menu

ঈদে বেতন-বোনাস বঞ্চিত ৯০ ভাগ নৌ-শ্রমিক! অসন্তোষ

সংবাদ :
  • মানবেন্দ্র বটব্যাল, বরিশাল
  • ঢাকা , বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

ঈদ মৌসুমে নৌপথে ঢাকা থেকে দুরপাল্লা রুটের লঞ্চগুলোতে যাত্রী থাকে টইটুম্বুর অবস্থায়। সরকারি রেটের অজুহাত দেখিয়ে ভাড়াও নেয়া হয় বেশি। প্রতিটি লঞ্চ দেয় ডাবল ট্রিপ। সব মিলিয়ে লঞ্চ মালিকদের ব্যবসায় পোয়াবাড়ো হয় ঈদের বিশেষ সার্ভিসে। উৎসব উদযাপন করতে নৌপথে যারা যাত্রীদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেন, সেই নৌযান শ্রমিকরাই এবার ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বরিশাল থেকে স্থানীয় ও দূরপল্লা রুটের বেশিরভাগ নৌযান শ্রমিককে এবার বেতন ও বোনাস দেননি লঞ্চ মালিকরা। বিষয়টি ঈদের আগে গোপন থাকলেও ফাঁস হয়ে যায় গত শনিবার ঢাকা রুটের এক নৌযান শ্রমিককে নিয়মবহির্ভূত কার্যকলাপের অভিযোগে আটক করার পর। রোববার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় নৌযান শ্রমিকদের বেতন-বোনাস বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা না হলে গার্মেন্ট সেক্টরের মতো নৌযান সেক্টরেও অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হয় ওই সভায়। সোমবার বরিশাল জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃংখলা বিষয়ক সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া বলেন, তাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে, ঈদে লঞ্চের বেশিরভাগ শ্রমিক-কর্মচারীকে বেতন ও বোনাস দেয়া হয়নি। শ্রমিক অসন্তোষ রোধে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। সভায় উপস্থিত বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ পরিচালক আজমল হুদা মিঠুও এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে একমত পোষণ করেন। জবাবে সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, ঈদের সময়ে এমনটা হলে লঞ্চের শ্রমিকরা গার্মেন্ট শ্রমিকদের মতো আন্দোলন করতে পারেন। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগে অতিসত্ত্বর লঞ্চ মালিক ও শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়ে তিনি সভা করার সিদ্ধান্ত দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক আজমল হুদা মিঠু বলেন, শনিবার ঢাকা রুটের কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চে ডেকে (তৃতীয় শ্রেণীর যাত্রীদের নির্ধারিত স্থান) চাদর বিছিয়ে জায়গা দখল করে পরে যাত্রীদের কাছে বিক্রীর অভিযোগে ওই লঞ্চের গ্রিজার মনিরকে আটক করা হয়। তখন তিনি বলেন, ‘মালিকরা বেতন বোনাস দেননি। তাই পেটের দায়ে এ অন্যায় কাজ করছি’। মনিরই তথ্য জানিয়েছে, বেশিরভাগ লঞ্চের শ্রমিকরা বেতন-বোনাস পাননি। লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশনের বরিশাল শাখার সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, বরিশাল নৌ বন্দর থেকে ঢাকা-বরিশাল রুটের প্রায় ২০টি লঞ্চে মাস্টার, ড্রাইভার, সুকানীসহ কমপক্ষে ৯০০ শ্রমিক-কর্মচারী আছে। অভ্যন্তরীণ রুটের ৪০টি লঞ্চে শ্রমিক-কর্মচারী আছে প্রায় ৪০০। তিনি বলেন, এবার লঞ্চের শ্রমিক-কর্মচারীরা ঈদ বোনাস তো দূরের কথা মাসিক বেতনও পাননি। ঢাকা রুটের এমভি মানামি ও পারবত লঞ্চের কেউ ঈদের বোনাস পাননি, এমভি কীতর্নখোলা লঞ্চে বেতন-বোনাস কিছুই দেয়া হয়নি। আবুল হাশেম জানান, দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীন রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চের ৯০ ভাগ শ্রমিক-কর্মচারী বেতন বোনাস পাননি। তবে চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলছেন না। এর প্রতিবাদে খুব শিগগির অ্যাকশনে যাবার কথা বলেছেন এ নৌযান শ্রমিক নেতা। লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন নেতা একিন আলী মাস্টার জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকা রুটের এমভি সুন্দরবন লঞ্চের স্বত্বাধিকারী ও লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, কোন কোন লঞ্চ মালিক ঈদে বেতন-বোনাস দেননি তা খতিয়ে দেখা হবে। এক্ষেত্রে মালিকদেরও যুক্তি থাকতে পারে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার ঢাকা-বরিশাল রুট কমিটির সদস্য সচিব মো. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ঈদে লঞ্চের শ্রমিক-কর্মচারীরা বেতন বোনাস পাননি, এ ধরনের কোন অভিযোগ তিনি শুনেনি। খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।