menu

হাতাহাতি যুদ্ধ ১৯৭১

আব্দুল মান্নান খান

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২০
image

কাটাচ্ছি করোনাকালের ঘরবন্দি জীবন। পার করাও বড় কঠিন হয়ে উঠছে দিন দিন। খবরের কাগজ পড়ছি। বই পড়ছি। টেলিভিশন দেখছি। গান শুনছি। মাঝে মাঝে লিখতেও বসছি কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। অস্থিরতা বাড়ছেই। ছোটদের লেখাপড়া নিয়ে আমি একটু লেখালেখি করে থাকি। হয়তোবা এ কারণেই করোনাকালের এ ছুটিতে ওদের লেখাপড়ার কথা একটু ভাবাচ্ছে বৈকি। তাই লিখতে চাচ্ছিলাম, অভিভাবক মহোদয়রা- আপনারাই আপনাদের সন্তানদের পড়ান এসময়টাতে। পরীক্ষার পড়াও পড়াতে যাবেন না পাসের পড়াও পড়াতে যাবেন না। ওরা ওদের বই দেখে শব্দ করে পড়বে আপনারা কেবল শুনবেন। এতে ওদের পঠনদক্ষতা বাড়বে যেটার বড় ঘাটতি রয়েছে ওদের। এটা জানবেন ঠিক মতো পড়তে পারলে সব পারবে। সাথে আরও ভালো হবে যদি আপনারা বললেন ওরা লিখল। পৃষ্ঠাখানেকের বেশি না একবারে। স্কুলের পড়া পরীক্ষার পড়া কী হবে না হবে সময়ে কর্তৃপক্ষ সেটা বুঝবেন।

এর মাঝে একখানা বই পেলাম হাতে ‘হাতাহাতি যুদ্ধ ১৯৭১’ নামে। বইখানা যশোর থেকে পাঠিয়েছেন সাংবাদিক রুকুনউদ্দৌলাহ। তিনি নিজেও একজন সম্মানিত মুক্তিযেদ্ধা। দৈনিক সংবাদের স্বনামধন্য একজন সিনিয়র রিপোর্টার। ভালো লেখেন। তাঁর লেখা বেশ কিছু বই আছে বাজারে। ‘গ্রাম-গ্রামান্তরে’ নামে কলাম লেখেন নিয়মিত। নামটির সাথে লেখার বিষয়বস্তুর দারুণ মিল পাওয়া যায়। সেকাল ও একালের গ্রাম্য জীবনের চিত্র উঠে আসে তার লেখনিতে। এ বইটিও তার ব্যতিক্রম নয়।

আমি মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু লেখালেখি করে থাকি। যা দেখেছি যা করেছি যা উপলব্ধিতে সত্য বলে জেনেছি তাই লিখেছি। বাষট্টির ছাত্র আন্দোলন থেকে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে মিটিং-মিছিলে রাজপথে থেকেছি। একাত্তরে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলাম রাজাকার মারব বলে, মারতে পারিনি। এই না পারার ব্যর্থতা নিয়ে বড় ধরনের ইতিবাচক একটা সমালোচনা উপভোগ করেছি আমি। যেমন একটু বলতেই হয় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা আমার একখানা বই আছে বাজারে যার নাম ‘১৯৭১ : এক সাধারণ লোকের কাহিনী’। ২০০০ সালে বইটি প্রকাশিত হয়। অনেক সুধীজন বইটির সমালোচনা করেছেন। তার মধ্যে নিসর্গবিদ উদ্ভিদবিজ্ঞানী স্বনামধন্য লেখক প্রয়াত দ্বিজেন শর্মা বইটি পড়ে তাঁর সমালোচনায় এক জায়গায় বলেন, “মান্নান তো লেভ টলস্তয়ের ‘ওয়ার এন্ড পিস’ উপন্যাসের নায়ক পিয়েতরের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছেন : পিএতর নেপোলিয়নের দিকে পিস্তল তাক করেও ঘোড়া টেপেননি, মান্নান বন্দুক উঁচিয়ে ওঁৎ পেতে থেকে রাজাকার খতমে ব্যর্থ হয়েছেন। একে ভীরুতা বলা যাবে না, এটি যুদ্ধকালীন বাস্তবতার আরেকটা দিক” (দৈনিক জনকণ্ঠ ৩০-০৬-২০০০)। তিনি অনেক কথার মধ্যে আরো একটি কথা বলেছেন যে, “তাঁর গোটা সত্তা ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আশরীর আহিত”। আমি পরম শ্রদ্ধার সাথে তাঁকে স্মরণ করি এবং মনে করি এটাই আমার পরম পাওয়া একখানা সনদ।

