menu

কুড়িগ্রামে ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে স্কুলের জমিতে দোকানঘর নির্মাণ

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
  • ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯
image

কুড়িগ্রাম : স্কুলের পুকুর ভরাট করে এভাবেই চলছে দোকান নির্মাণ -সংবাদ

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা বরকতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করছে স্থানীয় ছাত্রলীগ নামধারী যুবকেরা। স্কুল সংলগ্ন পুকুরের পাড় ভরাট করে তারা দোকানঘরের কাঠামো নির্মাণ শুরু করলে গত বুধবার দুপুরে স্থানীয়রা এই কাজে বাঁধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে মাসুম নামে একজন আহত হয়।

স্থানীয় যুবক আলভী আলী শাওন, মাসুম, অন্তর ও রাজু তাদের লোকবল নিয়ে এই কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি তাদের বিরত রাখার চেষ্টা করলেও তারা কর্ণপাত করেনি। ফলে এলাকাবাসী জোটবদ্ধ হয়ে তাদের অবৈধ কাজে বাঁধা দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজন হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়। পরে আরও লোকজন আসায় সটকে পরে তারা।

জানা যায়, সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নে অবস্থিত বেলগাছা বরকতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে ১ একর ৬৯ শতক জমি রয়েছে। এই জমির মধ্যে পুকুর রয়েছে ১৩ শতক। এই পুকুরের ঢালের মাটি ভরাট করে স্থানীয় যুবকেরা ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে জোড় করে দোকানঘর নির্মাণ করছিল।

সেখানে তারা ছাত্রলীগ অফিস ও দোকানঘর বরাদ্দ দিয়ে বাড়তি সুবিধা নেয়ার চেষ্টায় ছিল। এ নিয়ে এলাকায় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানান, এই অবৈধ কাজে মজিবর রহমানের ছেলে আলভী আলী শাওন, জালাল মিস্ত্রির ছেলে মাসুম, স্কুলের পিয়ন আজিজুল ইসলামের ছেলে রাজু ও বাবলু সুপারভাইজারের ছেলে অন্তর জড়িত। তারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে অস্থায়ীভাবে ঘর তুলে জায়গার দখল নেয়। পরে পুরো জায়গাটি দখলে নিতে স্কুল বন্ধের সময় নির্মাণ কাজ শুরু করে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আলভী আলী শাওন জানায়, আমরা এখানে আনসার ক্লাবের নামে বরাদ্দকৃত ১০ শতক জায়গায় ঘর তুলছি। এটা স্কুলের সম্পত্তি নয়। এ নিয়ে আমার সহযোগী মাসুমকে আঘাত করা হলে তার মাথায় ৬টি সেলাই দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী জানান, স্কুল বন্ধের সময় তারা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে। বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজনসহ স্কুলের জায়গায় কাজ না করার জন্য তাদের অনুরোধ করা হয়। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা. রশীদুল ইসলাম জানান, তারা অবৈধভাবে স্কুলের ক্রয়কৃত জায়গায় ঘর তুলছিল। বিষয়টি নিয়ে কমিটির সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুজ্জামান রণি জানান, সে ছাত্রলীগের কেউ না। কোন পদেও নেই। ছাত্রলীগের সুনাম নষ্ট করে অবৈধভাবে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে। এদের প্রতিহত করুন। প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।