menu

বদরগঞ্জে যমুনেশ্বরী নদীর বালু লুট

আ’লীগ নেতার কাছে অসহায় প্রশাসন

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, বদরগঞ্জ (রংপুর)
  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ মে ২০১৮
image

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার যমুনেশ্বরী নদীর বিভিন্ন চর থেকে এভাবেই লুট করা হচ্ছে বালু -সংবাদ

রংপুরের বদরগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার দাপটে পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছে প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান কিংবা ভূমি অফিসের দেয়া মামলা কোনটাই কাজে আসছে না। বরং প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যমুনেশ্বরী নদীর একাধিক চরে বালু লুটের মহোৎসব চলছে।

জানা যায়, গত বছরের নভেম্বরে যমুনেশ^রী নদীর মাধাইখামার চরে বালু উত্তোলনের জন্য স্কাভেটরসহ ভারি ভারি ট্রাক অবস্থান নেয়। কিন্তু প্রশাসনিক বাধার মুখে বালু লুটের সাথে জড়িতরা সেখান থেকে স্কাভেটরসহ ট্রাক সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। তবে কয়েকদিন পর মিঠাপুকুরের শাল্টিরহাট এলাকার ভূমিদস্যু মিজানুর রহমানের নির্দেশে স্কাভেটরসহ ভারি ট্রাকগুলো কুতুবপুর ইউনিয়নের সোনারপাড়া চরে অবস্থান নেয়। কিন্তু লোহানীপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রানা ও যুগ্মসম্পাদক হারুন অর রশিদ ভূমিদস্যু মিজানুরকে হটিয়ে বালু লুটের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয়। কিন্তু বালু বিক্রির টাকা-পয়সার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম রানা বালু লুটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ফলে এর পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে যায় হারুন অর রশিদের হাতে। তখন থেকে এ পর্যন্ত হারুণের নেতৃত্বেই যমুনেশ^রীর একের পর এক চর থেকে বালু লুট করা হচ্ছে। সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে জানা গেছে- যারাই ওই বালু লুটে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন তাদের নানাভাবে নির্যাতন করছে ওই এলাকার আওয়ামী লীগ ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা। আর তাদের সহযোগিতা করছেন বদরগঞ্জ থানার এক অসাধু কর্মকর্তা। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদুল হকের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই এলাকায় দু’বার অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বহনের জন্য ট্রাক চালকদের অর্থ জরিমানা করলেও মূল হোতারা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেছেন। তবে গত ১৫ মার্চ লোহানীপাড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আখেরুজ্জামান মন্ডল বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অথচ সেই মামলায়ও আওয়ামী লীগ নেতা হারুন কিংবা স্বেচ্ছাসেবকলীগের কোন নেতার নাম নেই। মামলার তদন্ত অফিসার এসআই নজরুল ইসলাম (২) জানিয়েছেন- আসামিরা জামিনে আছেন। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে আপাতত কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই বালু লুটের সঙ্গে কারা জড়িত তা সকলেরই জানা। কিন্তু নিজেকে ঝামেলা মুক্ত রাখতে কেউ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এদিকে বদরগঞ্জ থানার ওসি আনিছুর রহমান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, তিনি (ইউএনও) নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন না কেন। অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাশেদুল হক জানিয়েছেন- এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে একাধিকবার কথা বলেছি। কিন্তু তার (ওসির) কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ায় যমুনেশ^রী চরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। উল্লেখ্য, ৭ মে সংবাদের দেশ পাতায় ‘যমুনেশ^রী চরের বালু লুটের মহোৎসব’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।