menu

চীনা জোটের সঙ্গে চুক্তিতেও ইতিবাচক ধারায় ফেরেনি পুঁজিবাজার

দুই বাজারেই সূচক পতন অব্যাহত

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ মে ২০১৮
image

চীনা জোটের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তিতেও পতন থামছে না দেশের পুঁজিবাজারে। গত তিন সপ্তাহ ধরেই কমছে দেশের দুই পুঁজিবাজারের সূচক। গতকাল সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক গত কার্যদিবসের চেয়ে কমে শেষ হয়েছে এ দিনের কার্যক্রম। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ৮ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট কমেছে এবং সিএসইর প্রধান সূচক ১৪ দশমিক ১৩ পয়েন্ট কমেছে। এদিন উভয় পুঁজিবাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৮৫ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। গত সোমবার লেনদেন হয়েছিল ৩৪৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ডিএসই ও সিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত সোমবার শেনঝেন ও সাংহাই নিয়ে গঠিত চীনা জোটের সঙ্গে শেয়ার বিক্রির চুক্তি হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ রয়েছে। চীনের সঙ্গে এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করা ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো। চীনা জোটকে কৌশলগত অংশীদার করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) চূড়ান্ত অনুমতি দিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। চলতি মাসের ৩ তারিখে বিএসইসির জরুরি সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়। চীনা এই কনসোর্টিয়াম ডিএসইর ‘ব্লকড অ্যাকাউন্টে’ থাকা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২৫ শতাংশ বা ৪৫,০৯,৪৪,১২৫টি শেয়ার ২১ টাকা দরে কিনবে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে টাকার অঙ্কে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৫৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। গত সোমবার লেনদেন হয়েছিল ৩৩০ কোটি ৩১ লাখ টাকা। সুতরাং এক কার্যদিবসের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ২৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

এদিন ডিএসইতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৪৮ পয়েন্টে, ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক শূন্য দশমিক ২৩ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৩০০ পয়েন্টে এবং ৩ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে ডিএসই-৩০ সূচক দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৭২ পয়েন্টে। গতকাল দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৩৪টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ১৫২টির এবং কোন পরিবর্তন হয়নি ৫৯টি কোম্পানির শেয়ার দর।

এছাড়া টাকার অঙ্কে এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো-ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড, বেক্সিমকো, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড, লিগ্যাসি ফুটওয়ার লিমিটেড, কুইন সাউথ টেক্সটাইলস লিমিটেড, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড, আরডি ফুড, মুন্নু সিরামিক, বিবিএস ক্যাবলস এবং লংকা-বাংলা ফাইন্যান্স।

অন্যদিকে এদিন সিএসইতে মোট শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ২৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গত সোমবার লেনদেন হয়েছিল ১৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার। সুতরাং এক কার্যদিবসের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন কমেছে ১১ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ১৪ দশমিক ১৩ পয়েন্ট কমে ১০ হাজার ৩৪৭ পয়েন্টে, সিএএসপিআই সূচক ২৩ দশমিক ৪২ পয়েন্ট কমে ১৭ হাজার ১১৮ পয়েন্টে, সিএসই-৫০ সূচক ১ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট কমে ১২ হাজার ৮১ পয়েন্টে এবং সিএসই-৩০ সূচক ৭ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৫৬৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। গতকাল সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৩২টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৭৮টির, কমেছে ১২১টির এবং কোন পরিবর্তন হয়নি ৩৩টি কোম্পানির শেয়ার দর।

টাকার অঙ্কে এদিন সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো- অ্যাপেক্স ফুটওয়ার লিমিটেড, বেক্সিমকো, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড, আরডি ফুড, লংকা-বাংলা ফাইন্যান্স, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড, লিগ্যাসি ফুটওয়ার লিমিটেড, অ্যাডভান্ট ফার্মা, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড এবং স্কয়ার ফার্মা।

ডিএসই ওয়েবসাইটে দেখা যায়, গত মাসের ২৬ তারিখের পর দেশের দুই পুঁজিবাজারে সূচক পতন অব্যাহত। গত সপ্তাহ শেষে মোট সাত কার্যদিবসে ডিএসইর সূচক ৫ হাজার ৮১৩ পয়েন্ট থেকে নেমে এসেছে ৫ হাজার ৫৮১ পয়েন্টে। অর্থাৎ এই সাত কার্যদিবসেই সূচক কমেছে ২৩২ পয়েন্ট। মোট সূচকের ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। এ সময় অধিকাংশ কোম্পানিই শেয়ারের দর হারিয়েছে ব্যাপকহারে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতে এ অবস্থা শোচনীয়। কিছু কিছু ব্যাংক এখন শেয়ারের গায়ের মূল্যের দারপ্রান্তে অবস্থান করছে। এর মধ্যে বেসরকারি নেশনাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকসহ ছয়টি ব্যাংকের শেয়ারের দাম ১১ টাকা থেকে ১৩ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে এ পতন আরও বেশ কিছু দিন অব্যাহত থাকবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তালিকাভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো থেকে বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাশিত লভ্যাংশ না পাওয়ায় শেয়ারবাজারের এক ধরনের আস্থার সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে।

এমন কি তালিকাভুক্ত ১৬টি কোম্পানি কোন লভ্যাংশ না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া কিছু কোম্পানি নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে আশঙ্কাজনকহারে বোনাস শেয়ার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এরই নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে বাজারে। এছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কিছু ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে গত কয়েক মাসে দেখা দেয় নানা অস্থিরতা ও পরিবর্তন। যার প্রভাবে বাজারে দেখা দিয়েছে তারল্য সঙ্কটও।