menu

ধারাবাহিক উপন্যাস ৬

‘মৌর্য’

আবুল কাসেম

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
image

পূর্ব প্রকাশের পর

মন্দাকিনী মহামূল্যবান একজোড়া জুতো পরিয়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে বললো। সম্রাটের খুব পছন্দ হবে। মন্তব্য করল সে।

কর্ণেলিয়া একথায়ও ফাওলীনের দিকে চেয়ে হাসলেন। পরে বললেন, লাউডিস আর পিসি কী বল?

এরা এতক্ষণ চুপচাপ সব দেখছিলেন। তাদের চোখে মুখে মুগ্ধতা। দিদাইমেইয়া বললেন, চমৎকার লাগছে তোকে। তুই একেবারে ভারতীয় দেবী হয়ে গেছিস।

লাউডিস কপালে একটা টোকা দিয়ে বললেন, এটাইতো তুই চেয়েছিলি, তোর মনের মতই হয়েছে। তোকে খুশি দেখে ভালো লাগছে। এ্যাই ফাওলীন, তুই নিকোকে ডাক। ও কাছে থেকে দেখুক।

লাউডিসের মেয়ের আনন্দ যেন আর ধরে না। সেও এই পোশাকে সাজতে চায়। আচার্য ভদ্রবাহু অন্যদেরও একসেট করে পুণ্ড্রবর্ধনের রেশমী পোষাক দিয়েছিলেন। তাকে সে পোষাক পরানো হল।

মেয়ে বলল, গহনা?

নিকোমেডেসও এল ভারতীয় পোষাকে। সবাই বিস্ময়ে তাকাল তার দিকে।

মজা করে লাউডিস বলল, চন্দ্রগুপ্ত নয়, তোর সঙ্গেই কর্ণির বিয়ে দিয়ে দিই।

ফাওলীন উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল, দাও, তা হলে ভালোই হয়, ওর একসঙ্গে দুটো স্বামী হবে।

পাশাপাশি বসতো একটু দেখি।

লাউডিসের এ কথায় ফাওলীন জোর করে ধরে নিয়ে নিকোমেডেসকে কর্ণেলিয়ার পাশে বসিয়ে দিল।

লাউডিসের মেয়ে বলল, আমিও বসব।

এ সময় সরোজপটুয়া উপস্থিত ছিল। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখা তার কাজ। খস খস করে কতগুলো স্কেচ এঁকে নিল। রঙ করার সময় নেই। রঙটা পরে করতে হবে।

বিয়ের লগ্নটা মধ্যাহ্নে নির্ধারণ করা আছে। পঞ্জিকা দেখে ঠিক করে দিয়েছিলেন ভদ্রবাহু (পুরোহিত)।

বিয়ের আগে বরকে বিয়ের পোষাকে ‘বিনয়াক্ষত্র’ পূজা করতে হল। পুরোহিত তাতে সহায়তা করলেন। মাদমন্ডপে আসার আগে একটা ঐতিহ্যগত ‘সাগাই’ অনুষ্ঠান সারতে হয়। কনের আপন ভাই অনুপস্থিত। তাই নিকোমেডেসকে রীতি অনুসারে বরের কপালে তিলক এঁকে দিতে হল। সে বরকে স্বর্ণালঙ্কার, গ্রিক বস্ত্র, মিষ্টান্ন এবং প্রতীকী অর্থ প্রদান করল। চন্দ্রগুপ্ত এনিয়ে খুব মজা করলেন। নিকোমেডেসকে বললেন, তোমার বিয়েতে এ অর্থ ফেরৎ দেব, জমা থাকল।

ভদ্রবাহু মাদমন্ডপে এসে বসেছেন। সাথে মহামন্ত্রীকেও মন্ডপে বসালেন। মন্ডপের সামনে বিশাল প্যান্ডেলে অতিথিরা আসন গ্রহণ করেছেন। বরকনের আসতে বাকি। প্রথমে বর এলেন, পরে এলেন কনে। সবাই দাঁড়িয়ে তাঁদের অভিবাদন জানাল। বর কনের দিকে তাকিয়ে হতবাক। কী অসাধারণ লাগছে হেলেনকে। তিনি কল্পনায় যা দেখেছিলেন বাস্তবে তার চেয়ে বেশি কিছু।

