menu

চাঁদপুরে সাঁড়াশি অভিযানেও থামছে না মাদক বিকিকিনি

সংবাদ :
  • সংবাদদাতা (চাঁদপুর)
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২১

চাঁদপুরের বেশ কয়েকটি স্থানে নীরবে চলছে মাদকের বেচাকেনা। এর বিরুদ্ধে প্রায় সময়েই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, পুলিশ বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। এতে মাদকসেবী, মাদক কারবারিসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হচ্ছে। বর্তমানে এ জেলাটিতে জল, স্থল ও রেলযোগাযোগ সহজলভ্য হওয়ায় মাদক সম্রাটদের বাণিজ্যের এটি নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এখানকার বিভিন্ন চিহ্নিত স্পটে গাঁজা, ফেনসিডিল, মদ, ইয়াবা বিকিকিনির দৃশ্য এখন ওপেন সিক্রেটে পরিণত হয়েছে। একইভাবে জেলার পারা-মহল্লায় প্রকাশ্যে চলছে মাদক বেচাকেনা। ১২ই জানুয়ারি মঙ্গলবার আব্দুল কাদিরের ছেলে মো. শুক্কুর আলী (৪০) ও শুক্কুরের স্ত্রী কামরুন্নেসা (৪২)কে ৬৫ গ্রাম গাঁজাসহ কয়লাঘাট থেকে গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাগণ। পরে ওই মাদক কারবারিদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মানিক ২টি মামলা দিয়ে যথাক্রমে ৩ মাস ও ৬ মাস করে কারাদ- এবং ২০০ ও ৬০০ টাকাসহ মোট ৮০০ টাকা অর্থদ- দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। ১৩ই জানুয়ারি বুধবার এ ব্যাপারে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুুলিশ সুপার স্নিগ্ধা সরকার দৈনিক সংবাদকে জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিভাগ মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। যেখানে মাদক সেখানেই খবর পাওয়া মাত্র পুলিশ বিভাগ অভিযান চালাচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ বিভাগের জিরো টলারেন্স। তবে শহরের মধ্যে বেশ কিছু স্থান মাদকের হট স্পট হয়ে ওঠার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে শহরের কুলিবাগান, জামতলা, বড়স্টেশন, কয়লাঘাট, ক্লাব রোড, নিশি বিল্ডিং, খলিশাডুলীর মঠখোলা, পুরানবাজারের বৌ বাজারসহ বেশকিছু স্থান। দ্রুতই আমরা এসব জায়গায় পুলিশি অভিযান চালাবো। বাংলাদেশ সচেতন নাগরিক কমিটি চাঁদপুর জেলার সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা অজিত সাহাসহ সচেতনমহলের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের নিরব বাণিজ্যের কারণে সমাজের পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে এই মাদক যেন সমাজে আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। তবে ঘরে বসে নেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। তারা কোন রকমের ঢাল তলোয়ার বিহীন নিধিরাম সর্দারের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ছে মাদকসম্রাটদের ধরতে। কোন রকমের অস্ত্র ছাড়া গুটি কয়েক কর্মকর্তা নিয়ে অভিযান চালাতে ঢু মারছেন পারা মহল্লার মাঠে ময়দানে। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গেলো ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ১১০৫টি অভিযান, ২০৩টি মামলা, ২২২ জন আসামি, ১৯৯৫২ পিস ইয়াবা, ২২ কেজি গাঁজা, ১৬৫ বোতল ফেনসিডিল, ৫ বোতল বিয়ার, ৮ বোতল বিদেশী মদ, ৪০০ মিলিলিটার চোলাই মদ, ৩টি মোটরসাইকেল, ২টি মোবাইল সেট, ২টি সিএনজি এবং নগদ ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক এ. কে. এম. দিদারুল আলম দৈনিক সংবাদকে জানান, আমাদের কোন রকমের অস্ত্র না সত্ত্বেও আমরা স্বল্প সংখ্যক জনবল নিয়ে মাদককে প্রতিরোধ করতে চেষ্টা করছি। প্রায়ই আমাদের জীবননাশের হুমকি ধমকি আসছে। তবুও আমরা প্রধানমন্ত্রীর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে মাঠে ময়দানে কাজ করছি। মাদকমুক্ত জেলা গড়তে আমাদের এ ধরনের অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। এদিকে অনেক মাদকসেবী প্রশাসন ও সমাজের চাপে মাদক থেকে ফিরতে চাইছে। তবে জেলায় কোন রূপ মাদক নিরাময় কেন্দ্র না থাকায় তারা হতাশায় দিনাতিপাত করছে। এ ব্যাপারে নবরূপ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক পিএম বিল্লাল দৈনিক সংবাদকে জানান, আমরা ২০ বেডের একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি। অনুমোদন পেলেই রোগী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করব। এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অপরাধ) কাজী আবদুর রহিম দৈনিক সংবাদকে জানান, সব মিলিয়ে জেলা পুুলিশের উদ্ধারকৃত এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৫৯ লাখ ৩৫ হাজার ২৮৫ টাকা। এ ছাড়াও ৬টি অস্ত্র মামলায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ দিকে মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন জানিয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান দৈনিক সংবাদ কে জানান, এখানকার মাদকের বেশকিছু হটস্পট আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। বিশেষক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে পুরাতন মাদক কারবারীরাই জেল থেকে বেরিয়ে আবার নতুন উদ্যোমে মাদক বাণিজ্যে মেতে উঠছে। তবে আমাদের প্রতিনিয়ত মাদকবিরোধী অভিযানে তা এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পেরেছি বলে মনে করছি। এক্ষেত্রে আমরা সকলের সচেতনতা ও সহযোগিতা কামনা করছি।