রুকুনউদ্দৌলাহর বইটি পড়ে আমি একটা ঘোরের মধ্যে পড়ে গেছি। বুঝেছি এ ঘোর সহজে কাটবে না। কারণ যশোরের চৌগাছা, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলার যে বেল্টটা নিয়ে এ কাহিনি তা আমার স্কুল জীবনের বিচরণ ক্ষেত্র। এখান থেকেই আমরা বাষট্টির ছাত্রআন্দোলনে স্কুল থেকে অংশগ্রহণ করেছিলাম। প্রতিবাদসভা করেছিলাম মিটিং-মিছিল করেছিলাম। আমার বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় হলেও আমার স্কুল জীবন কেটেছে এই এলাকাটিতে। রুকুনউদ্দৌলাহ আমাকে সেই দিনগুলিতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন।

প্রথমে বইটার নাম দেখে আমি একটু থমকে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল এটা আবার কেমন কথা হলো, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ তো হাতাহাতি যুদ্ধ ছিল না। ছিল দুনিয়া কাঁপানো এক যুদ্ধ যেমন ছিল ওয়ার ফিল্ডে তেমন ছিল কূটনৈতিক বিশ্বে। পরাশক্তি আমেরিকা চীন এবং মুসলিম বিশ্বের মুরব্বি সৌদি আরব যা চায়নি তাই সম্ভব হয়েছে বাংলার মাটিতে একাত্তরে। শোনা যেত পাকিস্তানি আর্মি চৌকস বনেদি আর্মি বলে খ্যাত তখন সারা বিশ্বে। সেটা হোক বা না হোক প্রচারটা এরকমই ছিল। সেই আর্মিদের কী না ‘ছেড়াবেড়া’ অবস্থা করে ছাড়লো মুক্তিবাহিনীর ‘বিচ্ছুরা’। সেই সেনাবাহিনিকে পরাস্ত করে তার প্রধান সেনানায়ক জেনারেল নিয়াজীর গুহায় কী বীরদর্পে না ঢুকলেন মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর বাঘা কাদের সিদ্দিকী। কেমন সুড়সুড় করে আত্মসমর্পণ করলেন জেনারেল সাহেব বাঘের সামনে শিয়াল বাবাজীর মতো লেজ গুটিয়ে। সেই যুদ্ধকে রুকুনউদ্দৌলাহ হাতাহাতি যুদ্ধ বললেন কীভাবে! এখানে যে সত্যটা এসে যায় তাহলো এযাবৎকাল মুক্তিযুদ্ধের ওপর যে অগণিত বই লেখা

হয়েছে তার মধ্যে এমন একটা নাম এমন একটা ঘটনা বিরল বলে আমার ধারণা হয়েছে বইটা পড়ে।

এখন খুব সংক্ষেপে দেখা যাক লেখক কী লিখেছেন এবং সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দু’একজন কী বলেছেন। “২৪ নভেম্বর গরিবপুরে মুক্তিবাহিনি ও মিত্রবাহিনির সঙ্গে পাকবাহিনির এক ট্যাঙ্ক যুদ্ধ হয়। এই ট্যাঙ্ক যুদ্ধে পাকিস্তানিদের ১৪টি ট্যাঙ্ক ছিল। যুদ্ধে পাকিস্তানিরা মিত্রবাহিনির ৫টি ট্যাঙ্ক নষ্ট করলেও পাকবাহিনি তাদের সব কটি ট্যাঙ্ক হারায়। এই যুদ্ধ গরিবপুর-সিংহঝুলি মাঠে মুক্তিবাহিনির সাথে পাক বাহিনির সম্মুখ যুদ্ধে অস্ত্র শেষ হয়ে গেলে হাতাহাতিতে রূপ নেয়; যা মল্লযুদ্ধ নামে পরিচিত। এ যুদ্ধে মুক্তিবাহিনি জয় লাভ করে। আধুনিক অস্ত্রের যুগে বাংলাদেশ তখা আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে কোনো যুদ্ধে এমন হাতাহাতি যুদ্ধ আর হয়নি। অবশেষে ২৭ নভেম্বর চৌগাছা মুক্তিবাহিনির দখলে আসে। পরবর্তীতে ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চৌগাছা শহর মুক্ত হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে চৌগাছার ইতিহাস গৌরবোজ্জ্বল” (পৃষ্ঠা ১৭-১৮)।

