menu

তিন জেলায় তিলের বাম্পার ফলন

সংবাদ :
  • রবীন্দ্রনাথ অধিকারী, গোপালগঞ্জ
  • ঢাকা , বুধবার, ১২ জুন ২০১৯
image

গোপালগঞ্জ : ভালো ফলন হওয়া বারি জাতের তিল ক্ষেত -সংবাদ

তিন জেলায় ঔষধি গুণসম্পন্ন উচ্চ ফলনশীল বিনা তিলের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও শরীয়তপুর জেলার ৫০ একর জমিতে বিনা তিল-২ এর ১০০টি প্রদর্শনী প্লট করেন ১০০ জন কৃষক। এ তিলের আবাদ করে কৃষক হেক্টরে ১.৭ টন ফলন পেয়েছেন বলে জানান বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)’র গোপালগঞ্জ উপকেন্দ্র।

এ বছর আবহাওয়া ছিল তিল চাষের অনুকূলে। ক্ষেতে পোকা মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে তিলের। বপনের ৯০ দিনের মাথায় কৃষক ক্ষেত থেকে তিল কেটে ঘরে তুলেছেন। তিল চাষ করে কৃষক পাটের তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ টাকা আয় করেছেন। ঔষধি গুণসম্পন্ন এ তিলের তেল হৃদরোগ, চর্ম রোগ প্রতিরোধী ও চুলের যতেœ অতুলনীয়। এ জাতের তিলের চাষ বৃদ্ধি করে ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব। এছাড়া তিলের ফলন দেখে লাভজনক এ তিল চাষে তিন জেলার কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র জানিয়েছে, বিনা উপকেন্দ্র থেকে কৃষককে বিনামূল্যে বীজ, সার, ছাত্রাক নাশক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিনা উপ কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ও বৈজ্ঞানিক সহকারীরা জেলার কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। বিনা উপ কেন্দ্রের পরামর্শে বিনা তিলের আবাদ করে কৃষক হেক্টরে এ তিলের ১.৭ টন ফলন পেয়েছেন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শুকতাইল গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ বাবু শেখ বলেন, এ বছর বিনা উপকেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে বীজ, সার, ছত্রাক নাশক পেয়ে প্রথম বিনা তিল-২ চাষ করি। এ জন্য বিনা উপকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা মাঠে এসে পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি এ বছর আবহাওয়া তিল চাষের উপযোগি ছিল। পোকার আক্রমন হয়নি। এ কারণে তিলের বাম্পার ফলন পেয়েছি। আমার ক্ষেতের তিল দেখে আশপাশের কৃষক আগামী বছর তিল চাষ করতে চাচ্ছে। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকেরডাঙ্গা গ্রামর কৃষক আরাফাত সরদার বলেন, এ তিল ৯০ দিনে ক্ষেত থেকে কেটেছি। এখন অন্য ফসল চাষ করতে পারছি। পাশাপাশি তিল চাষ করে পাটের তুলনায় দুই গুণ বেশি লাভ করেছি। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের উন্নয়ণে উচ্চ ফলনশীল ফসলের জাত সম্প্রসারণে বিনা কাজ করে যাবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।

গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্রের এসও মো. শেফাউর রহমান বলেন, স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন বিনা তিল-২ চাষ করে কৃষক একই জমিতে বছরে ৩টি ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। এতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। কৃষকের আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণের এডিডি মো. আ. কাদের সরদার বলেন, ঔষধি গুণ সম্পান্ন এ তিলের তেল হৃদরোগ, চর্ম রোগ প্রতিরোধী ও চুলের যতেœ অতুলনীয়। এ জাতের তিলে ৫০ ভাগ তেল পাওয়া যায়। লাভজনক এ তিলের চাষ বৃদ্ধি করে ভোজ্য তেলর আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব।