menu

দেশের সর্ববৃহৎ বীজবর্ধন খামার ভাঙন হুমকিতে

সংবাদ :
  • আহাম্মদ ইব্রাহিম অরবিল, দশমিনা (পটুয়াখালী)
  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ মে ২০১৮
image

দশমিনা (পটুয়াখালী) : দশমিনার চরবাঁশবাড়িয়ার দেশের সর্ববৃহৎ বীজ বর্ধন খামারটি তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে এভাবেই বিলীন হচ্ছে -সংবাদ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চর বাঁশবাড়িয়ায় গড়ে উঠা দেশের সর্ববৃহৎ বীজ বর্ধন খামার এবং উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা বুড়াগৌরাঙ্গ ও তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে চলতি বর্ষা মৌসুমে খামারের অধিকাংশ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। জানা যায়, ২০১৩ সালে দশমিনা উপজেলা চর বাঁশবাড়িয়া, চর হায়দর এবং চর ভুথামের ১ হাজার ৪৪ দশমিক ৩৬ একর জমি অধিগ্রহন করে দেশের সর্ববৃহৎ বীজ বর্ধন খামারের কার্যক্রম শুরু হয়। এই বীজ বর্ধন খামারের জন্য প্রায় ৫ হাজার একর জমি অধিগ্রহনের প্রস্তাবনা রয়েছে। খামারটি ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উক্ত বীজ বর্ধন খামারটি উদ্বোধন করেন। বর্তমানে বীজ বর্ধন খামারের অধীনে ৬ শত একর জমি রয়েছে। বাকী ৪৪৪ দশমিক ৩৬ একর জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে বীজ বর্ধন খামারে ৪২০ একর জমিতে বিভিন্ন উন্নত জাতের ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে বীজ বর্ধন খামার উত্তর পশ্চিম দিকে তেতুলিয়া নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে। ইতিমধ্যে তেতুলিয়ার ভাঙনের কারনে বীজ বর্ধন খামারে প্রধানমন্ত্রীর জন্য তৈরি ডাক বাংলো, প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অর্ধ শতাধিক বাসা বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বীজ বর্ধন খামারের বিভিন্ন অংশে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় মসজিদ, গোডাউন, বীজ বর্ধন খামারের অফিস ভবন ও নব নির্মিত বায়ো গ্যাস প্লান্ট। বীজ বর্ধন খামার অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৭ নভেম্বর জিওবির অর্থায়নে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বায়ো গ্যাস প্লান্টটি খামার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বীজ বর্ধন খামারের উপ পরিচালক জানান, নদী ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে জানানো হয়েছে।

এদিকে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা বিলীন হচ্ছে। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া, দশমিনা, রনগোপালদী এবং আলীপুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর এই ভাঙন নতুন করে দেখা দিয়েছে। এদিকে আলীপুরা ইউনিয়নের আলীপুরা নদীতে ভাঙনের মাত্রা তীব্র আকার ধারন করেছে। ভাঙনের কারনে ৫টি দোকানঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে। নদীর ভাঙনে স্লুইজগেট বাজার এখন হুমকির মুখে রয়েছে। উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের আলীপুরা নদীতে হঠাৎ করেই নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট এলাকার আশেপাশের আবাদি-অনাবাদি ও বসতঘর নদীর ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে। বাঁশের অস্থায়ী পাইলিং দিয়েও নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। নদীর অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার নদী তীর রক্ষা বাঁধের ৬ কিলোমিটারের মধ্যে ২ কিলোমিটার নদীর মধ্যে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট রক্ষা বাঁধ এখন হুমকির মুখে রয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে নদীর পানি বৃদ্ধি এবং প্রবল চাপের কারনে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ঘূর্নিঝড় রোয়ানু’র আঘাতের পর থেকেই অত্র ইউনিয়নের পূর্ব আলীপুর, পশ্চিম আলীপুর, চানপুরা, খলিশাখালী বিভিন্ন এলাকায় নদীর ভাঙনের মাত্রা তীব্র আকার ধারন করেছে। ভাঙন কবলিত এলাকার শত শত পরিবারের আবাদি-অনাবাদি জমি, বসতভিটা নদী গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। উপজেলার একমাত্র ২টি লঞ্চঘাট বাঁশবাড়িয়া এবং হাজীরহাট নদী গর্ভে বিলনি হয়ে গেছে। নদীর ভাঙন ঠেকাতে কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। অত্র উপজেলায় নদীর ভাঙন ঠেকাতে কোন পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়নি। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও নদীর তীর ও সংলগ্ন এলাকা রক্ষার জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে না।