শুরু হল ‘ভারতী আরতী’। আরতীতে মঙ্গলগীত গাইতে হয় কনে পক্ষের নারীদের। মঙ্গলগীত গাইতে হল লাউডিস এবং ফাওলীনকে। এরা গ্রিক সঙ্গীত পরিবেশন করল। অতিথিরা তার অর্থ না বুঝেই হাততালি দিলেন এবং বেশ মজা পেলেন। আগে যেটা ছিল সামাজিক আচার এবারে তা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ধর্মাচারে পালিত হল। নিকোমেডেস বরের কপালে চন্দনের তিলক এঁকে দিল, সঙ্গে উপহার। বরও কনের ভাইয়ের কপালে তিলক এঁকে দিলেন। চন্দ্রগুপ্ত বরাবরই মজা করতে পছন্দ করেন। নিকোমেডেসের দিকে একটি নারকেল বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, এটি দাঁত দিয়ে ছুলে খেতে হবে।

নিকোমেডেস বলল, আমি একা, নাকি বরকনেসহ। শুনে সবাই হেসে দিল।

এবারে শুরু হল ‘ফেয়ার’। বরকনে ঘন হয়ে বসলেন। পুরোহিত মন্ত্র পাঠ করছেন। চাণক্য দিদাইমেইয়াকে ইঙ্গিত করতেই দিদাইমেইয়া একটাকা চার আনা (স্বর্ণমুদ্রা) এবং কিছু চাল কনের হাতে তুলে দিলেন। কনে তা আবার বরের হাতে তুলে দিলেন। পুরোহিত কন্যাদানের মন্ত্র পাঠ করতে করতেই তিনবার জল ছিটালেন। গ্রন্থিবন্ধন পর্বে মন্দাকিনি এগিয়ে এল। বরকনের পোশাকের মধ্যে গীট বেঁধে দিল।

যাবতীয় মঙ্গলাচরণের পর বরকনে উঠে দাঁড়ালেন এবং অগ্নিকু-ের চারপাশে চারবার ঘুরপাক খেলেন। পুরোহিত এবারে মন্ত্র নয় মহাবীরস্তক শ্লোক পাঠ করলেন সুর করে। শ্লোক পাঠ শেষ হলে গ্রিক মঙ্গলগীত গাইতে শুরু করেন গ্রিক মহিলারা। এবারে দিদাইমেইয়াও অংশ নেন। মঙ্গলগীতের মধ্যেই ঘটে মালাবদল। এ সময় মুহূর্মুহু হাততালিতে চারদিক প্রকম্পিত হল।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা দেখতে দেখতে চাণক্য হারিয়ে গেলেন দূর অতীতে। ব্রাহ্মণ হিসেবে তখন দূরধরার বিয়ের পুরোহিত ছিলেন তিনি। হিন্দুরীতির সে বিয়ে ছিল সাত পাকে বাঁধা। আনুষ্ঠানিকতাও কম ছিল না। সব কিছুতেই ছিল তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী একক প্রভাব। দিন বদলে যায়। এদিনও বদলায়।

আচার্য ভদ্রবাহুর মৃদু ধাক্কায় চাণক্য সম্বিৎ ফিরে পেলেন। ভদ্রবাহু বললেন, কী ভাবছিলেন?

না, কিছু না।

এবারে আপনার পালা। বরের বাড়ির সব আনুষ্ঠানিকতা আপনার।

আমার কেন?

