menu

আজ বোয়ালমারী গণহত্যা দিবস

৩৩ শহীদের মর্যাদা দাবি

সংবাদ :
  • কে. এম. রুবেল, ফরিদপুর
  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ মে ২০১৮

১৯৭১ সালের ১৬ মে। এই দিনে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার হাসামদিয়া এলাকায় ৩৩ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় হাসামদিয়া বাজারসহ শতাধিক বাড়ি-ঘর। স্বাধীনতা ৪৭ বছর পরও সেখানে সরকারি উদ্যোগে নির্মিত হয়নি কোন স্মৃতিস্তম্ভ। এখনো স্বীকৃতি পায়নি শহীদ পরিবারগুলো। সরকারের কাছে নিহতদের শহীদের মর্যাদা দেওয়ার দাবি এলাকাবাসী ও শহীদ পরিবারে।

ফরিদপুরের তৎকালিন মুজিব বাহিনীর কমান্ডার সাবেক এমপি শাহ মো. আবু জাফর জানান, ১৬মে ভোরে যশোর সেনানীবাস থেকে মেজর নেওয়াজের নেতৃত্বে তিন শতাধিক পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ঢুকে পড়ে ফরিদপুরে হাসামদিয়া গ্রামে। সেইদিন আমাকে হত্যা করতে এসে, না পেয়ে তারা কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে গ্রামে প্রবেশ করে। শুরু করে নির্বিচারে গণহত্যা, অগ্নি সংযোগ, লুটপাট, ধর্ষণ।

তিনি আরো জানান, স্থানীয় রাজাকার আলবদরদের সহায়তায় হানাদার বাহিনী হাসামদিয়া বাজার পুড়িয়ে দেয়। এরপর তারা হিন্দু অধ্যুষিত রাজাপুর রামনগর গ্রামে ঢুকে অর্ধশত নারীকে ধর্ষণ ও এসময় ওই এলাকার ৩৩জন হিন্দু ধর্মের মানুষকে কুমার নদের পাড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এদিন তারা আশে-পাশে আরো ৫টি গ্রামে চালায় ধ্বংসযজ্ঞ।

নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যরা জানান, গ্রামে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এসে আগ্নি সংযোগ করে মানুষ হত্যা করে। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর আজও কেন শহীদদের স্মরণে সরকারি উদ্যোগে স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তোলা হয় নি। শাহ মো. আবু জাফর দাবি জানিয়ে বলেন, এই গণহত্যায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা আজও পায়নি রাষ্ট্রিয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি। আমরা ব্যক্তি উদ্যোগে দিবসটি পালন করলেও সরকারি ভাবে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয় না। বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকাবস্থায় তিনি ২ হাজার করে টাকা দিয়েছিলেন, তার মৃত্যুর পর আর কেউ খোজ নেয়নি তাদের।শাহ জাফর টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ লিয়াকত হোসেন লিটন জানান, দিবসটি উপলক্ষে শহীদ স্মরণ কমিটি ১৬ মে সকালে হাসামদিয়া শাহ জাফর টেকনিক্যাল কলেজ চত্বরে স্থাপিত শহীদ স্মৃতি মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।