menu

সোহরাব হাসানের কবিতা

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২০
image

পৃথিবীর বেশিরভাগ সাহিত্যই পুরুষতান্ত্রিক। এতে ঘুরেফিরে পুরুষের মনোভঙ্গি প্রতিফলিত। এ কবিতায় নারীর আবেগ অনুভূতি তথা মনোভঙ্গি প্রকাশের প্রয়াস রয়েছে।

নারীমঙ্গল

১১.

নারীর ভেতরে দ্রোহ দেখলেন মহান মার্কস

তাঁর স্বপ্ন ছিল নারী-পুরুষের সুষম সমাজ

লেনিনের পাশে যোদ্ধা ছিলেন সাহসী স্কুপস্কায়া

ফোটাতে চেয়েছিলেন পুষ্পরাজি কঠিন পাথরে।

নারীও দেখেছে স্বপ্ন ভেদহীন পৃথিবী গড়ার

সেই স্বপ্ন ভেঙে আজ চুরমার ভলগার তীরে।

বিশ্বজুড়ে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখেন আন্তনিও চে

তার পেছনে থাকে এলিয়েদার অনিত্য প্রেরণা।

নারীহীন কোনো গ্রহ কখনো ভাবতে পারো তুমি?

পুষ্প নাই; শস্য নাই, চারদিকে বিরাণ প্রান্তর

প্রেমের পরশহীন মেঘে জানি বৃষ্টিও নামে না

তার জন্যে চাই গভীর-নিবিড়, গাঢ় ভালোবাসা

নারীই এনেছে শান্তি, এই অশান্ত পৃথিবী মাঝে।

১২.

আমি কারও দাসী-বাঁদী নই। কী করে ভাবলে তুমি

তু তু করে ডাক দিলেই চইলা আমু তার আগে

মিয়া শর্তগুলো ঠিক করে লও; কতটা ছাডুম

আমি, কতখানি ছাড় দিবা তুমি? সাফ কথা বলি

প্রথাগত কাবিননামায় আস্থা রাখিনি কখনো।

দেনমোহরের ধাপ্পা দিয়া আমাকে পটাবে তুমি

অমন অবলা মেয়ে নই, ভুজুং ভাজুং দিয়া

মন ভুলানোর চেষ্টাও করো না। যদি ঘর বাধো

এসো প্রেমের স্মারকে সই করি আমরা দুজন;

সাক্ষী থাক আকাশের গ্রহ-তারা, পূর্ণিমার চান।

পুরুষ মানুষ ঢের চেনা আছে; আমারে পর্দায়

রেখে যে সান্ধ্য-আসরে বের হয় বেদিল পুরুষ

আমিও কইছি কিরা কেটে, খুব বেশি বাড়াবাড়ি

করবা তো এইবার হাটে হাড়ি ভাইঙা দিমু গা।

১৩.

শৈশবে আমারে বলা হতো তুমি অমুকের মেয়ে

অহন সোহাগ করে ডাকো বউ; অতঃপর

কারও জননী বলে আমাকে চেনাবে; তোমাদের

পুরুষালি ভাষাতত্ত্বে মুছে গেছে নারীর নিজস্ব

নাম ও পদবি। পুরুষ সে লুলা-খঞ্জ, বোবা-কালা

যাই হোক, একটি নাম থাকা চাই। তোমরা নারীকে

ভাবো পরগাছা, উটকো আপদ। পাখিদের রাজ্যে

দ্যাখো কোনো ভেদাভেদ নাই, কেউ বলবে না এটা

পুরুষ পাখির বাসা, আর ওটা রমণী পাখির।

মাতৃগর্ভে যে সন্তান জন্ম লয়, তিলে তিলে যাকে

বড় করে তোলে নারী আপন রক্তে অস্থি-মজ্জায়

সেই সন্তানের ওপরও নাকি জননীর কোনো

হক নাই! পুরুষ একাই তার মালিকানা পাবে

পবিত্র ধর্মের নামে এ কেমন অসম-বিধান?

১৪.

আমারে চেনো না তুমি, দ্যাখো নাই এই ধরাধামে?

আমি তো রয়েছি জুড়ে বিশ্বময় মানবেতিহাসে

নিয়ত যুদ্ধের মাঠে লড়িয়াছি পুরুষের সঙ্গে

এখনো আমার লহু টগবগ করে; বিদ্রোহের

ডাক শুনি ফোরাত ও বসরায়। কালো আফ্রিকায়

আমিও ঝরিয়েছি খুন। হে মার্কেটে রক্তের রেখায়

লিখিছি আমিও সভ্যতার নাম; কারবালা বুকে

তোমরা কি শোনো নাই সখিনার আহাজারি?

