menu

কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না বন্ডের অপব্যবহার

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯
image

রপ্তানির উদ্দেশে বন্ডের লাইসেন্সে সুতা ও কাপড় বিদেশ থেকে আমদানি করে সেই সুতা ও কাপড় খোলা বাজারে বিক্রি করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। কয়েকদিন পর পরই কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ্য সুতা ও কাপড় আটক হচ্ছে। আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হচ্ছে তারপরও তাদেরকে কোনভাবেও থামানো যাচ্ছে না।

সম্প্রতি পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের পাইকারি বাজার ইসলামপুর এলাকার বাদশাহ হাজী আহমেদ কমপ্লেক্স এবং আইটিসি টাওয়ারে অভিযান চালিয়ে বন্ডেড চোরাই প্রায় ৭৫ টন উন্নতমানের শাটিং, স্যুটিং কাপড় জব্দ করা হয়েছে। এসবের মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ফাঁকি দেয়া শুল্কের পরিমাণ প্রায় চার কোটি টাকা। এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে ইতোমধ্যে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। তারপরও ইসলামপুরে এই অবৈধ্য কারবারে বন্ধ হবে বলে মনে করছেন না কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে বন্ড কমিশনার এসএম হুমায়ুন কবীর গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। শুধু গোডাউনের মালিক বা ক্রেতা নয়, যে সমস্ত উৎস থেকে চোরাই পথে অবৈধভাবে এসব পণ্য ইসলামপুরে আসে, সেসব উৎস প্রতিষ্ঠান এবং এই চক্রকে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহযোগিতা নিয়ে অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, ইসলামপুর এলাকার বিভিন্ন পাইকারি মার্কেটে বন্ডেড চোরাই ফেব্রিকসের বাণিজ্যে বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে- এমন অভিযোগ রয়েছে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার নির্দেশনা এবং তার গতিশীল নেতৃত্বে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট জানিয়েছে, গত ৬ মাসে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের দায়ে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ৩১১ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ফেব্রিক্স, কাগজ, বিওপিপি ফিল্ম, পিপি দানা, ডুপ্লেক্স বোর্ড, আর্টকার্ড ও সুতা বন্ড সুবিধায় আমদানির পর তা খোলাবাজারে বিক্রির দায়ে এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া স্থায়ীভাবে লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে অন্য ৫টি প্রতিষ্ঠানের। আর বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত কাঁচামালের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিজিএমইএর সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই নাগাদ ১৪২টি প্রিভেন্টিভ অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের আওতায় প্রতিষ্ঠানের বন্ডেড ওয়্যারহাউসে আকস্মিক পরিদর্শন, রাতে ঢাকার প্রবেশপথে টহল দেয়া, বন্ডের পণ্য বিক্রির মার্কেটে হানা এবং বিশেষ অনুসন্ধান চালানো হয়। এসব অভিযানে বন্ড সুবিধায় আনা আমদানি পণ্য চোরাইপথে খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগের ৬৪টি পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যান আটক এবং ৫টি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। আটক পণ্যের মধ্যে রয়েছে- কাপড়, কাগজ, বিওপিপি ফিল্ম, পিপি দানা, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও সুতা।

সূত্র আরও জানায়, শুল্ক-কর ফাঁকির দায়ে ১০৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৮০ কোটি ৯ লাখ টাকার মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। এছাড়াও বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ৩১১টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধে বিআইএন (বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর) লক করা হয়েছে। এছাড়া অন্য ৫টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। এই অপব্যবহার রোধে সম্প্রতি সেগুনবাগিচায় ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে কাস্টমস বন্ড ও বিজিএমইএ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সঠিত যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির আহ্বায়ক বন্ড কমিশনার এসএম হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক। গার্মেন্টের ইউডিতে সঠিক পরিমাণ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে পণ্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা বিজিএমইএর নিজস্ব টিম দিয়ে গোপনে পর্যবেক্ষণের অনুরোধ জানান তিনি।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বন্ডবিষয়ক সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তি একই ধরনের নয়। এ বিষয়গুলো বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা গৃহীত হবে।