menu

তালায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

সংবাদ :
  • জুলফিকার রায়হান, তালা (সাতক্ষীরা)
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯
image

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ছোবলে উপজেলার সর্বত্র মাছের ঘের, গাছ, ঘরবাড়ি, আমন ক্ষেত ও শীতকালীন ফসলসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উপজেলার খলিশখালী এবং খেশরা ইউনিয়নে। খেশরা ইউপি চেয়ারম্যান রাজিব হোসেন রাজু জানান, বুলবল’র তাণ্ডবে ইউনিয়নের ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি আংশিক এবং শতাধিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া আমন ধান, ক্ষেতের বিভিন্ন ফসল ও মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন গাছপালা পড়ে যাওয়ায় কোটি টাকার ঊর্ধ্বে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখ জাহিদুর রহমান জানান, মুড়াগাছা, হরিহরনগর ও মুকুন্দপুর গ্রাম সহ আশপাশের গ্রামে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে কাচা ও আধাপাকা ঘর বাড়ির ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদের মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের অসহায় ৩ শতাধিক মানুষ অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছে। তাদের খাদ্য সংকট তৈরি হলেও সরকারিভাবে তাদের জন্য ত্রানের ব্যবস্থা করা হয়নি। এই ওয়ার্ডে ১৮৩টি কাঁচা ও আধাপাকা বাড়ি আংশিক এবং ৫৪টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র পরিবারের মানুষগুলো অমানবিক জীবন-যাপন করছে। এছাড়া এলাকার বিলঘরালির চক, বারুইখালি খাল ও বাঁশতলার খালসহ উন্মুক্ত খালে নেট-পাটা দিয়ে পানি নিষ্কাশন বাঁধাগ্রস্ত করায় এলাকার নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধ রয়েছে।

এদিকে খলিশখালী ইউনিয়নে বুলবলের অনুরূপ তাণ্ডবে গাছপালা, ফসল, মাছের ঘের ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়। একাধিক স্থানে বিদ্যুতের তার ছিড়ে যাওয়াসহ তারের উপর গাছ ভেঙে পড়া এবং বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় বিগত ৩ দিন ধরে অন্য এলাকার ন্যায় খলিশখালীতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। খলিশখালী ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিক মোজাফ্ফর রহমান জানান, ইউনিয়নে ১৫৭টি ঘরবাড়ির সম্পূর্ণ এবং ১৭৫টি ঘরবাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মাছের ঘের, গাছপালা, পানবরজ, শীতকালীন ফসল ও আমন ক্ষেতসহ অন্যান্য ফসলের মিলিয়ে ২ কোটি ঊর্ধ্বে ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্য দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

এব্যপারে গনেশপুর গ্রামের দরিদ্র শওকাত আলী মোড়ল’র ছেলে মো. রুহুল আমিন (২৭) জানান, পোলট্রি খামারে লাভবান হওয়ায় তাদের সংসারের দারিদ্রতা দূর হয়। পরবর্তিতে বাড়ির পাশে অন্যের জমি হারি নিয়ে ৩হাজার মুরগির উপযোগী একটি খামার গড়ে তোলে সে। এই খামার করতে তার ব্যাংক, এনজিও এবং মহাজনের কাছে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা ঋণগ্রস্ত হতে হয়েছে।

খামারে অবস্থিত ১ হাজার ৩শ ব্রিড থেকে তার মাসে ৪ লাখ টাকা আয় হবে এবং সব ঋণ পরিশোধ করে সে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবে- এমন স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড় সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে তাকে সর্বস্বান্ত করেছে। রুহুল আমীনের মতো করুন অবস্থা একই গ্রামের হতদরিদ্র পাচু শেখ’র ছেলে রওশন শেখ’র। রওশন অন্যের ২৫ শতক জমি হারি নিয়ে সেখানে পান বরজ করে। এই বরজ থেকে আয়ের টাকা এবং স্ত্রী শামু বেগম’র মাঠে শ্রম বিক্রির টাকায় তাদের সংসার চলতো। কিন্তু বুলবুল’র আঘাতে তাদের বসত ঘর এবং পান বরজ ভেঙে যাওয়ায় তাদের লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি পূরন করার সামর্থ না থাকায় তাদের চোখে-মুখে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান জানান, উপজেলায় মোট কতগুলো পরিবার ও কি পরিমান সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ত এখনও সঠিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। দু’ একদিনের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে সহায়তা প্রদানের বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।