menu

বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী ভারতীয় উদ্যোক্তারা

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮

বাংলাদেশের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারতীয় উদ্যোক্তারা। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ চিকিৎসা সেবা এবং এদেশের শিক্ষা খাতে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের আগ্রহ দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করেন ভারতের কলকাতার বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি চন্দ্র শেখর ঘোষ।

গতকাল ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্টির (এফবিসিসিআই) মিলনায়তনে ভারতের বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সফররত ১৮ সদস্য বিশিষ্ট এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি মি. চন্দ্র শেখর ঘোষ। এফবিসিসিআই সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন। এফবিসিসিআই পরিচালকবৃন্দ ও সংগঠনের সদস্য সংস্থাগুলোর প্রধানরা আলোচনায় অংশ নেন। বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মি. চন্দ্র শেখর ঘোষ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যকার পরিবেশ, সংস্কৃতি ও খাবার ইত্যাদির সামঞ্জস্যের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, প্রতিবেশী দেশ দুটির বাণিজ্য উদ্যোক্তারা চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতে যৌথভাবে কাজ করে উপকৃত হতে পারেন। ভারতীয় উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য আরও বাড়াতে দুদেশের স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপরে গুরুত্বারোপ করেন।

চন্দ্র শেখর ঘোষ বলেন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, যার ফলে বাংলাদেশে আরও বেশি হারে ভোগ্যপণ্যের পাশাপাশি অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বেঙ্গল চেম্বারের সভাপতি বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আরও বেশি হারে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার ওপরে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, মাথাপিচু আয় বৃদ্ধিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে, যা বর্তমানে প্রায় ১৭৫২ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং এতে প্রতীয়মান হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনীতির একটি দেশ হিসেবে এখন বিশ্বস্বীকৃত, এবং সম্প্রতি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে অভিযাত্রার যোগ্যতা অর্জন করেছে, তাই বৃহৎ বাজারের প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্য অংশীদার হতে পারে। দেশ দুটির বিদ্যমান বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্ভাবনাগুলো খুঁজে দেখা দরকার বলে এফবিসিসিআই সভাপতি উল্লেখ করেন।

এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে প্রযুক্তি এবং জ্ঞান বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

এর আগে মঙ্গলবার ডিসিসিআইতে আয়োজিত ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)’র সঙ্গে বাংলাদেশে সফররত কলকাতার বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধি দলের মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনায় অনুষ্ঠিত হয়। এই বাণিজ্য আলোচনায় ডিসিসিআইর সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। তিনি দুদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা বিশেষ করে শুল্ক বিষয়ক প্রতিবন্ধকতা নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে ডাবল হুইলার মোটরযানের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এখাতের পাশাপাশি টায়ার শিল্পে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন।

ডিসিসিআইর সভাপতি বলেন, ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশ একটি সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করছে। এক্ষেত্রে চীন, আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলো ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যে (সেভেন সিস্টার) পণ্য রপ্তানি করতে বাংলাদেশে আরও বেশি হারে উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গত বছর ভারত সরকার বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে। তিনি এ বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বেঙ্গল চেম্বারের প্রতি আহ্বান জানান।

ডিসিসিআই সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে এবং প্রযুক্তি বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় খাত। তিনি এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য বেঙ্গল চেম্বারের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান। ডিসিসিআই’র পরিচালক খন্দকার রাশেদুল আহসান ভারতের ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬৭২ দশমিক ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ভারতে রপ্তানি করে এবং ভারত থেকে ৬১৬২ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলো হচ্ছে পাট ও পাটজাত পণ্য, ওভেন গার্মেন্টস, কৃষিজাত পণ্য, প্রকৌশল সমগ্রী এবং নিটওয়্যার। আর ভারত থেকে মুলত টেক্সটাইল এবং টেক্সটাইল সামগ্রী, সবজি, মেশিনারি এবং ইলেক্ট্রিক সামগ্রী এবং রাসায়নিক সামগ্রী আমদানি করা হয়।