালমা সালাম উর্মি বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত একজন সঙ্গীত শিল্পী।

সালমা সালাম উর্মি বলেন, অনেকদিন ধরেই আমি আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে বড় হয়েছি। নেত্রী শেখ হাসিনার সান্নিধ্য আমার রাজনৈতিক ও দেশপ্রেমের চেতনাকে উজ্জ্বল করেছে। সেই আদর্শ ও অভিজ্ঞতাকে মানুষের কাজে ব্যবহার করতে চাই।

মধুপুর (টাঙ্গাইল)

http://print.thesangbad.net/images/2019/January/12Jan19/news/Untitled-13.jpgপিউ ফিলোমিনা ম্রং কে সংরক্ষিত আসনের মনোনয়নের দাবি জানিয়েছেন মধুপুর গড়াঞ্চলের সমতল এলাকার বসবাসকারি নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী গারো ও কোচ সম্প্রদায়ের লোকেরা। নৃ-গোষ্ঠীদের দাবি গারো সম্প্রদায়ের লোকেরা অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। তাদের কথা বলার মতো নিজস্ব কোন নারী প্রতিনিধি জাতীয় সংসদে না থাকায় তারা বরাবরই অবহেলিত। তাদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও মধুপুর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিসেস পিউ ফিলোমিনা ম্রং কে এবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের দাবি জানিয়েছেন মধুপুর অঞ্চলের গারো ও কোচ সম্প্রদায়। পিউ ফিলোমিনা ম্রং ১৯৯৬ সাল থেকে মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে এবং মধুপুর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি এর আগে আরও পর পর ৩ বার সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন ফরম তোলেছিলেন। তিনি বার বার মনোনয়ন ফরম তোলে যাচ্ছেন। তিনি এমএসসি পাস করে বর্তমানে মধুপুর জলছত্র কর্পোস খ্রীস্টি উচ্চ বিদ্যালয়ে সিনিয়র বিএসসি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করছেন।

মাদারীপুর

মাদারীপুরে সংরক্ষিত আসনের জন্য মহিলা এমপি হওয়ার জন্য ৩ নেত্রী জোর লবিং ও তদবির চালাচ্ছেন। জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ও শ্রমিকলীগের সভাপতি হাজী সুলতান হাওলাদারের মেয়ে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক ড. সেলিনা আখতার, মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফের মেয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা হুমায়রা লতিফ পান্না, কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকি সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হওয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমপি প্রার্থী ড. সেলিনা আখতার বলেন, আমি সাধারণ অসহায় গরিব দুঃখী মানুষের বন্ধু, তাদের কষ্ট আমি বুঝি। কারণ তাদের সঙ্গে আমি সর্বদাই চলাফেরা করি। আর এই মানুষগুলোই আমাকে সাহস যুগিয়েছে। তারা সকলেই আমাকে এই সংরক্ষিত আসনে এমপি হিসেবে দেখতে চায়।

হুমায়রা লতিফ পান্না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের প্রতি আমার ও আমাদের পরিবারের অবদানকে বিবেচনায় নিয়ে আমাকে সংরক্ষিত আসনে এমপি হিসেবে মনোনয়ন দিবেন বলে আমি আশা করছি।

অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নমিনেশন চাইবো। দিলে এমপি হবো আর না দিলে হবো না। মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, দলীয়ভাবে এখনও পর্যন্ত কাউকে বিবেচনা করা হয়নি। যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা ব্যক্তিগতভাবে কেন্দ্রে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কে এমপি হবেন সেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ভাল জানেন।