menu

সুহিতা সুলতানার কবিতা

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৯
image

শিল্পী : মাসুম চিশতি

দক্ষিণ দিগন্ত বেয়ে

এমন বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যায় স্তব্ধতা নেমে আসে দক্ষিণ দিগন্ত বেয়ে; বিশ্বাস অবিশ্বাসের জলে ভেসে বেড়ায় শাদা হাঁস যদিও ভয়ঙ্কর শীত নামেনি এখনও। নেকড়ের দাঁত ক্রমশ শুষ্ক রুটি, শূকরের মাংস আর হুইস্কির মধ্যে সেঁধিয়ে দিয়েছে গলা। নির্ভুল বানানে আমি যখন তোমাকে পাঠ করতে চেয়েছিলাম তখন অনেকটা সময় পেরিয়ে গ্যাছে; অভিভূত হবার মতো যদিও কিছু অবশিষ্ট ছিল না। আজকাল স্বস্তির বদলে অস্বস্তির হাওয়া এসে লাগে মনে কে জানতো হেমন্তের দিনগুলিতে মানুষ বড়বেশি অবিশ্বস্ত হয়ে উঠবে! এখনও প্রতিশ্রুতির মুখে আগুন ঢালে মিথ্যেবাদী রাখাল চোখের মধ্যে গোধূলি রঙ অদৃশ্য ডানায় ভর করে আমি উড়ে উড়ে গিয়েছি মেঘেদের বাড়ি সেখানে ঝরা পাতার ভেতরে বাজে মনের মর্মর। বড় শহরে মানুষের মন কেমন যেন ছোট হতে হতে কাটা চাঁদের ছায়া হয়ে নির্জন পথের ওপর শুয়ে থাকে অপরিচিতের মতো। অসতর্ক হলেই ভুল অঙ্ক উল্লাসে মুখর হয়ে বাজায় বিউগল বিমুগ্ধ অন্ধকারে তার খ-িত জীবনের ভেতরে অশুভ অঙ্গভাঁজ বিয়ারের টিনে ঢেউ তোলে যেন অভিশপ্ত সরোবর! অভিলাষে কাঁপে বনভূমি কে কাকে ভালোবেসে বেদনার্ত হতে চায়? প্রেম মানে জলের অধরা, বাষ্পরুদ্ধ স্বর, নীল রুমালের গল্প, ঈর্ষা আর প্রগাঢ় অপেক্ষা

অগ্নিমোম

তরঙ্গের ভেতরে অভ্যাস হাঁটু মুড়ে বসে। ঝাউবনে বালির আড়ৎ, মৎস্যকন্যাদের মনের অলিন্দে জলের প্ররোচনা আগুনের মধু হয়ে কাঁপায় ত্রিকাল। নিঃশব্দে খিল এঁটে বসে থাকে রাত্রির উপসংহার। এ সময় ঘোড়ার হাসি ভেঙে ফেলে উপমা-শৃঙ্খল। আজব বটে! কারো প্রতি আজ আমার কোনো পক্ষপাত নেই প্রান্তরের সব উল্লাস বিভ্রমের ভেতরে মুখ থুপড়ে পড়েছে। হেমন্ত সন্ধ্যায় খল-নায়কের উদ্বেগ স্বপ্নজাল ভেঙে ভেঙে পাঠকের কপালে ঢেলে দেয় অগ্নিমোম। স্বপ্নগ্রস্ত মায়াজাল শূন্যতা নিয়ে খেলে! চাঁদের সাঁকোর ওপর ঘাতক তস্কর দিন বদলে গেলে যে কী সেই! গোধূলি-বৃক্ষের নিচে মনের ওপর চন্দ্র দুলে ওঠে। ভেঙে পড়ে কাচের দিগন্ত। হু হু করে কৌতূহল নিদ্রার ওপর উড়ে উড়ে আসে। লেপ্টে যায় সন্ত্রাসী হাওয়া পাশা খেলায় কে জিতবে কে হারবে কে জানে!

