menu

গাংনী হাসপাতালে অনিয়মের পাহাড় : দেখে ক্ষুব্ধ সাংসদ

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, মেহেরপুর
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯
image

মেহেরপুরের গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করছেন সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকন -সংবাদ

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান হাসপাতালে আসেন যখন মন চায়। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকলেও কর্মচারীদের অনেকেই থাকেন না হাসপাতালে। নার্সদের কয়েকজন চলেন আপন মনে। নিম্নমান ও পরিমাণে কম খাবার পণ্য দিয়ে চলে কিচেন রুমের প্রতিদিনের কাজ। রোগী না থাকলেও বন্ধ হয়না বৈদ্যুতিক বাতি ও পাখা। আবার অত্যাধুনিক জেনারেটের চলে কাগজ-কলমে। বিদ্যুত না থাকলে হাসপাতাল যেন ভূতের বাড়ি। এই হলো মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোজকার চিত্র। রোববার দুপুরে হাসপাতালটি আকস্মিক পরিদর্শনে এসে এসব অনিয়ম চোখে পড়ে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামানের। এ প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, প্রাত্যহিক খাবারে মাছ বরাদ্দ ২৩৬ গ্রাম। রোগীরা পাচ্ছেন ৫০ গ্রাম। নিম্নমানের ডাল ও অন্যান্য খাদ্য পণ্য দিয়ে রান্না করা হয়। অপরদিকে রোগীর বেডসিট ও অন্যান্য কাপড় ওয়াশ করার ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া গেছে। দুর্নীতির কারণে খাবার ও ওয়াশিং ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিষয়ে বলেন, তিনি হাসপাতালে ঠিকমতো থাকেন না বলে এলাকার মানুষের ব্যাপক অভিযোগ। আজও পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালে ছিলেন না। জানতে চাইলে তিনি বলেছেন যে প্রশিক্ষণে। কিন্তু এ বিষয়ে আমাকে কিছুই জানাননি এবং হাসপাতালেও প্রশিক্ষণে যাওয়ার সপক্ষে কোন কাগজপত্র নেই। অপরদিকে হাসপাতালের অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটিকে জানানোর জন্য এক সপ্তাহের সময় দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রোগীদের টয়লেট নোংরা অথচ স্টাফদের টয়লেট পরিস্কার। লোকজন নেই তবুও লাইট ও ফ্যান চালানো হচ্ছে। সরকারি এই সম্পদ অপচয়কারীদের কোনভাবেই ক্ষমা করা যায় না। দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও একজন চিকিৎসক ও কয়েকজন কর্মচারীর বিষয়েও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।