menu

কালীপুরের লিচুর সুনাম সারা দেশে

সংবাদ :
  • সৈকত আচার্য্য, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)
  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ মে ২০১৮
image

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : কালীপুরের পাহাড়ি এলাকার লিচু বাগান -সংবাদ

সারাদেশে সুনাম রয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালীপুরের লিচুর। এখানকার লিচু স্বাদে ও পুষ্টি গুণে উৎকৃষ্ট হওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এসে কালীপুরের লিচু পাইকারি দামে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে বিক্রির উদ্দেশ্যে। শুরু থেকেই লিচুর চড়া দাম লক্ষ্য করা গেছে। উপজেলার কালীপুর, পুকুরিয়া, সাধনপুর, বৈলছড়ি, জঙ্গল জলদী, শীলকূপ, চাম্বল ও পুঁইছড়ি এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে সুস্বাদু লিচু উৎপাদিত হয়।

এছাড়াও বাঁশখালীর প্রতিটি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় লিচুর চাষ হয়ে আসছে বহুকাল থেকেই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বাঁশখালীতে প্রায় সাড়ে ৫শ হেক্টর জায়গাজুড়ে লিচু চাষ হয়ে থাকে। স্থানীয় উন্নত প্রজাতির এই লিচু উৎপাদনে চাষিরা বেশ গুরুত্ব সহকারে উৎপাদন কাজে শ্রম ব্যয় করায় বাণিজ্যিক ও ঘরোয়াভাবে উৎপাদিত এই লিচুর কদর দেশজুড়েই।

বর্তমানে বাঁশখালীর সর্বত্র আগাম লিচু বাজারে আসায় চাষিরা চড়া দামে বিক্রি করছে তা। লিচুর উৎপাদনের শুরুতেই বৃষ্টি কম হওয়ায় চাষিরা অনেকটা হতাশ ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে বৃষ্টির দেখা মেলায় চাষিরা অনেকটা আশান্বিত হলেও প্রবল বাতাসে ও ভারি বৃষ্টি ও বজ্রপাতে লিচু গাছের ক্ষতি হতে পারে এই আশঙ্কা রয়েছে চাষিরা। বাজারে আগাম লিচু বাগান ও লিচুর আকার ভেদে প্রতি শত লিচু বিক্রি ৩-৪শ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে পুরোদমে লিচু উৎপাদন শুরু হওয়ায় দাম অনেকটা কমে আসতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাজারে প্রথম দিকে দাম বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে ২শ থেকে আড়াইশ টাকায় কমে আসতেছে। সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রাম জেলার সর্বত্র বাঁশখালীর কালীপুরের লিচুর আলাদা কদর রয়েছে। এবার লিচু উৎপাদনে লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানান কালিপুরের লিচু চাষি জালাল উদ্দীন। বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বাঁশখালীতে ৫শ থেকে সাড়ে ৫শ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। এবারে ফলন বেশি হওয়ায় লিচু চাষিরা খুশি বলেও জানান তিনি।

তাছাড়া কৃষি অফিস থেকে যথাযথ সহযোগিতা দেয়া হয়েছে লিচু চাষিদের। ব্রিটিশ আমল থেকেই বাঁশখালীর উপজেলার কালীপুরে বোম্বাই, কলকাতা, চায়না-থ্রি জাতের লিচু চারা কলম সংগ্রহ করে বাগান করে আসছেন স্থানীয়রা। পরে তা জলদি, পুকুরিয়া, সাধনপুর, চাম্বল, নাপোড়া, শীলকূপ ও পুঁইছড়িতেও বিস্তৃতি লাভ করে। ভালো ফলন হওয়ায় একেকটি বাগান এক থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বর্তমানে। বাঁশখালীর কালীপুর, জলদী, সাধনপুর ও চাম্বলে তিন চারটি এলাকায় লিচুর পাইকারী বাজার বসে। পাইকারদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে যায় বাঁশখালীর এ লিচু। পুষ্টিগত মান ও স্বাদের কারণে বাঁশখালীর লিচুর এমন কদর বেশি। কালীপুর এলাকার লিচু চাষি মনির আহমদ জানান, এখানকার লিচু কোন ধরনের ফরমালিন এবং ভেজালমুক্ত হওয়ায় সব ধরনের ক্রেতাদের এই এলাকার লিচুর চাহিদা বেশি। বাঁশখালীর সুস্বাদু লিচু কিনতে সব এলাকার ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।