menu

তৈরি পোশাক খাতে উৎসে কর কমছে

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ০৯ অক্টোবর ২০১৯
image

তৈরি পোশাক খাতে উৎসে কর দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পোশাক খাতের ওপর উৎসে কর কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে এনবিআর। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এটি আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখানে ভেটিং শেষে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এবিষয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এনবিআরের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে তৈরি পোশাক খাতের উৎসে কর ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ কোন গার্মেন্টস মালিক ১০০ টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি করলে তার বিপরীতে এক টাকা উৎসে কর দেয়ার কথা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোন গার্মেন্টস মালিক ১০০ টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি করলে তার বিপরীতে ২৫ পয়সা উৎসে কর হিসেবে দিতে হবে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পোশাক মালিকদের কখনও ১ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হয়নি। প্রতিবছর বাজেটে অথবা পরে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কর কমানো রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এর আগে এই বছরের ২ জানুয়ারি দশমিক ৬০ থেকে কমিয়ে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে দশমিক ২৫ শতাংশ হারে উৎসে কর নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ১ শতাংশ থেকে দশমিক ৪০ শতাংশ কমিয়ে দশমিক ৬০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এবারও বাজেটের পর তৈরি পোশাক মালিকরা উৎসে কর কমাতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করলে তিনি উৎসে কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন। সে অনুযায়ী গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে উৎসে করের পাশাপাশি বিশেষ নগদ সহায়তা প্রদানেরও সুপারিশ করা হয়। এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানকে চিঠি দেন। চিঠিতে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে এই অর্থবছরে আরোপিত উৎসে কর এক শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ করার অনুরোধ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, দশমিক ২৫ শতাংশ উৎসে করকে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য করা এবং তা গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর করতে অনুরোধ জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, আমাদের নানা রকম বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ আছে। একের পর এক কারখানা বন্ধ হচ্ছে। অর্ডার কমে যাচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উৎসে কর দশমিক ২৫ শতাংশ করা হলে আমাদের কিছুটা উপকার হবে। তবে আমাদের টিকে থাকার জন্য আরও সহায়তা জরুরি। উৎসে কর কমানো ছাড়াও আমরা শর্তহীনভাবে ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের দেয়া হয়েছে মাত্র এক শতাংশ। তাও এই এক শতাংশ সহায়তার জন্য চারটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়।

জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাতে উৎসে কর ছিল দশমিক ৩০ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেটে তা দ্বিগুণ করে দশমিক ৬০ শতাংশ করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে উৎসে কর এক দশমিক ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দশমিক ৭০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। একই হারে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উৎসে কর দেন উদ্যোক্তারা। শেষ পর্যন্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এটি দশমিক ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। উৎসে কর কমানো হলে প্রায় ২০০ কোটি টাকার মতো রাজস্ব কম আদায় হবে।