menu

মাধবদী সোনার বাংলা সমবায় সমিতি

কমিটি নেই দীর্ঘদিন পোয়াবারো ব্যবস্থাপকের!

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, মাধবদী (নরসিংদী)
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯

মধাবদীর সোনারবাংলা সমবায় সমিতি লি. বর্তমানে কোন কমিটি না থাকায় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের স্বেচ্ছাচারিতায় লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

দীর্ঘদিন যাবত কোন নির্বাচিত কমিটি না থাকায় ম্যানেজার আসলাম স্থানীয় কিছু সুবিধা ভোগীদের নিয়ে প্রকৃত শেয়ার হোল্ডারদের মতামত উপেক্ষা করে বাৎসরিক চুক্তিতে মোটা অঙ্কের টাকায় ভিটি ভাড়া, নাম পরিবর্তন ও হস্তান্তর বাণিজ্য চলিয়ে যাচ্ছেন।

তিন বছর পর পর সকল শেয়ার হোল্ডারদের ডেকে সাধারণ সভা করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। ১৯ বিঘা জায়গায় স্থাপিত সমিতির জায়গায় বর্তমানে হাজারের বেশি দোকান ঘর রয়েছে।

১৯৫১ সালে ইস্ট পাকিস্তান কটন মিলস নামে প্রায় ১৬শ’ শেয়ার হোল্ডারদের অর্থায়নে এ বিশাল জায়গা নিয়ে গঠিত হয় এ সমিতি। যার লক্ষ্য ছিল একটি কটন মিলস স্থাপন এবং এর মাধ্যমে মাধবদী বাবুর হাটের তাঁতীদের স্বল্পমূল্যে সুতা ও প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ করা। কিন্তু তা প্রথম অবস্থায় সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়ভাবে তৈরি কাপড় ফিনিশিং এর জন্য স্থাপিত হয় দুটি উন্নত ক্যালেন্ডার মিলস।

যেখান থেকে এলাকার ছোট ছোট তাঁত ফ্যাক্টরি মালিকরা গ্রে কাপড় ক্যালেন্ডার করে বাজারজাত করত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শেয়ার হোল্ডারদের ইচ্ছায়ই এটির নামকরণ হয় সোনার বাংলা সমবায় সমিতি। প্রায় এক যুগ আগে থেকেই ক্যালেন্ডার মিলটি অকেজো হয়ে পড়লে কোন সাধারণ সভা না ডেকে বা কোন টেন্ডার না দিয়ে মিলটি ভেঙ্গে ফেলে এবং ক্যালেন্ডার মেশিন দুটির যন্ত্রাংশও বিক্রি করে দেয়। বর্তমানে ৯শ’র বেশি দোকান ঘর রয়েছে।

যাতে নাম পরিবর্তনের কোন সিদ্ধান্ত বা নিয়ম না থাকলেও নাম পরিবর্তনের নামে চলছে স্থায়ীভাবে হস্তান্তর। এক একটি ঘর হস্তান্তর হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকায়। যা শেয়ার হোল্ডারগণ জানেন না। এ ছাড়াও সমিতির নিজস্ব অর্থোয়নে নির্মিত সড়কের সামনের দোকান ঘর ও দোতলা বিল্ডিংয়ের রুমগুলো স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ম্যানেজার মোটা অঙ্কের টাকায় হস্তান্তর করলেও সমিতির ফান্ডে কোন টাকা নেই বলে সংশ্লিষ্টসূত্র জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে হস্তান্তর না দেখিয়ে বার্ষিক ভাড়া উল্লেখ করা হয়েছে। বাৎসরিক ভাড়ায় মাটি ভাড়া নিয়ে পাকা ঘর উঠায় কিভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যানেজার আসলাম জানান, এটা যখন যে কমিটি আসে তারা তারা সিদ্ধান্ত দেয়।

এতে আমার কিছু করার নেই। এ ব্যাপারে ব্যক্তি শেয়ার ও সমিতির শেয়ার হোল্ডারদের সঙ্গে কথা বললে ব্যক্তি শেয়ার রহিমদীর আ. মান্নান, কাঠালিয়ার মতিন, মুসলিম, শফিকুল ইসলাম,খলিলসহ অনেকেই কমিটি শুন্য অবস্থায় ম্যানেজারের স্বেচ্ছাচারিতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাটি ভাড়া নিয়ে ঘর তুলে অন্যদের নিকট ভাড়া অথবা নাম পরিবর্তনের নামে স্থায়ী হস্তান্তর চলছে বলে অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় সমবায় অফিসে যোগাযোগ করলে তারা জানান যথযথ অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।