একাত্তরে ভাইয়ের পাশে বোনও দিয়েছে প্রাণ

যমুনায় কত খুন মিশে গেছে; কত ভাগিরথী

রোশোনারা অকালে গিয়েছে ঝরে সে হিশেব

রাখেনি তো কেউ; রক্তে লাল বাংলার তের শ নদী

রোকেয়ার উত্তরসূরি যে আমি, সুফিয়ার বোন

ধমনীতে নাচে বিদ্রোহের ধারা, লাল রক্ত স্রোতে।

১৫

হাবিল কাবিল খুনে মাতে; কেহ নাহি কারে ছাড়ে

এ ওর ঘাড় মটকায়, ও এর চক্ষু উপড়ে ফেলে

পৌরুষ দেখায়। পুরুষের নৃশংসতা মুখ বুজে

সয়ে যায় মাটি; রোদনভরা আকলিমার দুই

চোখ ভিজে যায় জলে; বলবান পুরুষের কাছে

দয়িতার চেয়ে দানবতা বেশি প্রিয় মনে হয়।

কে কারে করবে কাবু, কে কারে ল্যাং মেরে

আখের গোছাবে বেশ, সেই ফন্দি আঁটে বারো মাস

যখন অসুরে ভরে যায় গ্রহ, যখন এ ওর দিকে

মারণাস্ত্র তাক করে থাকে, তখনই দশভুজা

সরস্বতী আসে পৃথিবীতে দ্রোহী, মাতঙ্গিনী রূপে।

কত যুদ্ধ কেড়ে নিল প্রাণ, কত জনপদ লয় হলো

তবুও পারেনি কেউ কেড়ে নিতে নারীর মমতা

তোড়ঙ্গে সযতেœ রাখা প্রাণ-নিঙরানো আশনাই।

১৬.

হাউসের বউ বলে কত তুমি আদর দিছিলা

বলছিলা হাতে পাইছো অলৌকিক সোনার মোহর

অনাহারী তোমার দু চোখ মজেছিল এই রূপে।

তোমার দু’হাত তবে মিলেছিল আমার দু’হাতে

আমার ওষ্ঠের ভাষা জানে সবল তোমার ঠোঁট;

তুমি ছিলে নবীন আদম আর আমি বিবি হাওয়া

যেমন আছিল তারা; গায়ে এক গোছা তন্তু নাই

যুগল বন্ধন দেখে লজ্জা পায় রাতের আকাশ

যেমন শস্যের ক্ষেত কৃষকের সঙ্গে সন্ধি করে

যেমন নদীরা আপন বেগে গিয়েছে সাগরে মিশে

তেমনই আমাদের মাঝে কোনো দূরত্ব রাখিনি

দেখো ইহলোকে নামিয়ে এনেছি অমর্ত্যরে সুখ

ভাঁড়ারে খাবার আছে কি নাই; সে কথা ভাবিনি।

মাস যায় বৎসর যায় থাকি পন্থের পানে চাইয়া

আমারে নি লক্ষ্মী বলে গাল দেয় পাড়া প্রতিবেশী।

  • সাব-অল্টার্ন স্টাডিজের ‘মহামারি’ ভাবনা

    মিল্টন বিশ্বাস

    newsimage

    সাব-অল্টার্ন স্টাডিজ গোষ্ঠীর অন্যতম লেখক দীপেশ চক্রবর্তীর Community, state and the body

  • করোনানিশীথে জ্ঞানদেবীর সঙ্গে

    নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর

    newsimage

    রাতভর জেগে চেষ্টা করছি। কিছুই লেখা হচ্ছে না। জ্ঞানদেবীও বুঝি করোনাকে ভয়

  • নিমাই সরকার

    আগুনের পরশমনি

    newsimage

    হঠাৎ করেই ভেঙেচুরে কিছু একটা পড়ার শব্দ। কী হলো, কী হলো! আর

  • অফিসে একদিন

    হাইকেল হাশমী

    newsimage

    অমিত মাত্র বি-বি-এ করেছে। কতো কষ্ট করে এই প্রতিষ্ঠানে দুইটা লিখিত পরীক্ষা তিনটি মৌখিক পরিক্ষা,

  • সাময়িকী কবিতা

    কোয়ারেন্টিনকে আমি বিসংরব বলি। তুমি তো সেই কস্মিনকাল থেকেই বিসংরবে তোমাকে জীবন্ত কবর জীবন্ত চিতায় একা রেখে

  • আমার আছে বই : ১২

    মালেকা পারভীন

    newsimage

    সাহিত্যের প্রতি ভিনসেন্ট এর ভালোবাসা এতোটাই অপ্রতিরোধ্য ছিল যে তাঁর কিছু পোর্ট্রেট/স্থিরচিত্র

  • গাব্রিয়েলা মিস্ত্রালের কবিতা

    অনুবাদ : অনন্ত মাহফুজ

    newsimage

    বিষণ্ণ মা ঘুমাও, ঘুমাও, প্রিয়তম আমার চিন্তাহীন, ভয়হীন, যদিও আমার আত্মা ঘুমায় না, যদিও