menu

বদরগঞ্জ সরকারি কলেজ-

অধ্যক্ষ মাজেদের বিরুদ্ধে ৪৬ লাখ টাকা আত্মসাৎসহ প্রভাষকের সনদপত্র জালিয়াতির অভিযোগ

মাউশি’র নির্দেশে আজ তদন্ত

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, বদরগঞ্জ (রংপুর)
  • ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২০

রংপুরের বদরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মাজেদ আলী খানের বিরুদ্ধে ৪৬ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৯ টাকা আত্মসাৎসহ এক প্রভাষকের সনদপত্র জালিয়াতির অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। আজ তদন্ত কমিটি অভিযোগের তদন্তে মাঠে নামছে। তবে বরাবরের ন্যায় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ মাজেদ আলী খান। তার দাবি, অভিযোগকারীরাই নানা অভিযোগে অভিযুক্ত।

জানা যায়, কলেজ একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চারজন কলেজ শিক্ষককে অভ্যন্তরীণ অডিট সম্পন্ন করতে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরা হলেন, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুনীল চন্দ্র সরকার, প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মামুন, পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক মেনহাজুল ইসলাম এবং উদ্ভিদ বিভাগের প্রভাষক দেবাশীষ চক্রবর্তী। অডিট কমিটির সদস্যরা ২০১০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ১০ বছরের অডিট সম্পন্ন করেন। মোট আয় ব্যয়ের নয়টি খাত চিহ্নিত করে অডিট সম্পন্ন করেন সদস্যরা। আর এতেই অধ্যক্ষের ৪৬ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৯ টাকার ঘাপলা ধরা পড়ে অডিট কমিটির কাছে। তবে ২০১২ সালে গঠিত বাংলা অনার্স এবং হিসাব বিজ্ঞান অনার্স শাখার অডিট সম্পন্ন হয়নি। কারণ হিসেবে অডিট কমিটির সদস্যরা উল্লেখ করেছেন, বাংলা বিভাগের প্রধান মকবুল হোসেন খান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান মোস্তফা কামালের অসহযোগিতা এবং অনীহার কারণে ওই অডিট সম্পন্ন হয়নি। শুধুমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক ও পাস কোর্সভুক্ত তহবিলের হিসাব-নিকাশ এতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অডিট কমিটির সদস্যরা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাংলা ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের দুই প্রধান ও অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের বেতন ও অন্যান্য ফি কলেজের অফিস সহকারী বা ক্যাশিয়ারকে বাদ দিয়ে নিজেরা রশিদমূলে বা রশিদবিহীন আদায় করেছেন।

এদিকে বাংলা বিভাগের প্রভাষক শামীম আল মামুন তার সনদপত্র জালিয়াতি করেছেন অধ্যক্ষ, এমন অভিযোগ এনে রংপুরের সিনিয়র জুডিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মাজেদ আলী খান অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতিতে লিপ্ত হওয়ায় শামীম আল মামুন প্রতিবাদী হয়ে উঠেন। এ কারণে অধ্যক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে শামীম আল মামুনকে শায়েস্তা করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। এরই অংশ হিসেবে তিনি চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রভাষক শামীম আল মামুনের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ (সিরিয়াল নং-১০১৪২৭৭৪, রেজিঃ নং-২০১২৮৪৭৮৫৮, রোল নং-৪০১২৬০৭৭, পরীক্ষার সাল-২০১২) যাচাই করার জন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কাছে প্রেরণ করেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি এনটিআরসিএ ওই প্রভাষকের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ সঠিক বলে মতামত ব্যক্ত করেন। এরপরও শুধুমাত্র তাকে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে অধ্যক্ষ তার অনুসারীদের অনুপ্রেরণায় শিক্ষক নিবন্ধনের জাল সনদ (রোল নং-১১০৭০০৩৩, রেজিঃ নং-৭০০৩৪৯৭, পরীক্ষার সাল-২০০৭ইং) তৈরি করেন। এছাড়া সেটি সঠিক কিনা তা যাচাইয়ের জন্য ২৯ আগস্ট এনটিআরসিএ’র কাছে প্রেরণ করেন। এবারে এনটিআরসিএ ওই সনদটিকে জাল হিসেবে উল্লেখ করে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০০৭ সালে শামীম আল মামুনের এনটিআরসিএ’র পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কোন যোগ্যতা ছিল না। তিনি ২০১২ সালে এনটিআরসিএ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং উত্তীর্ণ হন। ২০১৬ সালে বদরগঞ্জ কলেজ সরকারিকরণ হলে কলেজ পরিদর্শণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিফতর (মাউশি) তিনজন কর্মকর্তাকে প্রেরণ করে। ওই কর্মকর্তারা শামীম আল মামুনের এনটিআরসিএ পরীক্ষার সার্টিফিকেটসহ অন্য সার্টিফিকেট সঠিক বলে প্রতিবেদন প্রণয়ন ও দাখিল করেন।

এদিকে অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্টের আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চ সাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) অধ্যক্ষ মাজেদ খানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা হলেন, বেগম রোকেয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর চিন্ময় বাড়ৈ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক উমর ফারুক এবং সহকারী পরিচালক আনোয়ার পারভেজ।

আজ তদন্ত কমিটির সদস্যরা অধ্যক্ষ মাজেদ আলী খানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ ব্যাপারে জানতে অধ্যক্ষ মাজেদ আলী খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভ্যন্তীরণ অডিট কমিটি কাজ শুরু করলেও অনৈতিকভাবে ১০ বছরের জের টেনেছে। কারণ প্রতি তিন মাস পর পর অডিট সম্পন্ন হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে নিজের দুর্বলতা ঢাকতে সহকারী অধ্যাপক সুনীল সরকার গায়ের জোরে সবকিছু করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রভাষক শামীম আল মামুন ২০১১ সালের ১৩ জুলাই কলেজে যোগদান করেছেন। সে সময় এনটিআরসিএ সার্টিফিকেটে তার পাসের সাল ২০০৭ দেখানো হয়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তিনি যদি ২০১২ সালে এনটিআরসিএ পাস করেন তাহলে ২০১১ সালে তিনি কোন সার্টিফিকেট বলে কলেজে যোগদান করেছেন।