সেইসব মানুষের মুখ

সেইসব মানুষের মুখ কী অদ্ভুতভাবে বাঁকা হতে হতে নেতিয়ে পড়েছে কেদারার ওপর! রাতের অন্ধকারে চাঁদকে পেছনে ফেলে ক্ষমতার শেকড় চারিয়ে দিয়েছে নাভির ভেতরে। সেই মুখ সেই কণ্ঠস্বর কেন এত অচেনা হলো? তার চোখের ভেতরে এত বিষ এত হিংসা লুকিয়ে ছিল বুঝিনি আগে! যে নদী স্বপ্নের ভেতরে স্বপ্ন চূর্ণ করে প্রান্তরের সব উল্লাস বিরুদ্ধ স্রোতের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয় এখন কে যাবে নিঃস্ব হতে সেই নদীর কাছে?

ক্যাসিনো

ক্রমশ জালের ভেতরে সন্দেহাতীত টার্ম। গড়িয়ে গড়িয়ে যায় যাদুর বল, সতৃষ্ণ অনুরাগে পর্যবেক্ষণের লাটাই আজ ভোকাট্টা ঘুড়ি। কোনো দৃশ্যই যেন দৃশ্য নয়, প্লাস্টিকের দরোজা খুলতে খুলতে অমসৃণ মুদ্রার ওপর শুয়ে আছে স্তনের ছায়া। ঘটনার ধূম্ররাশি ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে বিনিদ্র রাত্রির গ্রীবার ওপর। হে আশ্চর্য নগরী স্নান শেষে মূলের উদগম চূর্ণ হতে হতে অগ্রাহ্য আয়নায় সূর্যগ্রহণের নামে পূর্ণগ্রাস হতে থাকে!

চন্দ্রখণ্ড

বৃক্ষের মগডালে হেলে পড়েছে চন্দ্র। দ্বিধাবিভক্ত সময়ের ওপর চন্দ্রখ- সবুজ পাতার ওপর লগ্ন হয়ে থাকে। অতঃপর তার কালঘুম খেয়ে ফ্যালে অনন্ত নক্ষত্র, নৈঃশব্দ্যের মধ্যদুপুর সময়ের ঘাড় বেয়ে উঠে আসে রক্তাক্ত তীর। দুঃস্বপ্ন ঘন হয়ে পাশে বসে! ও মেঘ ও চন্দ্র অবিরাম নীল জাদুকর হাওয়ায় ওড়াতে থাকে রঙিন ফানুস! অতএব সরাইখানায় ঘুমিয়ে থাকে স্বপ্নভুক মাতাল এক; ‘বুকে তার রক্তজবার মতো ক্ষত’ ঈগলের ডানায় ভর করে সে কি ফিরে আসে মধ্যরাতে?

  • বিশুদ্ধির বিরল উত্থানে সে

    ইমতিয়ার শামীম

    newsimage

    সাধারণ এক সংখ্যাই ছিল সেটা,- সাপ্তাহিক বিচিত্রার ওই সংখ্যা হয়ত এখন কোনওমতে টিকে আছে কারও ব্যক্তিগত সংগ্রহের ভিড়ে- সংগ্রাহকও

  • একাকিত্বে ও আমার একান্ত স্বজন

    মাসুদার রহমান

    newsimage

    প্রিয় কবি! এই অভিধাটি নিয়ে এ পর্যন্ত আমার কোন ভাবনা নেই। এই মুহূর্তে লিখতে বসে তা নিয়ে ভাবনা ও ধন্ধে পড়া গেল। প্রিয় কবি; এই

  • আবুল হাসানের কবিতায় দুঃখবোধের বৈচিত্র্য

    অনন্ত মাহফুজ

    newsimage

    জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা। দৃশ্যের বিপরীত

  • উড়াল

    মুজতাবা শফিক

    newsimage

    অফিস শেষ করে জ্যাম ঠেলে মতিঝিল থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতে প্রায় সাতটা বেজে যায়। জামাকাপড় খুলে মুখ হাত ধুতে

  • ধারাবাহিক ভ্রমণ কাহিনি : চার

    সিমলা-মানালির পথে

    কামরুল হাসান

    newsimage

    সেন্ট্রাল বাসস্টপে যাত্রা বিরতি ১৫ মিনিট। আমি এ সুযোগে নিচে নেমে ডাবল

  • সাময়িকী কবিতা

    কখনও-সখনও, অবেলায় নদীপাড়ে, নীল প্রজাপতি