হাতাহাতি যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে একজন জগন্নাথপুর গ্রামের জনাব রেজাউল হক। তিনি একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক কাম অফিস সহকারীর চাকরি করতেন। তিনি বলেন, “জগন্নাথপুরের যে আমবাগানে মূল যুদ্ধ হয়, সেটি এখন মুজিবনগর শহিদ সরণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ। যুদ্ধের সময় ছিল বড় বড় আমগাছ। মিত্রবাহিনি ও মুক্তিযোদ্ধারা একজোট হয়ে আসে ঈদের দিন দুপুর নাগাদ। শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। কপোতাক্ষ নদ ও ঢেঁকিপোতা বাঁওড় পেরিয়ে আসা মিত্র বাহিনির ট্যাংকের মুখোমুখি হয় গরিবপুর থেকে আসা পাকিস্তানি ট্যাংক। চলে অনবরত গোলাগুলি। মিত্রবাহিনি ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা ছিলো হাজারের বেশি। প্রথমে ট্যাংক থেকে ট্যাংকে গুলি, মর্টার শেল নিক্ষেপ শুরু হলেও একসময় ট্যাংকগুলো এত কাছাকাছি এসে যায় যে, আর সামনে এগিয়ে গুলি ছোড়া সম্ভব ছিল না। দু’পক্ষের সৈন্যরা একসময় কাছাকাছি চলে এলে গুলি ছোড়া বন্ধ হয়ে যায়। কারণ তাতে নিজেদের লোক চিহ্নিত করে শত্রুপক্ষকে গুলি করা কঠিন হয়ে ওঠে। একসময় বেয়নেট দিয়ে চলতে থাকে যুদ্ধ। সবশেষ যখন আরো মুখোমুখি হলো তখন বেয়নেট ফেলে হাতাহাতি চুলোচুলি পর্যন্ত হয়।” (পৃষ্ঠা ৩৩-৩৪)।

জগন্নাথপুরের জনাব তবিবর রহমান ভোলা ওই যুদ্ধের একজন প্রত্যক্ষদর্শী। এখন তার বয়স সত্তর বছর। তিনি জানান, পিঁয়াজ রোপণের জন্য মাঠে গিয়ে মিত্র ও শত্রু বাহিনির হাতাহাতি যুদ্ধ দেখে বাড়ি চলে আসেন। তারা যুদ্ধক্লান্ত মিত্র বাহিনীকে নারিকেল ও গুড় খেতে দেন (পৃষ্ঠা ৩৬)।

জনাব আজিজুর রহমানের বাড়ি উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামে। তিনি একজন ওই হাতাহাতি যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলেন, “তারিখটা মনে না থাকলেও এতটুকু খেয়াল আছে যে, সেদিন ছিল ঈদুল আজহার দিন। ঈদগাহ মাঠে ইমাম সাহেব বয়ান দিতে উঠেছেন। দু’এক কথা বলেছেনও এরই মধ্যে কেমন একটা শব্দে ঈদগাহের মানুষেরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। ইমাম সাহেবের বয়ানের প্রতি সবার মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। সবাই উৎসুকভাবে তাকাতে থাকে এদিক সেদিকে। ইমাম সাহেব সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে দ্রুত নামাজ শেষ করেন। সালাম ফেরানোর সাথে সাথে যে যার মতো দৌড়াতে থাকে। সবার গন্তব্য শব্দের দিকে। কাছাকাছি গিয়ে দেখি মিত্র বাহিনির ট্যাংক আসছে। কতথানা চিল গোনার সুযোগ হয়নি। ট্যাংকগুলো এসে জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের চাড়ালের বাগানে অবস্থান নেয়। রাত একরকম নিরাপদে কাটে আমাদের। ভোরে শুরু হয় গোলাগুলি। জাহাঙ্গীরপুর ও জগন্নাথপুরের মানুষ এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়ে। যে যেখানে পারে নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় নেয়। হতাহতদের স্বজনরা বাদে সবাই জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের পাশের গ্রাম ভাদড়ার দিকে দৌড়াতে থাকেন। এসময় তারা মাঠের ভেতর দেখেন হানাদার বাহিনির সবাই দৌড়ে পালাচ্ছে। তখন সকাল ১০টার মতো হবে। পলায়নপর শত্রু বাহিনি এক পর্যায়ে মিত্র বাহিনির মুখোমুখি হলে শুরু হয় হাতাহাতি যুদ্ধ। কেউ গুলি বর্ষণ করছে না। রাইফের দিয়ে পেটাপেটি, একে অপরের চুলের মুঠি ধরে কিল-ঘুষি, চড়-লাথি চলছে। আমরা ধরেই নিয়েছিলাম দু’পক্ষের গুলি শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন তারা সাবেক আমলের মতো হাতাহাতি বা মল্লযুদ্ধে নেমেছে। বহু মানুষ সেদিনের ওই হাতাহাতি যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছিলেন” (পৃষ্ঠা ৪০-৪১)। স্থানীয় বহু বাসিন্দা, সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধারাও রয়েছেন এই হাতাহাতি যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বইতে যেটা রয়েছে।