ভুলে গেছেন সেখানে অভিভাবক আপনি।

চাণক্য বললেন, আপনার একটি কাজ বাকী আছে। বরকনেকে জৈনমন্দিরে স্বাগত জানানো।

আপনাকেও জানানো হবে মশাই, আপনি তো বরের চলনদার।

বিয়ের পর প্রবীণেরা এসে বর কনেকে আশীর্বাদ জানালেন। প্রথমে আশীর্বাদ করেন ভদ্রবাহু এবং চাণক্য। চাণক্যের মধ্যে অভিভাবকসুলভ মনোভাব এখনো আছে। নানা বিপত্তির মধ্যেও চন্দ্রগুপ্ত তাঁকে সমীহ করেন, আচার্য বলে সমাধান করেন।

বিভিন্ন দেশের রাজা-মহারাজা, অমাত্যবর্গ, নাগরিকবৃন্দ, পারিষদবর্গ, কর্মচারীবৃন্দ সবাই ফুল দিয়ে উপহার দিয়ে বরকনেকে শুভেচ্ছা জানান। সরোজপটুয়া অনুষ্ঠানের সকল পর্বের বিশেষ বিশেষ মুহূর্তগুলো স্কেচের মাধ্যমে ধরে রাখতে চাইছে। রীতি মোতাবেক সবাই আহার্য গ্রহণ শেষে শোভাযাত্রা করে ফিরছেন বরের বাড়ি অর্থাৎ গান্ধারা প্রাসাদে। সেখানে আগেই চলে গেছেন চাণক্য। বরকনেকে স্বাগত জানাতে হবে। নিয়ম হচ্ছে বরের মাতা কনেকে বরণ করবেন এবং বর কনেকে কোলে করে প্রাসাদে নিয়ে যাবেন।

কিন্তু সেনাপ্রধান এসে বললেন, মহামান্য সম্রাট, রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতা অর্থাৎ বর-কনেকে সেলুট করার জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত।

সম্রাট তাঁর বধূকে কোলে করে নেয়ার প্রথা বাদ দিয়ে তাঁকে নিয়ে সুসজ্জিত হস্তি থেকে নেমে সেলুটিং মঞ্চে এসে দাঁড়ালেন। তাঁর সুসজ্জিত সেনাবাহিনী সেলুট জানিয়ে কুচকাওয়াজ করতে করতে মঞ্চের সামনে দিয়ে হেঁটে গেল।

স্বামীর বাড়িতে যাবার সময় বধূর অবগুণ্ঠন বাধ্যতামূলক। মঞ্চে উঠে গ্রিক জেনারেল-কন্যা সে কথা ভুলে গিয়ে সম্রাজ্ঞীরূপেই সেখানে সম্রাট স্বামীর পাশে দাঁড়ালেন। সেনাবাহিনীর মধ্যে ধন্যধন্য পড়ে গেল। সরোজপটুয়া এ মুহূর্তটিকে ধরে রাখার জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে গেলেন। তার চেষ্টায় সৃষ্টি হল অনন্য এক শিল্পকর্ম।

দিদাইমেইয়া শোভাযাত্রাকালে আরেকটি কাজ করতে করতে প্রাসাদ পর্যন্ত এলেন। ডাইনি-ডাকিনীসহ সকল অশুভ শক্তির হাত থেকে বর কনেকে রক্ষার জন্য রাস্তার দুপাশে ফলাহার ছিটিয়ে দিলেন।

ভদ্রবাহু মৃদু হেসে বললেন, ডাইনি-ডাকিনীরা কি এই ফলাহারে সন্তুষ্ট হবে?

হবে না হয়ত। আপনারা কি করেন?

এ সংস্কার এখানেও আছে। আমরা তেপথায় খিচুরি মাছ-মুরগী প্রভৃতি ভালো খাবারের ভোগ দিয়ে থাকি।

ওরা খায়?

