menu

চোরকে বেত্রাঘাত করার জের

মধুপুরে করলা খেত কেটে সাবাড় : দিশেহারা কৃষক

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
  • ঢাকা , রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৯
image

মধুপুর (টাঙ্গাইল) : বিনষ্ট হওয়া করলা ক্ষেত -সংবাদ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ৩২ শতাংশ জমির করলা খেত কেটে সাবাড় করেছে দুর্বৃত্তরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান করলা খেত পরিদর্শন করেছেন।

জানা যায়, মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা গ্রামের কৃষক মোহম্মদ আলীর ছেলে আকতার হোসেন কালু তার ভাইয়ের বাড়ির পালানে ৩২ শতাংশ জমিতে স্থানীয় পাইকারদের কাছ থেকে দাদন ও ধার দেনা করে উচ্চ ফলনশীল জাতের করলা চাষ করেন। অতিযতেœ গড়ে তোলা করলা খেত গাছে মাঁচা ছেয়ে গেছে। থোকায় থোকায় ধরেছে করলা। হঠাৎ করে গত শুক্রবার সকালে কালু মিয়া ঘুম থেকে উঠে খেতে গিয়ে দেখতে পায় তার ৩২ শতাংশ জমির করলা গাছ কেটে সাবাড় করেছে। গাছগুলো মরা মরা। স্থানীয়রা এ খবর শুনে এসে দেখতে পায় গোরাসহ পুরো জমির গাছ তুলে ফেলেছে। এ ব্যাপারে কৃষক আকতার হোসেন কালু মিয়া জানায়, সে ধার দেনা ও দাদন নিয়ে গত কার্তিক মাস থেকে তার ৩২ শতাংশ জমিতে করলা চাষ করে যতœ করে আসছেন। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এ জমিতে কাজ করেন। গাছে করলা ধরেছে। বিক্রিও শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, গত চার দিন আগে একই গ্রামের টানপাহাড় এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে আরশেদ আলী তাদের এলাকা থেকে করলা চুরি করলে স্থানীয়রা ধরে ফেলে। সেখানে গিয়ে চুরির অভিযোগে আরশেদ আলীকে আকতার হোসেন কালু একটি বেত্রাঘাত করে। কালু মিয়ার ধারনা এ শত্রুতা থেকে আরশেদ আলী তার খেতের করলা গাছ কেটে দিতে পারে। তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত তার করলা খেতের খরচ হয়েছে ২০-৩০ হাজার টাকা। শেষ পর্যন্ত করলা বিক্রি করতে পারলে লক্ষাধিক টাকা হাতে পেতো বলে তার ধারণা। এখন এ কৃষক ধার দেনা ও ঋণ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। একই গ্রামের আব্দুস সালাম (৩৫), হাসমত আলী (৭৫) ও বিল্লাল হোসেন (৫০) জানায়, আমরা গিয়ে করলা খেত দেখেছি এভাবে মানুষ ক্ষতি করতে পারে ধারণা করা যায়না। এ ব্যাপরে স্থানীয় কুড়াগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক সরকার জানায়, আমি সরজমিনে দেখতে গিয়েছিলাম। তার ৩২ শতাংশ জমির পুরোটাই করলা গাছের গোরা টেনে তুলে ফেলেছে। এতে এ হতদরিদ্র কৃষকটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যেই এই ক্ষতিকর কাজটি করে থাক এটা ঘৃণিত ও ন্যাক্কারজনক। এই কাজটি যেই করে থাক তার উচিত বিচার হওয়া দরকার।