যশোর ক্যান্টনমেন্টে বাঙালি সেনাদের বিদ্রোহ, এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও, চৌগাছায় মিত্রবাহিনির বিরুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনির সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করে পিছু হটা এবং সবশেষে দুর্গ বলে খ্যাত যশোর ক্যান্টনমেন্ট ফেলে লেজগুটিয়ে পশ্চাদাপসারণ এসবই আজ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ। একথা সত্য যে আমাদের দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং একাত্তরের নয় মাসের রক্তক্ষয়ি যুদ্ধের রয়েছে হাজারো দিক। যার অনেক কিছু এখনও হয়তো অজানা রয়ে গেছে যেমন এই যে হাতাহাতি যুদ্ধের কথাটা এতো দিনে উঠে এসেছে। এমন কত অজানা কথা কত অজানা ঘটনা হয়তো একসময় আরও বেরিয়ে আসবে। যেমন এই কিছুদিন আগের একটা ঘটনার কথা বলি। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক শহীদ মতিউরের হাতের লেখা একটা খাতা তাঁর বাবা প্রয়াত আজহারউদ্দিন মল্লিক অধ্যাপক হারাধন গাঙ্গুলীর হতে তুলে দিয়েছিলেন কোনো একসময়। হারাধন গাঙ্গুলী সম্ভবত তখন একটা কচি-কাঁচার অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই সেদিন এক অনুষ্ঠানে সুধীজনের উপস্থিতিতে ওই খাতাটি মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিলেন হারাধন গাঙ্গুলী। আমার সুযোগ হয়েছিল ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার। দুটো কথা বলতে গিয়ে বলেছিলাম, ‘মতিউর যে মিছিলে গুলি খেয়েছিল আমি সেই মিছিলে ছিলাম এবং বেশি দূরে ছিলাম না। মতিউরের কফিন আমি স্পর্শ করেছিলাম। আজ তাঁর হাতের লেখা খাতাটা স্পর্শ করতে পেরে নিজের জীবনটা সার্থক মনে করছি’।

মহাভারতে পাণ্ডব ও কৌরব শিবিরের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল কুরুক্ষেত্রে। এটা পৌরাণিক কাহিনি এবং কাল্পনিক। তা সত্ত্বেও কুরুক্ষেত্র জায়গাটি এখন মহাসমারোহে বিদ্যমান ভারতের রাজধানী দিল্লির উত্তরে হরিয়ানা রাজ্যে। ধর্মানুভূতি নিয়ে ছাড়াও বহু মানুষ কল্পনার এই যুদ্ধক্ষেত্রটি দেখতে যায়। এটা ভারতের একটা পর্যটন কেন্দ্র এবং সেভাবেই সংরক্ষণ করা হয়েছে আকর্ষণীয় করে। চৌগাছার ওই গ্রামের হাতাহাতি যুদ্ধ ছিল বাস্তব এবং একাত্তরের গৌরব গাথার অনন্য একটি অংশ। একে একাত্তরের হাতাহাতি যুদ্ধক্ষেত্র বলে আখ্যায়িত করা যেতেই পারে এবং সেভাবে স্মরণীয় করে রাখা যেতে পারে। মানুষ জানবে এখানে একাত্তরে কী ঘটেছিল। যেমন আমাদের মহান শহীদ মিনার বলে দেয় মাতৃভাষার জন্য আমরা বায়ান্নতে জীবন দিয়েছি, আমাদের মহান জাতীয় স্মৃতিসৌধ বলে দেয় একাত্তরে আমরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা লাভ করেছি। তেমন বলে দেবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে চৌগাছার জগন্নাথপুরের এ মাঠে আধুনিক সমরাস্ত্রের যুগে হাতাহাতি যুদ্ধ হয়েছিল হানাদার পাকিস্তান বাহিনির সঙ্গে।

রুকুনউদ্দৌলাহ বিষয়টি সামনে এনেছেন তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে। এজন্য তাঁকে আন্তরিক সাধুবাদ জানাই।

হাতাহাতি যুদ্ধ ১৯৭১। প্রকাশক : অরিত্র, ঢাকা। প্রকাশকাল : মার্চ ২০২০। প্রচ্ছদ : সঞ্জয় দে রিপন। পৃষ্ঠা : ৬৪। মূল্য : ২০০ টাকা।