তাতো জানি না।

এখান থেকে তাদের সোজা নিয়ে যাওয়া হল জৈনমন্দিরে। সেখানে দিদাইমেইয়া এবং ভদ্রবাহু আগে ভাগে উপস্থিত হয়েছেন। সেনা সম্বর্ধনায় তাদের উপস্থিতির প্রয়োজন ছিল না। মন্দিরে বরকনের মঙ্গলার্থে ‘জিনাগৃহে ধান্যঅর্পণ’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করলেন এরা। একে কৃতজ্ঞতার অনুষ্ঠান মনে করা হয়।

এখানে এসে হেলেনের সঙ্গে শর্মিলার দেখা হয়ে গেল। শর্মিলা সম্রাট এবং সম্রাজ্ঞীকে কুর্নিশ করে দাঁড়ালেন। হেলেন এগিয়ে গিয়ে তাকে বুকে টেনে ধরে বললেন, তোমার স্থান এখানে। তুমি এই মন্দিরে নয়, প্রাসাদের মন্দিরে থাকবে আমার কাছে। ভদ্রবাহুকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আচার্য, আমার প্রার্থনা কি মঞ্জুর করা সম্ভব?

নিশ্চয়ই সম্ভব, শর্মিলা আপনার কাছেই থাকবে সম্রাজ্ঞী।

শর্মিলা বললেন, আমি বলেছিলাম না, আপনি আমাদের সম্রাজ্ঞী হবেনই হবেন।

তোমার কথাই সত্য হল শর্মিলা।

না, আমার কথা না, এ ছিল আচার্যের কথা।

মন্দির থেকে প্রাসাদে পৌঁছলেন বরকনে। এখানে মহামন্ত্রী চাণক্য সত্যি সত্যিই অভিভাবকের দায়িত্ব নিলেন। চন্দ্রগুপ্তের বাবা-মায়ের অবর্তমানে পারিবারিক রীতি রেওয়াজ ও সংস্কারে যা আছে সবই করলেন। কনেকে একটি আপেল এনে দিলেন কামড়াবার জন্য। হেলেন তাই করলেন। তাকে শুকরের শুকè মাংস, বাদাম প্রভৃতি খেতে দেয়া হল। হেলেন এসবও খেলেন হাসি মুখে।

দিদাইমেইয়াকে চাণক্য বললেন, শুনেছি স্পার্টায় নব-দম্পতির মধ্যে কৃত্রিম যুদ্ধও হয়। আমাদের বর কিন্তু শক্তিশালী যোদ্ধা।

আমাদের কনেও কিন্তু জেনারেল সেলুকাসের মেয়ে, যুদ্ধের প্রশিক্ষণ আছে, সুনামও আছে। একথা শুনে সবাই হাসলেন। দিদাইমেইয়া আবার বললেন, আমাদেরকে অবাক করে দিয়েছেন আপনি। এগুলো তো গ্রিকরীতি। ভারতীয় রীতি কোথায়?

কতশত আচার মানতে হয় এখানে! আমরা আপনাদের সম্মানে সবকিছু সংক্ষিপ্ত করে নিয়েছি।

সংক্ষিপ্ত রূপটাই দেখে আমরা অভিভূত।

ছিয়াত্তর.

একটি উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরি হয়েছে থর মরুভূমিতে। কিছু দূরে আরো একটি। নানা স্থানে প্রহরা। সম্রাট এবং সম্রাজ্ঞী আসবেন এখানে। প্রহরীদের মধ্যে, রাজ অমাত্যদের মধ্যে, কানাঘুষা সম্রাট বাসর রাতে উন্মুক্ত মরুভূমিতে কেন?

চতুরাশ্ব যানে চড়ে সম্রাট এবং সম্রাজ্ঞী যাচ্ছেন মরুভূমির দিকে। সম্রাটের নারী নিরাপত্তারক্ষী খুব কাছে থেকে এবং পুরুষ রক্ষীরা কিছু দূরে থেকে সম্রাটের নিরাপত্তার্থে চলেছে তাঁদের পাশাপাশি।

সম্রাজ্ঞী বললেন, মহামান্য সম্রাট এসব কি? ওদের চলে যেতে বলুন। আমরা চাঁদনী রাতে নির্জন মরুতে বাঁশি শুনব, নির্জনতা উপভোগ করব। একান্তভাবে আমি আর আপনি সময় কাটাব। এরকম কথাই তো ছিল।

চন্দ্রগুপ্ত হেসে দিয়ে বললেন, হেলেন, তাই হবে। ওরা পৌঁছে দিয়ে চলে যাবে। আমরা ধবল জ্যোৎস্নার ধূ ধূ মরুভূমিতে সারারাত কাটাব বাঁশি শুনতে শুনতে।

