menu

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

পাড়া-মহল্লা ফের সরগরম

সংবাদ :
  • সংবাদ জাতীয় ডেস্ক
  • ঢাকা , রবিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৯
image

চকরিয়া (চট্টগ্রাম) : (উপরে) রেজাউল করিম, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, আমিনুর রশিদ দুলাল, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, (নিচে) মহসিন বাবুল, ফজলুল করিম সাঈদী, আজিমুল হক আজিম, জাহেদুল ইসলাম লিটু ও নুরে হাবিব তছলিম -সংবাদ

একাদশ সংসদ নির্বাচন পার হতে না হতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে চা দোকানগুলো এখন সরগরম। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি করছেন গণসংযোগ। তবে এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরব হলেও বিএনপিসহ অন্যরা নীরব। আমাদের প্রতিনিধিদের তথ্যে বিস্তারিত :

বদলগাছী (নওগাঁ)

নওগাঁর বদলগাছীতে নববর্ষের শুভেচ্ছা পোস্টারের আড়ালে বইতে উপজেলা নির্বাচনী হাওয়া। এ উপজেলায় আওয়ামী লীগ থেকে রয়েছে ৬ মনোনয়ন প্রত্যাশী। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ৬ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে থেকে ৩ জন নর্ববর্ষের শুভেচ্ছা পোস্টারে জনগণকে প্রার্থিতা জানান দেবার পাশাপাশি গণসংযোগ শুরু করেছেন। তবে বিএনপি রয়েছে নীরব। অপর ৩ জনও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনাও শুরু করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. আ.জা.ম শফি মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক আবু খালেদ বুলু, আওয়ামী লীগ নেতা বালুভরা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মো. আয়েন উদ্দীন, মিঠাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মিঠাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হোসেন, পাহাড়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পাহাড়পুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কিশোর এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও আধাইপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সামসুল আলম খাঁন।

এর মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু খালেদ বুলু, মিঠাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মিঠাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হোসেন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও আধাইপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সামসুল আলম খাঁন দ্বয় এলাকায় নর্ববর্ষের শুভেচ্ছা পোস্টার লাগানোর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জনসংযোগ শুরু করেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু খালেদ বুলু জানান, উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আমি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি। এছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে আরও ৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে তিনি জেনেছেন। অন্যান্য দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কে বা কারা তা এখনও জানা যায়নি।

চকরিয়া (কক্সবাজার)

উপজেলা চেয়ারম্যানের পদে আসতে আওয়ামী লীগের প্রথম সারির একাধিক নেতা প্রস্তুতি নিয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকে দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে মনোনয়ন লুপে নিতে তদবিরও শুরু করেছেন। নির্বাচনে নিজের পক্ষে সমর্থন ও দোয়া চেয়ে মাঠে তারা ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। প্রতিদিনই নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় ও কুশলবিনিময় করে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর এবারের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগে নতুন মুখের ছড়াছড়ি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অন্তত দশজন প্রার্থীর নাম আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে। নতুনদের সঙ্গে নির্বাচনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিমও প্রার্থী হবেন বলে শুনা যাচ্ছে। রেজাউল করিম ছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা আমিনুর রশিদ দুলাল, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফাসিয়াখালীর চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি শ্রমিক নেতা আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পশ্চিম বড়ভেওলার চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবিল ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম লিটু এবং আওয়ামী লীগ নেতা নুরে হাবিব তছলিম।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নতুন সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন এমপি আলহাজ জাফর আলমের সঙ্গে উপজেলা নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এসব নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। আছে ঐক্যমত। তবে এখন দেখার বিষয় নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়ন প্রাপ্তি তিনি কার পক্ষে সায় দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধারণা, নতুন এমপি আলহাজ জাফর আলম এখন সম্ভাব্য প্রার্থীদের সামনের তুরোপের তাস। তিনি যাকে সমর্থন দেবেন তিনিই দলের মনোনয়ন পাবেন। নির্বাচনে তিনিই বিজয়ী হবেন এটি শতভাগ।

তবে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি, এবারের উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে টাকার বিনিময়ে দলের মনোনয়ন দেয়ার বদলে দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আছে এ ধরনের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হোক। যারা দলের এবং বিভিন্নভাবে দায়িত্ব থেকে সুফল পেয়েছেন তাদের বদলে যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের কাছে বঞ্চিত হয়েছেন তাদের মূল্যায়ন করা হোক।

ঝিনাইগাতী (শেরপুর)

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নড়ে চড়ে বসেছেন। প্রার্থীরা যে যার মতো দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশার পাশাপাশি ভোট প্রার্থনা করছেন। ৭ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ। বিগত ২০০৯ সালের নির্বাচনে ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম ওয়ারেজ নাইমকে পরাজিত করে আমিনুল ইসলাম বাদশা উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম ওয়ারেজ নাইমকে পরাজিত করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাদশা আবারও উপজেলা চেয়ারম্যান হন। এদিকে সম্ভব্য আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় প্রার্থীরা দলের হাই কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ, বিভিন্ন তদবির, লবিং-গ্রুপিংসহ নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৪ জন ও বিএনপির ১, জাসদের ১ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম ওয়ারেজ নাইম, সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান লেবু, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ফারুক আহমেদ। বিএনপির প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা ও জাসদের প্রার্থী উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক একেএম ছামেদুল হক।