menu

কালো তালিকার ৪ শতাধিক মিল মালিক থেকে চাল কিনবে সরকার!

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া
  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ মে ২০১৮

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কুষ্টিয়ায় কালো তালিকাভুক্ত প্রায় ৪ শতাধিক মিল মালিক চলতি বোরো মৌসুম থেকেই সরকারি গোডাউনে ফের চাল দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পরপর ৪ মৌসুম চাল দেয়ার বিষয়ে এসব মিল মালিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আগেভাগেই সেই শর্ত শিথিল করা হয়েছে। নির্বাচনী বছর হওয়ায় সবাইকে চুক্তির আওতায় আনার সুযোগ দেয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন চালকল মালিক সমিতির নেতারা। তবে এ নিয়ে মিল মালিকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এদিকে আগামী সপ্তাহ থেকে বোরো সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। খাদ্য গুদাম গুলোতে জায়গা না থাকায় পবারো চাল কেনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন খাদ্য বিভাগ ও মিলাররা। খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া জেলায় মোট মিলারের সংখ্যা ৬০০ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলাতেই মিলারের সংখ্যা ৩৬৬ জন। সদরের বটতৈল ইউনিয়নের খাজানগরে দেশের অন্যতম বৃহত্তম চালের মোকাম অবস্থিত। ২০১৭ সালে বোরো ধান ঘরে ওঠার আগেই আগাম বন্যা ও ঝড়, বৃষ্টিতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর ধান ও চালের দাম অনেক বেড়ে যায়। বোরো মৌসুমে সরকার ধান ও চাল কেনার ঘোষণা দেয়ার পর চালের বাজার বেশি দেখিয়ে কুষ্টিয়ার বেশির ভাগ মিলার চুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর সদর উপজেলায় মাত্র ৬৬ জন মিলার চুক্তিবদ্ধ হন। আর জেলায় সব মিলিয়ে ১৬৬জন মিল মালিক চুক্তি করেন। চুক্তির বাইরে থেকে যান ৪৩৪ জন মিল মালিক। এরপর সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয় যেসব মিল মালিক চুক্তির আওতায় আসেননি তাদের বিষয়ে ৪ মৌসুম অর্থ্যাৎ ২ বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ কারণে গত আমন মৌসুমে জেলার মিলারদের বড় অংশ চাল দেয়া থেকে বঞ্চিত হন। আরো তিন মৌসুম তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। চলতি বছর কুষ্টিয়া জেলা থেকে ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল কেনা হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলা থেকে কেনা হবে ১৫ হাজার মেট্রিক টন। প্রতিকেজি চাল কেনা হবে ৩৮ টাকায়। ২০ মে পর্যন্ত মিল মালিকরা সরকারের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবেন। আর আগামী ৩১ আগষ্ট বোরো মৌসুমের সংগ্রহ অভিযান শেষ হবে। এসব বিষয়ে কথা হলে জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান বলেন, ‘সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সঙ্গে আমাদের কোন দ্বিমত নেই। তবে সরকারের দুঃসময়ে যেসব মিল মালিক পাশে ছিল তাদের বিষয়ে খেয়াল রাখা দরকার। এই মিল মালিক বলেন, ‘সরকার এ বছর চালের ন্যায্য দাম দিয়েছে। খাদ্য গুদামগুলো দ্রুত খালি করা না হলে মিল মালিকরা বেকায়দায় পড়বে।’

চালকল মালিক সমিতির নেতা লিয়াকত রাইস মিলের মালিক হাজি লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘সরকারের দুঃসময়ে আমরা পাশে ছিলাম। সরকারের মন্ত্রীরা বলেছিল যেসব মিলার চাল দেয়নি তারা ৪ মৌসুম চাল দিতে পারবে না। এখনতো তারাও চাল দিচ্ছে। এতে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। এরকম হলে আগামীতে সরকারের দুঃসময়ে অনেকেই চাল দিকে অনীহা প্রকাশ করবে।’

ফোর স্টার রাইস মিলের মালিক মফিজ উদ্দিন জানান, ‘গত বছর ধান ও চালের বাজারের মধ্যে বেশ ফারাক ছিল। এবছর প্রচুর ধান উৎপাদন হয়েছে। ধানের বাজারও গতবারের তুলনায় কম। তাই চাল দিতে কোন মিল মালিককে বেগ পেতে হবে না। তবে খাদ্য গুদামে জায়গা নেই। এসব গুদাম খালি না হলে আগামী সপ্তাহে যে চাল কেনা শুরু হবে তাতে ভাটা পড়তে পারে।’

জেলা খাদ্য অফিস সূত্র জানিয়েছে, ‘জেলা সদরে খাদ্য গুদাম আছে দুটি। একটি জগতি ও অন্যটি শহরের বড় বাজারে। জগতি খাদ্য গুদামের ধারন ক্ষমতা ২ হাজার ৫০০ টন ও শহরের বড় বাজারে ধারন ক্ষমতা ৩ হাজার ৫০০ টন। এখন দুই গুদামে সব মিলিয়ে চাল আছে ৫ হাজার ৫৭০ মেট্রিক টন। ৪৩০ মেট্রিক টন চাল কেনার মত জায়গা খালি আছে। আর সরকার সদর উপজেলাতেই চাল কেনার পরিমান নির্ধারণ করে দিয়েছে ১৫ হাজার মেট্রিক টন। খাদ্য কর্মকর্তা একেএম শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘জেলায় খাদ্য গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। যে চাল এখন আছে তা অন্য জায়গায় সরিয়ে না নেয়া পর্যন্ত চাল কেনা চলবে ধীরগতিতে। চাল না সরানো পর্যন্ত কেনায় গতি আনা সম্ভব হয়।’ জেলা খাদ্য কর্মকর্তা তানভীর রহমান বলেন, ‘গত আমন মৌসুমেও গুদামে জায়গা না থাকায় চাল কিনতে বিপাকে পড়তে হয় তাদের। এবারো একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন স্যারদের জানানো হয়েছে। আশা করছি চাল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আর বিগত সময়ে যেসব চালকল মালিক সরকারের সঙ্গে চুক্তি করা থেকে সরে আছে তারাও এ বছর চাল দিতে পারবেন। সরকার যে মূল্য নির্ধারণ করেছে তাতে মিল মালিকদের এ বছর ভালো লাভ হবে বলেও জানান তিনি। খাদ্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান জানান, ‘যেসব মিল মালিক বিগত বছর সরকারকে চাল দেয়া থেকে বিরত ছিল তাদের যে ৪ মৌসুম নিষেধাজ্ঞা ছিল তা তুলে নেয়া হয়েছে। এ বছর সব মিলার চুক্তির আওতায় আসবে বলে মনে করছি। আর যথাসময়ে চাল কেনা শেষ হবে বলেও জানান তিনি। এক্ষেত্রে যেসব জটিলতা আছে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’