menu

বাণিজ্য মেলা ২০১৯

মেলা শুরু হলেও শেষ হয়নি প্রস্তুতি

সময় পরিবর্তনের প্রভাব বলছেন কর্তৃপক্ষ

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯
image

২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা গত বুধবার শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনও প্রায় দুই তৃতীয়াংশ স্টলের প্রস্তুতি শেষ হয়নি। কোন কোন স্টলে এখনও খুঁটি বসানোর কাজ চলছে। কোন স্টলে সামান্য কাজ বাকি আছে। আবার কোন কোন স্টলের কাজ গতকালই শেষ হলো। এছাড়া মেলার দ্বিতীয় দিন গতাকল দর্শনার্থীও খুব বেশি দেখা যায়নি। মেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিবছরই প্রস্তুতির পর্বটা এমনই হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই জমজমাট মেলা শুরু হবে। আর বিক্রেতারা প্রত্যাশা করছেন আজ ছুটির দিন থাকায় দর্শনার্থীও বাড়বে।

প্রতিবছরের মতো এবারও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ মেলার আয়োজন করছে। ইপিবির পরিচালক (ফাইন্যান্স) ও মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব (উপ-সচিব) মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে মেলা শুরু হয়। নির্বাচনের কারণে এবার সময় পরিবর্তন হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দর্শনার্থীর মধ্যে। প্রতিবছর শুরুটা এমনই হয় বলেও তিনি মনে করছেন। তিনি বলেন, মেলার সব স্টল, প্যাভিলিয়নের পুরো কাজ শুরু হতে কয়েকদিন লেগে যায়। মেলার মূল চেহারা দেখা যায় ১৫ দিন পর। এখন যেসব স্থান ফাঁকা রয়েছে ১০ দিন পর এসব স্থানে পা ফেলার জায়গা নেই।

মেলার মূল গেটের কিছুটা ভেতরেই একটি স্টলে খুঁটি বসাচ্ছেন বিএম ট্রেডিং নামের এক স্টলের কর্মী রাসেল। মেলার প্রস্ততির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের পুরো কাজ শেষ হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। তবে তেমন কোন সমস্যা হবে না। কারণ মেলায় এখনও লোকজন আসা শুরু করেনি। তার পাশের স্টলে কাজ করছেন জাকির হোসেন নামের আরেক কর্মী। তিনি বলেন, গতবার এইদিনে মেলা জমজমাট ছিল। কিন্তু এবার খালি খালি লাগছে। আমরাও একটু দেরিতে প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছি। এই মেলায় দ্বিতীয় দিনে লোকজনের সমাগম খুব কমের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানুষ এবার টাইমিং ঠিক করতে পারেনি। কারণ এবারের মেলা শুরু হয়েছে প্রায় ৮ দিন পর। সময় পরিবর্তন করার কারণে অনেকে মেলা শুরুর তারিখ জানে না। এজন্য এখনও মানুষ আসা শুরু করেনি।

কিছু কিছু স্টল ও প্যাভিলিয়ন প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো আরএফএলের প্যাভিলিয়ন। কোম্পানিটি প্রথম দিন থেকে বেচাকেনা করছেন। মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন ছাড়েরও ব্যবস্থা করেছে তারা। কিছু কিছু প্লাস্টিক পণ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে কোম্পানিটি। এছাড়াও একটি কিনলে এটি ফ্রি বা দুইটি কিনলে একটি ফ্রি-এমন অনেক ছাড়ের সমাহার তাদের প্যাভিলিয়নে। বিক্রেতা সৈকত বলেন, মেলার প্রথমদিন থেকেই আমরা বেচাকেনা করছি। দর্শনার্থীর সমাগম কম। তারপরও আমাদের বেচাকেনা ভালো হচ্ছে।

ড্রেসলাইন নামের একটি স্টলে মেয়েদের পোশাকের বাহারী সমাহার। নানা রকম কারুকার্য করা পোশাক স্টলের চারিদিকে সাজানো আছে। স্টলে ঢুকে দেখা যায়, একই সঙ্গে ভেতরে মোট পাঁচজন বিক্রেতা রয়েছে। তারা সবাই ক্রেতাদের নিয়ে ব্যস্ত। ক্রেতা কম থাকলেও বেচাকেনাও ভালো। স্টলটির কর্মী মুহাম্মদ বলেন, আমরা প্রথমদিন থেকেই বেচাকেনা করছি। কর্মী কম তবে বেচাকেনা ভালো। শেষের দিকে অনেক ভিড় হবে। তাই অনেক ক্রেতা প্রথমদিকেই মেলায় এসেছেন ভিড় এড়ানোর জন্য।

আকবর নামের এক দর্শনাথীকে মেলায় আগমন সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, মেলা এখনও ভালোমতো শুরু হয়নি। তবে এখনই ভালো লাগছে। ভিড় অনেক কম। ভালোমতো ঘুরতে পারছি। কমদামি ব্লেজার কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু যে দাম চাইছে তাতে মনে হচ্ছে ব্লেজার না কিনেই ফিরে যেতে হবে, কারণ দাম অনেক বেশি চাইছে। তবে মেলার শেষ দিকে তারা কম দামেই বিক্রি করবে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি মেলা শুরু হলেও এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে বাণিজ্য মেলা এক সপ্তাহ দেরিতে শুরু হয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে প্রধানমন্ত্রী এ মেলার উদ্বোধন করলেও এ বছর মেলা উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি। মেলায় ছোট বড় মিলিয়ে ৬০৫টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯টি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, ১৯টি সাধারণ প্যাভিলিয়ন, ২৬টি বিদেশি প্যাভিলিয়ন, ছয়টি সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন, ৩২টি সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন, ৩৬টি প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন, নয়টি বিদেশি মিনি প্যাভিলিয়ন, ছয়টি সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন, ৬৮টি প্রিমিয়ার স্টল বিদেশি, ১৭টি প্রিমিয়ার স্টল, ২৯৫টি সাধারণ স্টল, ৩০টি ফুড স্টল এবং দুটি রেস্তোরাঁ। প্রতিবছরের মতো খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে এবারও থাকবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের একটি বিশেষ বুথ। মেলায় থাকছে মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্ক ও পর্যাপ্ত এটিএম বুথ, তৈরি পোশাক পণ্য, হোমটেক্স, ফেব্রিকস পণ্য, হস্তশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালি ও উপহারসামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। আরও থাকছে তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টিক পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনী সামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণ সামগ্রী ও ফার্নিচার সামগ্রী।