নিকোমেডেস আর ফাওলীনের কাছে ব্যাপারটা বেশ কৌতূহল উদ্দীপক। এরাও যাচ্ছে আরেকটি অশ্বযানে চড়ে। অপর মঞ্চটি ওদের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

পরিকল্পনাটি এ রকম: বাঁশিওয়ালা আড়ালে থেকে বাঁশি বাজাবে তাকে দেখা যাবে না। কোথা থেকে বাঁশির সুর ভেসে আসছে তা কেউ জানবে না। চাঁদ থেকে জ্যোৎস্না ঝরছে তা সবাই দেখবে কিন্তু বাঁশির সুরের উৎস দেখা যাবে না।

রাজপ্রাসাদের বিবাহবাসর ছেড়ে সম্রাট-সম্রাজ্ঞী মরুভূমিতে, মহামন্ত্রী চাণক্যও একে পাগলামি ছাড়া আর কিছু মনে করেন না। তাঁর মতো এরকম মনে করা লোকজনের সংখ্যা অনেক বেশি। বিবাহবাদ্য নয়, ঢাক ঢোল নয়, সামরিক যন্ত্র সঙ্গীত নয়, মরুভূমিতে বাঁশি- এ পাগলামি ছাড়া আর কি?

হেলেনের এ পাগলামি প্রস্তাবটায় প্রথমে সম্রাট কী মনে করেছিলেন তা এখন বলা শক্ত। তবে যুদ্ধের আগে বাঁশির সুর তাঁকে শক্তি জুগিয়েছিল। সে কথা মনে হয়েছিল যুদ্ধ জয়ের পর। এখন একটা অজানা আগ্রহ তাকেও পেয়ে বসেছে। বাঁশিওয়ালাকে খুঁজে পেতে অবশ্য অনেক বেগ পেতে হয়েছে। যুদ্ধের ঘনঘটায় সে পালিয়েছিল। সিন্ধু নদীর পাড় ঘেঁষে চলে যায় বহুদূর। নদীর স্রোতের বিপরীতে হাঁটতে হাঁটতে বাঁশি বাজাতে বাজাতে মৌর্য সাম্রাজ্যের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে। সেখান থেকে তাঁকে ধরে নিয়ে আসে মৌর্য-সৈন্যরা।

ভয়ে সে কুঁকড়ে গেছে। মৌর্য-সৈন্যরা কেন তাকে ধরে নিয়ে যাবে? সে তো যুদ্ধাপরাধী নয়। কিন্তু মৌর্য-সৈন্যরা যখন তাকে সম্মান করল, ভালো ব্যবহার করল, সে সাহস ফিরে পেয়ে জিজ্ঞেস করল, আমাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছ কেন?

সম্রাট তার কারণ বলতে পারবেন, আমরা না। বলল সৈন্যদের একজন।

সম্রাটের সামনে হাজির করা হলে কাচু-মাচু হয়ে দাঁড়াল বাঁশিওয়ালা। তোমার নাম কি? সম্রাটের প্রশ্নে মায়া ছিল, প্রশ্রয় ছিল। সে নির্ভয়ে বলল, নিখিল নাগার্সী।

নিখিল তোমাকে জ্যোৎস্না রাতে বাঁশি বাজিয়ে শোনাতে হবে। সম্রাজ্ঞী উষর থর মরুভূমিতে তোমার বাঁশি শুনবেন। যুদ্ধের আগে যে সুর বাজিয়েছিলে তা-ই বাজাবে।

মহামান্য সম্রাট, কী সৌভাগ্য আমার।

এ কয়দিন বিবাহের অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকব আমরা। তুমি রাজকীয় অতিথি হয়ে থাকবে। রাজপ্রাসাদেই থাকবে।

নিখিল বলল, কী মহিমা সম্রাটের, কী অভিরুচি সম্রাজ্ঞীর!

