menu

হস্তশিল্প রপ্তানি বেড়েছে ২২ শতাংশ

কর্মসংস্থান তৈরিতে সম্ভাবনাময় খাত

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯
image

আয় বাড়ছে হ্যান্ডিক্রাফটস বা দেশীয় হস্তশিল্প রপ্তানিতে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) আয় হয়েছে এক কোটি ৭১ লাখ মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে হ্যান্ডিক্রাফটের সম্ভাবনা অনেক। কারণ, এখানে অল্প টাকায় দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যায়। তাই দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রচুর পরিমাণে হ্যান্ডিক্রাফট বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে। তাই দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে হ্যান্ডিক্রাফটস রপ্তানির পরিমাণ ছিল এক কোটি ৪০ লাখ ডলার। আর পুরো বছরে রপ্তানি হয় এক কোটি ৬৭ লাখ ডলার। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে রপ্তানি হয়েছে এক কোটি ৭১ লাখ ডলারের হ্যান্ডিক্রাফটস পণ্য। ফলে দশ মাসেই উচ্চ প্রবৃদ্ধি এসেছে এ খাত থেকে।

তবে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দশ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) হিসাবে মোটামুটি ভালো প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এই দশ মাসে ৩ হাজার ৩৯৩ কোটি ৭৩ লাখ (৩৩.৯৪ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানির এই অংক গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি।

জুলাই-এপ্রিল সময়ে মোট রপ্তানির লক্ষ্য ছিল ৩ হাজার ১৯০ কোটি ৯০ লাখ (৩১.৯০ বিলিয়ন) ডলার। গত অর্থবছরে এই দশ মাসে আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৪০ কোটি ৬৪ লাখ (৩০.৪০ বিলিয়ন) ডলার।

বাংলাদেশ হস্তশিল্প প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বাংলাক্রাফট) তথ্য অনুযায়ী, শতরঞ্জি, বিভিন্ন আকৃতির ঝুড়ি, পাটের তৈরি থলে, পাপোশ, টেরাকোটা, মোমবাতি, নকশিকাঁথা, পাখির খাঁচা, বাঁশ ও বেতের বিভিন্ন সামগ্রী, চামড়ার তৈরি মুদ্রার বাক্স, বেল্টসহ বিভিন্ন ধরনের হস্তজাত পণ্য রপ্তানি করছেন উদ্যোক্তারা। এছাড়া দেশের ভেতরে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার বাজার আছে এ শিল্পের।

বাংলাক্রাফটের সভাপতি ও নিপুন ক্রাফটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুর রহমান বলেন, গত কয়েকবছরে দেশে-বিদেশে হস্তশিল্পের অনেক কদর বেড়েছে। ঘর সাজানো থেকে শুরু করে আসবাবপত্র ও বিভিন্ন নকশি ডিজাইন এখন সবার নজর কাড়ছে। বিক্রিও হচ্ছে দেদার। শুধু তাই নয়, এসব পণ্যের কদর দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, তবে হস্তশিল্পের যে অসীম সম্ভাবনা রয়েছে সেটা আমরা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছি না। এর প্রধানতম কারণ হলো কেন্দ্রিয়ভাবে কোন প্রদর্শনব্যবস্থা না থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে এসব পণ্যের অধিকাংশই পৌঁছায় না। এছাড়া পণ্যের নকশা, কারুশিল্পীদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার জন্য নেই কোন প্রতিষ্ঠানও। সরকারের দিক থেকে এসব সমস্যা সমাধানে জোরালো উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

আশরাফুর রহমান বলেন, চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড মূলত হ্যান্ডিক্রাফট উৎপাদনের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত, তারা এখন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রির দিকে যাচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ আছে। আগে এসব পণ্যের ক্রেতা বাংলাদেশে আসত না, এখন তারা বাংলাদেশে আসছেন। তাই বিভিন্ন আঙ্গিকে এসব পণ্যের বাজার তৈরি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বাংলাক্রাফটের তথ্যমতে, বিশ্বের ৫০টির বেশি দেশে বর্তমানে হ্যান্ডিক্রাফট রপ্তানি হচ্ছে। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো মূলত বাংলাদেশের হ্যান্ডিক্রাফটের বড় বাজার।

বর্তমানে কারুপণ্য রংপুর, ঢাকা ট্রেড, আস্ক হ্যান্ডিক্রাফটস, কুমুদিনী, আড়ং, নিপুণ ক্রাফটস, সান ট্রেড, হিড হ্যান্ডিক্রাফটস, ক্রিয়েশনসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠান হস্তশিল্প পণ্য রপ্তানি করছে। বর্তমানে বাংলাক্রাফটের সদস্য সংখ্যা ৪০০।