menu

অর্থ পাচারের দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , শনিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৮৭০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে ১৫টি মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। হেনান আনহুই এগ্রো এলসি এবং এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি নামের এ প্রতিষ্ঠন দুটির মালিক আবদুল মোতাবেল।

শুল্ক গোয়েন্দার পক্ষে বিটন চাকমা ও শামসুল নাহার গত বৃহস্পতিবার পল্টন মডেল থানায় এ মামলগুলো দায়ের করেন। পল্টন মডেল থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিনা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আনহুই এগ্রো এলসি এবং এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি ১২টি কন্টেইনারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে পোল্ট্রি ফিডের ক্যাপিটাল মেশিনারি ঘোষণায় আমদানি নিষিদ্ধ ও আমদানি নিয়ন্ত্রিত পণ্য খালাসের চেষ্টা করায় তা আটক করা হয়। এরপর তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে ইনভেনটরি করে কন্টেইনারগুলোতে বিপুল পরিমাণ সিগারেট, এলইডি টেলিভিশন, ফটোকপিয়ার মেশিন ও মদ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পল্টন মডেল থানায় ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর ‘মানিল্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)’এর ধারা ৪ ও ৮ অনুযায়ী মামলা করা হয়।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আমদানিকারক ছয়টি কন্টেইনারের মালামাল আটকের আগেই হেনান আনহুই এগ্রো এলসি ৩২টি এবং এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি ৪৬টি কন্টেইনার পণ্য মেশিনারিজ ঘোষণায় ১৫টি এলসির বিপরীতে পণ্য খালাস নিয়েছে।

আমদানিকারক মেসার্স হেনান আনহুই এগ্রো এলসি ও এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি নামের প্রতিষ্ঠান দুটি অস্তিত্বহীন। গত ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর দায়ের করা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আটক করা পণ্যের অনুরূপ রপ্তানিকারক, কান্ট্রি অব অরিজিন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট,ব্যাংকের তথ্য একই। ১৫টি বিল অব এন্ট্রি এবং ১৫টি এলসির মাধ্যমে অর্থপাচার, অবমূল্যায়ন ও শুল্ক ফাঁকির মাধ্যমে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে সিগারেট, এলইডি টেলিভিশন, ফটোকপিয়ার মেশিন ও মদ আমদানি করা হয়েছে বলে দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মেসার্স হেনান আনহুই এগ্রো এলসির বিরুদ্ধে ছয়টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ৪৩৯ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৯ টাকা এবং মেসার্স এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপির বিরুদ্ধে ৯টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ৪৩১ কোটি ৭৫ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮৩ টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই প্রতিষ্ঠান পাচার করেছে ৮৭০ কোটি ৮৬ লাখ ২১ হাজার ৩৮৩ টাকা।

তথ্য অনুযায়ী, মেসার্স হেনান আনহুই এগ্রো এলসি ২০১৬ সালের ২ জুলাই ৬৮ কোটি ৬৪ লাখ ৬১ হাজার ৭২১ টাকা, ২৮ আগস্ট ৬৮ কোটি ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৯ টাকা, ৯ অক্টোবর ৬৮ কোটি ৬৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮১২ টাকা, ১৭ নভেম্বর ৬৮ কোটি ৬৫ লাখ ১ হাজার ১৪২ টাকা, ২৬ ডিসেম্বর ৮২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৯ টাকা এবং ২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারি ৮২ কোটি ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ৬ টাকা পাচার করেছে।

অন্যদিকে, মেসার্স এগ্রো ডিবি অ্যান্ড জেপি ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল ৪৬ কোটি ৯১ লাখ ৮০ হাজার ৪১০ টাকা, ৫ মে ৪৬ কোটি ৯৩ লাখ ১ হাজার ২০১ টাকা, ২২ মে ৪৬ কোটি ৯২ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬৯ টাকা, ২০ জুন ৪৬ কোটি ৯২ লাখ ৯১ হাজার ৭২১ টাকা, ৪ ডিসেম্বর ৪৬ কোটি ৯২ লাখ ৮৬ হাজার ৯৮১ টাকা, ৩০ অক্টোবর ৪৬ কোটি ৯৩ লাখ ২১ হাজার ৮২০ টাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ৪৬ কোটি ৯৩ লাখ ১৮ হাজার ২৬৫ টাকা, ১৩ জুলাই ৪৬ কোটি ৯৩ লাখ ৩২ হাজার ৪৮৫ টাকা এবং ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি ৫৬ কোটি ৩২ লাখ ৩২ হাজার ২৩১ টাকা পাচার করেছে।