সম্রাট তাঁর লোকদের বললেন, নিখিল এখানে আছে তা গোপন রাখতে হবে। আর তার যতœ-আত্তির যেন কোনো কমতি না হয়।

এখন কি বাজাব সম্রাট? খুব আনন্দ হচ্ছে।

না, তুমি বিয়ের রাতেই বাজাবে। এখন খাও-দাও, আনন্দ কর। তোমার জন্য রাজকীয় পোষাকের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

আপনাদের বিয়ের অনুষ্ঠানটা দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে সম্রাট।

বেশ দেখবে। তবে পরিচয় গোপন রাখবে। অনুষ্ঠানে তুমি রাজকীয় পোষাক পরে যাবে-যাতে কেউ চিনতে না পারে।

রাজকীয় পোষাক পরে রাজা রাজা ভাব এসে গেল নিখিলের। পাতার বাঁশিটা বেমানান লাগছে তার কাছে।

সে ঘুরে ঘুরে দেখছে ধর্মীয় এবং রাজকীয় বিবাহের আচার-অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানাদির মধ্যে সে কোনো বিশেষত্ব খুঁজে পায়নি। অবাক হয়ে গেছে বিবাহমঞ্চ আর মন্ডপ দেখে। কী বানিয়েছে এরা! কে বানিয়েছে তাকে খুঁজছে সে। জিজ্ঞেস করতে করতে পেয়ে গেল। ভবদানব ভাবল, রাজপুরুষ আবার কী জানতে চায়। নিখিল বলল, একি বানিয়েছ তুমি, আমার সুরের পঞ্চম রাগে শুধু তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। ভবদানব কিছু বুঝবার আগেই সম্রাটের লোকজন তাকে সরিয়ে নিয়ে গেল। ক্রমশম্রা

  • হাসান আজিজুল হকের সাক্ষাৎকার

    ‘আমি যা কিছু লিখেছি-
    মাটি থেকে পেয়েছি’

    সাক্ষাৎকার গ্রহণ : ওবায়েদ আকাশ, কাজী রাফি, খন্দকার মুনতাসীর মামুন

    newsimage

    ওবায়েদ আকাশ : লেখকদের মধ্যে একটা ব্যাপার দেখা যায় যে, এ কাজটি

  • বিপুল জীবনানন্দ

    আজও অসম্পূর্ণ উত্তরপত্রের এক সুদীর্ঘ প্রশ্নপত্র

    এমিলি জামান

    newsimage

    ১৯৯৯ সনে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সর্বাধিক পাঠকপ্রিয় শক্তিধর কবি জীবনানন্দের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপিত

  • বইমেলার পরিবেশ ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধি

    ওবায়েদ আকাশ

    newsimage

    বইমেলা যখনই কোনো রাজনৈতিক সুস্থ পরিবেশে অুনষ্ঠিত হয়েছে; তখনই এর ফলাফল নিয়ে

  • অসীম সাহার কবিতা

    newsimage

    অমৃত-গরল জ্যোৎস্নাকে ফেরাতে নদী ছুটে যাচ্ছে সমুদ্রের কাছে! টাইটানিক গতি তার। ডুবে যাচ্ছে বেদনার তীব্র

  • মিনার মনসুরের কবিতা

    আমার আজব ঘোড়া

    newsimage

    গল্পগুলোর ডানা ছিল ঘোড়াটিই আমাকে নিয়ে গিয়েছিল রূপকথার সেই মাঠে। দিগন্তছোঁয়া তার পৌরুষ।

  • ক্যান্ডি

    মূল: নয়নরাজ পান্ডে
    অনুবাদ: ফজল হাসান

    newsimage

    জেলার প্রধান কার্যালয়ের সামনে পাজেরো গাড়ি থেকে নেমে আমার ব্যক্তিগত সহকারী এবং

  • মহাদেশের মতো এক দেশে ৬

    কামরুল হাসান

    newsimage

    হক্‌সবুরি রিভার স্টেশনে একা বসে আছি প্রকৃতির অমলিন ঔদার্যের ভিতর। স্টেশনের ওভারব্রিজ