menu

জিএসপি সুবিধা না থাকায় দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০১৯
image

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের অবাধ বাজার সুবিধা (জিএসপি) না থাকায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। দেশের ভাবমুর্তির এই সংকট কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বন্ধ হওয়া জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী। তাই ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের সহায়তা চেয়েছেন মন্ত্রী। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ২৬তম ‘ইউএস ট্রেড শো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (আমচেম) প্রেসিডেন্ট নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু জিএসপি বাতিল হওয়ায় আমরা ভাবমুর্তির সংকটে রয়েছি। তাই জিএসপি ফিরে পেতে চাই। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের জিএসপি ফিরে পেতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী। রাষ্ট্রদূতকে ব্যবসায়ীবান্ধব উল্লেখ করে টিপু মুনশি বলেন, বিনিয়োগের জন্য বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক ভালো পরিবেশ রয়েছে। আমরা আশা করি আমাদের কিছু ভালো বিনিয়োগকারী পেতে রবার্ট মিলার আমাদেরকে সহায়তা করবেন। এ সময় রবার্ট মিলারের কাছে বাংলাদেশ থেকে যেসব শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, তাদের ভিসা সুবিধা সহজ করার দাবি জানান টিপু মুনশি। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও টুরিস্টদের ভিসা ব্যবস্থা সহজেরও দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রবার্ট মিলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশসহ অনেক দেশেরই জিএসপি সুবিধা স্থগিত রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এই সুবিধা ফিরে পেতে ‘প্ল্যান অব অ্যাকশন’ বাস্তবায়ন করছে। আর এতে অনেক অগ্রগতিও হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিন দিনব্যাপী ট্রেড শো’র আয়োজন করেছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ এবং ঢাকার যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। এতে দুদেশের ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মোট ৭৪টি বুথ অংশ নিচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সর্বসাধারণের জন্য টিকিটের মূল্য ৩০ টাকা এবং শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, তৈরি পোশাক কারখানার কাজের পরিবেশ ও শ্রমিকের স্বার্থ সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছিল। পোশাক খাতে কাজের পরিবেশের উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ বহাল রাখারও ঘোষণা দেয়া হয় দেশটির পক্ষ থেকে। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতে একের পর এক দুর্ঘটনা ও বিপর্যয়ের কারণে কারখানার কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এর আগে বারবার তাগিদ দিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, শ্রমমানের উন্নয়নের জন্য দেয়া শর্ত পূরণ করতে পারলে জিএসপি সুবিধা আবার ফিরে পাবে বাংলাদেশ।

এর আগে ২০০৭ সালে আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার অ্যান্ড কংগ্রেস অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল

অর্গানাইজেশন (এএফএল-সিআইও) বাংলাদেশের জিএসপি বাতিলের দাবি জানিয়েছিল। কারখানায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, অবনতিশীল শ্রম পরিস্থিতি ও শ্রমিকনেতা আমিনুল ইসলামের হত্যাকা- এবং তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকা-ের ফলে শেষপর্যন্ত এএফএল-সিআইওর পিটিশনটি গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিলের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের জন্য জিএসপি সুবিধা বাতিলের আবেদনপত্রে বলা রয়েছে, এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সব শর্ত বাংলাদেশ পূরণ করছে না। বিশেষ করে, শ্রমিক অধিকারের প্রশ্নে বাংলাদেশের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এসব ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশ সরকারের কাছে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল।

এর পরিপেক্ষিতে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সর্বশেষ গতবছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে জাপানি রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধার কোন প্রয়োজন নেই। আমরা যতই অগ্রগতি করি না কেন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা দেবে না তারা। সব শর্ত পূরণ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ সুবিধা দেবে না। আর আমাদের সুবিধার প্রয়োজনও নেই। আমরা অচিরেই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশে রূপান্তরিত হতে চলেছি। তাই জিএসপির প্রশ্নই ওঠে না। তখন জিএসপির প্রশ্ন উঠবে আমাদের সঙ্গে ইইউর সঙ্গে। যাদের কাছ থেকে আমরা জিএসপি প্লাস চাইব। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ সামান্য কিছু পণ্যতে জিএসপি সুবিধা পেতো উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, ইইউর জিএসপি আর যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি এক নয়। আমরা শুধু তামাক, সিরামিক, প্লাস্টিক-এ রকম তিন-চারটি পণ্যের ওপর জিএসপি পেতাম।