menu

চৌগাছায় ১০ টাকার পাচারকৃত ২ হাজার কেজি চাল উদ্ধার

দুই দোকান সিলগালা

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, চৌগাছা (যশোর)
  • ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২০
image

যশোরের চৌগাছায় অবৈধভাবে বিক্রিকৃত ২ হাজার কেজি ফেয়ার প্রাইসের চাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলার স্বরূপদাহ ইউপির ফেয়ারপ্রাইস ডিলার ও খড়িঞ্চা ওয়ার্ড অওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলামের নিকট থেকে চাল বিতরণের মাস্টাররোল জব্দ এবং অবৈধভাবে এই চাল বিক্রিকারী ওই ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মান্নানের ছোট ভাই বিল্লাল হোসেনের দুটি দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গত শুক্রবার চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী এম. এনামুল হক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ণ চন্দ্র পাল এই চাল উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন। জানা গেছে স্বরূপদাহ ইউনিয়নের ফেয়ার প্রাইস ডিলার নূর ইসলামের নিজের কোন গুদাম বা দোকান নেই। তিনি খড়িঞ্চা ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার আব্দুল মান্নানের আপন ছোট ভাই বিল্লাল হোসেনের মুদি ও সারের দোকানে রেখে ফেয়ার প্রাইসের চাল বিক্রি করেন। ওই দোকান থেকে সরকারি বস্তার চাল বস্তা পরিবর্তন করে প্লাস্টিক বস্তায় করে ৪০ বস্তা চাল ইউনিয়নের কমলাপুর মোড়ে ওই ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মান্নানের চাতালে নিয়ে রাখা হয়েছে সংবাদের ভিত্তিতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী এম. এনামুল হক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ণ চন্দ্র পাল। সরেজমিনে অভিযানের সময় দেখা যায় অভিযানের খবর টের পেয়ে অভিযানের আগেই সেই চাল পাশর্^বর্তী মহেশপুর উপজেলার শ্যামনগরে অবস্থিত একটি রাইস প্রসেসিং মিলে নিয়ে রাখেন ওই চাল ক্রয়কারী চাল ব্যবসায়ী মোজাহের হোসেন।

অভিযানের সময় মেম্বার আব্দুল মান্নান চাতালে হাজির হয়ে জানান, তার ভাইয়ের দোকানে রেখে ফেয়ারপ্রাইস ডিলার নূর ইসলাম চাল বিক্রি করেন। সেখান থেকে কার্ডধারীদের কাছ থেকে চাল ক্রয় করেন তার ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন। সেই চাল বিল্লাল তারই (মেম্বার মান্নানের) চাতালের লিজ ব্যবসায়ী মোজাহের হোসেন ক্রয় করেছেন। তবে মেম্বার মান্নান তখন জানান, চাল এই চাতালে আনা হয়নি।

ইউএনও ব্যবসায়ী মোজাহের হোসেনকে চাতালে ডাকতে বলেন মেম্বার আব্দুল মান্নানকে। তিনি চাতালে এসে বিল্লালের কাছ থেকে চাল কেনার কথা স্বীকার করেন। একপর্যায়ে চাল প্রসেসিং করতে শ্যামনগরে একটি রাইস প্রসেসিং মিলে রেখেছেন বলে তিনি জানান। এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে ওই প্রসেসিং মিলে গেলে দেখা যায় সেখানে তিনি শুক্রবার সকালে ৮৮ বস্তা চাল প্রসেসিংয়ের জন্য দিয়েছেন। সব চালই সরকারী ফেয়ারপ্রাইসের কিনা জানতে চাইলে ব্যবসায়ী মোজাহের হোসেন বলেন তিনি ইউপি মেম্বার মান্নানের ছোট ভাই বিল্লালের কাছ থেকে ২০০০ কেজি চাল কিনেছেন ৩৭ টাকা কেজি দরে। এরপর খড়িঞ্চা বাজারে যে দোকানে ফেয়ার প্রাইসের চাল বিক্রি করা হয় সেখানে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসিল্যান্ড। সেখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পৌঁছানোর আগেই বিল্লাল এন্টার প্রাইজের মালিক বিল্লাল হোসেন দোকান খোলা রেখে মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে পালিয়ে যান। ফোন বন্ধ করে রাখেন ডিলার ও খড়িঞ্চা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলামও। সেখানে দেখা যায় দোকানের মধ্যে ২৬ বস্তা চাল রয়েছে। এসময় ইউপি মেম্বার আব্দুল মান্নান জানান, গত তিন দিনে বিক্রির সময় এ কয়জন কার্ডধারী চাল নেননি। এরপর মেম্বার আব্দুল মান্নানকে পাঠিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসা হয় ডিলার নূর ইসলামকে। তিনি এসে বলেন ২৪ জন চাল নেননি।

মেম্বার আব্দুল মান্নান এসময় বলেন, আমার ওয়ার্ডে কোন অনিয়ম নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী এম এনামুল হক বলেন, ৪০ বস্তা চাল উদ্ধার করে ব্যবসায়ী মোজাহেরের হেফাজতে রাখা হয়েছে।