menu

দিরাইয়ে শয়তানখালী নদীর পঞ্চম খণ্ডের দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ

সংবাদ :
  • লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
  • ঢাকা , বুধবার, ০৯ অক্টোবর ২০১৯

নিময় নীতির তোয়াক্কা না করে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার শয়তানখালী নদীর পঞ্চম খন্ড খাস কালেকশন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। গত সোমবার জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেছেন দরপত্রে অংশগ্রহণকারী মো. রাজধন আলী।

অভিযোগের বিবরণে জানাযায়, জেলার দিরাই উপজেলার শয়তানখালী নদীর পঞ্চম খণ্ড ১৪২৬ বাংলা সনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য খাস কালেকশনে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ (পিপিআর-০৮ বিধি মালা অনুয়ায়ী খাস আদায় দরপত্র বাক্স দরপত্র দাখিলের শেষ সময়ের একঘণ্টা পর দরপত্র বাক্স খোলার বিধান থাকলেও উপজেলার সহকারি কমিশনার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দরপত্র দাখিলের পর দিন দরপত্র বাক্স খোলার কারণে দুর্নীতি করা হয়েছে।

শয়তানখালী নদীর পঞ্চম খণ্ড ১৪২৬ বাংলা সনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য খাস কালেকশনো ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা গত ১৯ সেপ্টেম্বর ৬২৫ নম্বর স্মারককে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর চিঠি প্রেরণ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে দিরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখে ৮২০/১(৫০) নং স্মারকে শয়তানখালী নদীর পঞ্চম খণ্ড জলমহাল ১৪২৬ বাংরা সনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য খাস আদায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ বিজ্ঞপ্তিতে আগ্রহী প্রার্থীদের উপজেলা ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ পূর্বক ২ অক্টোবর দুপুর ১টার মধ্যে উপজেলা ভূমি অফিসে রক্ষিত টেন্ডার বাক্সে আবেদন ফরম দাখিল ও পরদিন ৩ অক্টোবর বিকেল ৩টার সময় দরপত্র কমিটি ও সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের সম্মুখে দরপত্র বাক্স খোলা হবে। অফিস সূত্রে জানাযায়, শয়তানখালী নদীর পঞ্চম খণ্ড জলমহাল খাসকালেকশনে অভিযোগকারীসহ ৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র বাক্সর শীলগালা করে এর চাবি উপজেলা সহকারী কমিশনারের নিকট রাখার বিধান থাকলেও ভূমি অফিসের অফিস সহকারি দরপত্র বাক্সটির মুখে শীলগালা না করে সাদা কাগজ লাগিয়ে তালা ঝুলিয়ে রাখেন। পরে দরপত্র খোলা দিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নির্দেশে তার অফিস সহকারী নিজ হেফাজতে থাকা চাবি দিয়ে দরপ্রাপ্ত বাক্স খোলে আবেদন পত্রগুলো উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট দেন। পরে বাচাইয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা রাধা বিশ্বাস হন।

আর দ্বিতীয় দরদাতা হন মো. রাজধন আলী। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সর্বোচ্চ দরদাতাকে দেখানো হয়েছে তিনি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় দরদাতা ১৭ লাখ টাকা দরদেরন। দ্বিতীয় দরদাতা নিয়ম অনুযায়ী ২০ শতাংশ দরে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার ব্যাংক ড্রাফট দেন। এবং খোলার সময়ে প্রদর্শন করে ফেরৎ দেওয়া হয়। কিন্তু সর্বোচ্চ দরদাতার কোন ব্যাংক ড্রাফট দরপত্র বাক্স খোলার সময় প্রদর্শন করা হয়নি। উপজেলা সহকারি কমিশনারকে দরপত্র বাক্সের চাবি তার নিজ হেফাজতে রাখা অনুরোধ করা হলেও তিনি তা না করে চাবি অফিস সহকারি কাছে দেওয়ায় রাজধনের আবেদন পত্র দেখে রাধা বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ দরদাতা দেখানো হয়েছে। এ ব্যাপারে দিরাই উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) বিশ্বজিৎ দে জানান, উপজেলার শয়তানখালি নদীর পঞ্চম খণ্ড জলমহাল নিময়-নীতি মেনে খাস কালেকশন দরপত্র সর্বোচ্চ দরদাতাকে দেয়া হয়েছে।