menu

নীলফামারী-সৈয়দপুর মহাসড়ক

জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ২ বছর থমকে নির্মাণ কাজ

ভাঙা সড়কে ঝরল ৫ প্রাণ

সংবাদ :
  • আতিয়ার বাড্ডা, নীলফামারী
  • ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২০
image

জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় বন্ধ হয়ে আছে নীলফামারী-সৈয়দপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ কাজ। কাজ শুরুর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও হুকুম দখলকৃত জমি আর অবকাঠামো অধিকাংশ মালিকেরা টাকা বুঝে না পাওয়ায় ছাড়েনি দখল। নির্ধারিত সময়ে অর্থ ছাড় না করায় ২শ’ ২৫ কোটি টাকার প্রকল্পে প্রকল্প বিন্যাসে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪শ’ ৪৩ কোটিতে। ব্যস্ততম এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গাচোড়া আর খানা খন্দকের ওপর দিয়ে ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ২ বছরে ৩০ থেকে ৩৫টি দুর্ঘটনায় ঝড়ে গেছে ৪-৫টি তাজা প্রাণ। পঙ্গুত্ব বরণ করেছে অনেকেই। প্রত্যাশী সংস্থা ৭ মাস আগে ক্ষতিপূরণের ২শ’ ৫৮ কোটি টাকা জেলা প্রশাসনের অনুকূলে হস্তান্তর করলেও আজও তা পায়নি ক্ষতিগ্রস্তরা।

নীলফামারী সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণের কাজ ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে শুরু হয়। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত জুন মাসে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র সাড়ে ৮ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও মাত্র সাড়ে ৪ কিলোমিটারের ক্ষতিপূরণ পেয়েছে ক্ষতিগ্রস্তরা। সাড়ে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে অবশিষ্ট ৭ কিলোমিটারের জমি আর অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের টাকা এখনও না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা দখল ছাড়েনি। এদিকে রোয়েদাদ প্রস্তুতে ভুল-ত্রুটির অজুহাতে জেলা প্রশাসনও ওই ৭ কিলোমিটারের দখল বুঝে দিতে পারেনি প্রত্যাশী সংস্থা সড়ক বিভাগকে। ফলে বিভাগও নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারেনি। মূল ডিপিপি থেকে প্রকল্প বিন্যাসে অতিরিক্ত ব্যয় বেড়েছে আরও ২শ’ ১৮ কোটি টাকা। প্রকল্প ব্যয় বাড়লেও বর্ধিত সময় ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এদিকে ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে ক্ষতিগ্রস্তরা বার বার জেলা প্রশাসনের কাছে ধর্না দিয়েও পায়নি টাকা। এতে ক্ষুব্ধ ক্ষতিগ্রস্তরা কয়েক দফা ওই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করেছে। টাকা পেতে আশ^াসও দিয়েছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নুর। এ আশ্বাসের বাণী এখনও দেখেনি আলোর মুখ।

নীলফামারী কাছারী এলাকার আজহার আলীসহ আরও অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়ার কথা বলে আমাদের জমি দখলে নিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু দিনের পর দিন ধর্না দিয়েও আমরা ক্ষতিপূরণের টাকা পাইনি। ডিসি অফিসে ধর্না দিতে গিয়ে আমাদের অনেক টাকা খরচও হয়েছে। যতবার ডিসি অফিসে গিয়েছি ততবারে টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

দারোয়ানী টেক্সটাইল এলাকার আশরাফুল আলম বলেন, আমার জমির উপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। এই প্রতিষ্ঠানের আয় চলে আমার সংসার। এখানে আমার মতো আরও প্রায় ৫০ জনের দোকান আছে। আমাদের দোকান সরে নিয়ে জমি ছেড়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা টাকা না পাওয়া পর্যন্ত দখল ছাড়বো না।

নীলফামারী সদর উপজেলার সঙ্গলসী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ সড়কের পাশে আছে উত্তরা ইপিজেড। এ ইপিজেডকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আরও অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান। এটি এখন জেলার সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক। গত ২ বছরে এ সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৩-৪ জন।

নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাগী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মঞ্জুরুল করিম বলেন, এ বছরের এপ্রিল মাসে জমি মালিকদের ক্ষতিপূরণের ২শ’ ৫৮ কোটি টাকা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু টাকা পরিশোধ না করায় ক্ষতিগ্রস্তরা জমি ও অবকাঠামোর দখল ছাড়ছেন না। উপরন্ত নির্মাণ ব্যয়ও বেড়ে গেছে। এতে নির্মাণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, ইতোপূর্বের ত্রুটিপূর্ণ রোয়েদাদ যাচাই-বাছাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির রিপোর্ট পাওয়া গেলে এ মাসের মধ্যে জমির প্রকৃত মালিকদের হাতে টাকার চেক তুলে দেয়া হবে। তাহলে সড়ক নির্মাণে আর কোন জটিলতা থাকবে না।