menu

বিজেএমসি’র সব মিলের হিসাবে চান পাটমন্ত্রী

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

বিজেএমসি’র (বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন) কোন মিলের আর্থিক অবস্থা কেমন তা আলাদাভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে উপস্থাপন করতে নির্দেশ দিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। গতকাল মতিঝিলে বিজেএমসি ভবনে আয়োজিত উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মিলের প্রকল্প প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, কোন মিল লাভে আছে আর কোন মিল লোকসানে আছে সেটা বের করতে হবে। বেসরকারি মিলগুলো লাভে থাকলে সরকারি পাট মিলগুলো কেন লোকসানে আছে সেটা জানতে হবে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তা আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে হবে। চাহিদা নির্ধারণ ও বাজার বিশ্লেষণ করে বিজেএমসিকে পণ্য উৎপাদন করতে হবে যাতে পণ্য অবিক্রিত না থাকে। বিজেএমসির মিলগুলোকে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হবে। পাট খাতের উন্নয়নে কোন ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুশাসন চাই, ভালো ব্যবস্থাপনা চাই। পাট শিল্পকে ধ্বংস হতে দেয়া যাবে না। এক্ষেত্রে কোন ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। দুর্নীতি থাকলে পাটখাত কোন দিন উন্নত হবে না। এখাতে দুর্নীতি দূর করার সঙ্গে সঙ্গে সুশাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই পাট শিল্প টিকে থাকবে।

বিজেএমসি’র চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আরও বলেন, বিজেএমসিকে নিজের টাকায় নিজেদের চলতে হবে। বারবার সরকারের কাছে হাত পেতে চলা যাবে না। কতদিন ধার করে চলবেন। কোথায় কোথায় দুর্নীতি হচ্ছে খুঁজে বের করুন। কারা দুর্নীতিগ্রস্ত চিহ্নিত করুন। প্রয়োজনে শাস্তির আওতায় আনুন। একই সঙ্গে সরকারি পাট মিলে শ্রমিকের সংখ্যা কত, শ্রমিকরা ওভারটাইম পাচ্ছে কিনা সেটাও খুঁজে বের করুন। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হচ্ছে, সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠান লোকসান গুনবে, মেনে নেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, এক সময় বাংলাদেশের পাটের কদর বিশ্বময় ছিল। বর্তমান সরকার দ্রুত সময়ে সারাবিশ্বে পাটের জয়জয়কার দেখতে চায়। মুক্তিযোদ্ধারা পাটের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার মধ্যেও পাটের জন্য দাবি ছিল। সেই পাট খাত ধ্বংস হতে পারে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাটকে ভালোবাসেন। তাই পাটের উন্নয়নে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান বলেন, পাট সোনালী আঁশ। পাট বেঁচে থাকলে অর্থনৈতিকভাবে আমরাও বেঁচে থাকব। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাটকে ষড়যন্ত্র করে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এরপর বর্তমান সরকার এই পাটকে আবার স্বর্ণযুগে নিতে কাজ করছে। এই পাট একদিন আবার রপ্তানিতে এক নাম্বারে থাকবে। স্বাধীনতার সময় ৭৭টি পাটকল ছিল যা এখন ২৬টিতে এসেছে। আমাদের পাট সারাবিশ্বে সবচেয়ে ভালো পাট। মতবিনিময় সভায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান, বিজেএমসির চেয়ারম্যান শাহ মো. নাছিম, বিজেএমসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।