menu

অনলাইনে নাম না থাকায় ভাতা বঞ্ছিত ৫ মুক্তিযোদ্ধা

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
  • ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অনলাইনে নাম না আসায় মির্জাপুর উপজেলার ৫ জন মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতাসহ সকল প্রকার সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন যাবত বঞ্চিত হচ্ছেন। কল্যাণ ট্রাস্ট ও ইবি (ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট) নম্বর থাকা সত্ত্বেও গত ৩ বছর ধরে ভাতার জন্য তারা আবেদন করেও এখনও তাদের ভাগ্যে সম্মানি ভাতা মিলেনি বলে ভুক্তভোগী এসব মুক্তিযোদ্ধারা জানিয়েছেন।

মির্জাপুরের এই ৫ মুক্তিযোদ্ধা হলেন এই উপজেলার কদিম দেওহাটা গ্রামের যোগেশ চন্দ্র সরকর ( কল্যান ট্রাস্ট নং- ৫০১৫৭), নুতন কহেলা গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেন (কল্যাণ ট্রাস্ট নং-৫২২৫, ইবি নং- ৬৯৯), আটিয়া মামুদপুর গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম (কল্যাণ ট্রাস্ট নং ১৭৩৮, ইবি নং-১৩১৯/২০৬৩), জগত ভাররা গ্রামের প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক (কল্যাণ ট্রাস্ট নং-১৭৪৬, ইবি নং- ১৬১৩) এবং কালামজানি গ্রামের প্রয়াত হাসান আলী (কল্যাণ ট্রাস্ট নং ৫১৭৭, ইবি নং ৭৪৭)।

১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে এই মুক্তিযোদ্ধারা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তোড়া ১ ও ২নং ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শেষে ১১নং সেক্টরের ৪৫ এবং ৭নং কোম্পানির অধীনে বিভিন্ন রনাঙ্গনে পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। যুদ্ধকালীন এদের কোম্পানি কমান্ডার ও সহকারী কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন যথাক্রমে মঞ্জুর কাদের শাজাহান ও টাঙ্গাইল-৭, মির্জাপুরের বর্তমান সাংসদ মো. একাব্বর হোসেন এবং আজমত আলী ও আবুল হোসেন বলে এই হতভাগ্য মুক্তিযোদ্ধারা জানিয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র সরকার জানান, স্বাধীনতার পরই সংসারের পুরো দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত হয়। যার দরুন লাল মুক্তি বার্তা এবং গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্ত হবার কোন খোঁজ রাখা সম্ভব হয়ে উঠেনি। মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন জানান, স্বাধীনতার পর সংসারের অভাব অনটন দূর করতে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। চাকরির সময় বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করার কারণে কখন লাল মুক্তি বার্তা কখন গেজেট হয়েছে তার কোন খোঁজ রাখা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

আটিয়া মামুদপুর গ্রামের হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম জানান, যুদ্ধ থেকে ফিরে যে এক খ- জমি ছিল তাই চাষাবাদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। এছাড়া সমাজের কিছু দুষ্ট শ্রেণীর লোকের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় অনেকদিন গা ঢাকা দিয়েও থাকতে হয়েছে। সেজন্য কখন মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট হয়েছে তা জানা সম্ভব হয়নি। একই কথা জানিয়েছেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাকের স্ত্রী সাজেদা বেগম ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলীর ছেলে সালাম মিয়া। তারা আরো জানান, তারা গত ২০১৫ সাল থেকে সম্মানি ভাতার জন্য আবেদন করে আসছেন। মুত্কিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন টেবিলেও তারা ঘোরফেরা করেছেন। কিন্তু অনলাইনে নাম না আসায় তাদের ভাগ্যে সম্মানি ভাতা অদ্যবধি মিলেনি বলে জানা গেছে।

মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযেদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার অধ্যাপক বিশ্বাস দুর্লভ চন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার ব্যাপারে টাঙ্গাইলের এর আগের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম,কিন্তু অনলাইনে নাম না আসায় তাদের নামে সম্মানি ভাতা বরাদ্দ সম্ভব হয়নি। সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম মহাসচিব আসাদুজ্জামান আরজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভারত প্রতিশক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদেরই কেবল কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ইবি নম্বর থাকে। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা ভাতা প্রদান কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনলাইনে নাম না আসায় মির্জাপুরে উল্লেখিত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা না দেয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি উল্লেখিত মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ট্রাস্ট অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।