menu

ঝালকাঠি বাস টার্মিনালে বত্রিশ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি!

সংবাদ :
  • দিলীপ মণ্ডল, ঝালকাঠি
  • ঢাকা , রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০২০
image

দীর্ঘ ৩২ বছর পেরিয়ে গেলেও এ যাবত কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি ঝালকাঠির কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটিতে। অযতœ অবহেলায় টার্মিনাল চত্বরে সৃষ্ট খানাখন্দে বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা কাদাপানিতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়াও বিশ্রামাগার না থাকায় যাত্রীদের রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। পৌরসভার নির্মিত শৌচাগার থাকলেও সামনে পরিবহন কাউন্টার থাকায় দেখা যায় না। এতে যাত্রীসহ এলাকাবাসীর যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করায় টার্মিনাল এলাকার পরিবেশ দুর্গন্ধময় হয়ে উঠেছে। দূরপাল্লার পরিবহন বাস টার্মিনালে না আসায় মহাসড়কে যাত্রী উঠানামা করায় দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে। টার্মিনালে প্রবেশ না করায় পরিবহন বাস থেকে পৌরসভার টোল আদায়ও সম্ভব না হচ্ছেনা। ফলে বাস মালিক সমিতির মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই ঝালকাঠি বাস মিনিবাস মালিক সমিতির একমাত্র দাবি টার্মিনালটির আধুনিকায়ন।

১৯৮৮ সনে ১ একর জায়গায় ঝালকাঠির কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি স্থাপন করা হয়। এরপর এটিকে আধুনিকায়নের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। মালিক সমিতি সূত্রে জানাযায়, ঝালকাঠি থেকে ৮টি রুটে ১১০ টি বাস চলাচল করছে। এছাড়াও ঝালকাঠি থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরগুনা, পাথরঘাটাসহ দূরপাল্লার পরিবহন বাস চলাচল করছে ঝালকাঠি হয়ে। ওই সময়ে নির্মিত বাস মালিক সমিতির জরাজীর্ণ ভবনটি এখন ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মালিক সমিতির নিজস্ব অর্থায়নে এটি সংস্কার করে ঝুঁকি নিয়ে এখানে সার্বিক কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। গতবছর ভবনটির প্লাস্টার খসে মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আহত হন। পাশেই শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসের টয়লেট বাথরুম ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। ঝালকাঠি আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি মো. মজিবুর রহমান জানান, টার্মিনালটি নির্মাণের পর থেকেই অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। এর চারপাশে কোন বাউন্ডারি দেয়ার বা কাঁটাতারের সীমানা নেই। ফলে প্রায় দিনই রাতে এখানে থাকা গাড়ি থেকে ডিজেল, গিয়ার ওয়েল, টায়ার, অতিরিক্ত টায়ারের রিং চুরি করে নিয়ে যায়। যার খেসারত দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। শ্রমিকদের জন্য নেই কোন বিশ্রামাগার। দূরপাফ্লার চালক শ্রমিকরা এ কারনে টার্মিনালে প্রবেশ করেনা। পৌরসভার নির্মিত শৌচাগারটির সামনে পরিবহনের কাউন্টার করায় তা আড়ালে পরে গেছে। তাই এটি কেহই ব্যবহার করতে পারে না এবং ডাক নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঝালকাঠি বাস মিনি বাস মালিক সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের ৬৪ জেলার একমাত্র অবেহেলিত ঝালকাঠির বাস টার্মিনাল। আধুনিকতার বিন্দুমাত্র ছোয়া লাগেনি বিগত ৩২ বছরে। এখানে যাত্রীদের জন্য নেই কোন বিশ্রামাগার। ১৯৮৮ সনের নির্মিত মালিক সমিতির অফিস ভবনটিও ব্যবহারের অযোগ্য।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে আমাদের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। খানাখন্দে ভরা এ টার্মিনালে বর্ষার সময় পানি জমে থাকে। দূরপাল্লা পরিবহনের কোন বাস এখানে না আসায় হাইওয়ে যাত্রী উঠা নামা করায় দুর্ঘটনার পাশপাশি ঝুঁকি বেড়েই চলছে। পৌরসভাকে বছরে ১০ লাখ টাকা ইজারা টোল দিলেও পরিবহনের কাছ থেকে তা আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। হাইওয়ে থেকে টার্মিনাল দূরে থাকায় তারা এখানে না এসে বাহির থেকে চলে যাচ্ছে। তাই আমরা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দ্রুত টার্মিনালটি আধুনিকায়ন করার দাবি জানাচ্ছি। টার্মিনাল আধুনিকায়নের বিষয়ে পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার জানান, অনেক আগেই টার্মিনালটি আধুনিকায়নের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।