menu

ধারাবাহিক ভ্রমণ কাহিনি : চার

সিমলা-মানালির পথে

কামরুল হাসান

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৯
image

(পূর্ব প্রকাশের পর)

সেন্ট্রাল বাসস্টপে যাত্রা বিরতি ১৫ মিনিট। আমি এ সুযোগে নিচে নেমে ডাবল ডিমের ফ্রেঞ্চ টোস্ট ও চা খাই। আমি সিঙ্গেল ডিমের চেয়েছিলাম, দোকানি বল্ল, সিঙ্গেল হবে না, ডাবল হবে। চাসহ দাম পড়ল ৪৫ রুপি। ছাউনির নিচে বেশ কিছু ছোট ছোট টঙ ঘরের মতো খাবারের দোকান, সেখানে বিবিধ প্রকার খাবার পাওয়া যায়। দিল্লির উত্তর প্রান্তে অবস্থিত এই মহারানা প্রতাপ বাস টার্মিনালটি রয়ে গেছে অতীতে, আধুনিক হয় নি, অনেকটা আমাদের মহাখালী বাস টার্মিনালের মতো ঘিঞ্জি ও দরিদ্র চেহারার।

দিল্লির প্রতিবেশী প্রদেশগুলোর সরকারি বাসসমূহ এখানে ভিড়ে। আমি হরিয়ানা ও পাঞ্জাব সড়কপথের অনেকগুলো বাস ভিড়ানো দেখলাম। এই হচ্ছে সেই হাব, যেখান থেকে কম খরচে বাসে চড়ে আপনি দুর্দান্ত সব পর্যটন এলাকায় চলে যেতে পারবেন। যাত্রীদের বসার জন্য সিমেন্টের আসন রয়েছে, তাদেরই একটিতে এক প্রবল সুন্দরী বসে আছে, একা। তার দু’পাশেই খালি জায়গা, আমি গিয়ে একপাশে বসি। সুন্দরীরা যেমন হয়, রূপের দেমাগে টইটম্বুর, কাউকে গ্রাহ্য করে না, ইনি তাদেরি দলে। ইচ্ছা ছিল ভাব জমাবো, হলো না। একবার বলেছিলাম, ‘You are extremely beautiful’। কোন প্রতিক্রিয়া দেখালো না। ইংরেজি জানে না বোধহয়।

বাসে এক বৃদ্ধ ফেরিওয়ালা উঠলেন। তাকে দেখে কে বলবে ফেরিওয়ালা? চেহারার ভিতর একটা বুদ্ধিদীপ্ততা আছে, আর সে ফেরি করছে বুদ্ধিদীপ্ত সামগ্রীই- বই। হাঁটুর সামান্য উপর থেকে চিবুক পর্যন্ত সে দুহাতে বুকের সাথে ঠেকিয়ে রেখেছ একের পর এক চাপানো বইয়ের লম্বা এক সারি, যতগুলো আঁটানো সম্ভব, ততগুলোই। হয় সে খুব দক্ষ, অথবা তার অভ্যাস হয়ে গেছে ঐ কষ্টকর প্রক্রিয়ায় বইয়ের বোঝা বইবার বিষয়টি। জীবনের বোঝা সে বয়ে চলেছে সন্দেহ নেই। প্রথমে সে চাইল ফিকশন বিক্রি করতে, পরে চাইল স্থাপনা ও পর্যটনের ছবি সম্বলিত বই বিক্রি করতে। দুটোতেই ব্যর্থ হয়ে বইয়ের সারিটির ভারসাম্য রক্ষা করতে করতে নিচে নেমে গেল। আমার ভয় হলো তার ঐ বইসারি ভেঙ্গে পড়ে কী না, আর মনে পড়ল ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা’ গানের অমর পঙ্ক্তি ‘জীবন করেনি তাকে ক্ষমা হায়।’

বাস ছাড়লো ২:২০ মিনিটে। সেই পরমাসুন্দরী রমণী শেষ মুহূর্তে আমাদের গাড়িতেই উঠলেন। পাক্কা দু’ঘণ্টা পার, এখনো পড়ে আছি দিল্লিতেই। আমার পাশে যিনি বসেছেন সেই ধর্ম-কর্মে বিশ্বাসী পৃথুলা কী প্রসঙ্গে হরিদ্বার বললে চিনতে পারলেন না, পরে টেনে টেনে উচ্চারণ করলেন ‘হরিদদুয়ার’। তিনি বল্লেন, এ বাসস্টপ থেকে পাকিস্তান বর্ডার সিঙ্গুতে যাওয়া যায়। দিল্লির উত্তরাঞ্চল বেশ হতশ্রী, উপশহরগুলোর চেহারা নিপাখি, নিপল্লব, রুক্ষ ও দরিদ্র। দেখে বোঝা যায় নিম্ন মধ্যবিত্তের এলাকা। দালান তবে শ্রী নেই, গায়ে গায়ে লাগানো, অভিন্ন দেয়ালে এমন বাড়ি প্রচুর দেখলাম, তাদের স্থাপত্যে কোন স্থপতির ছোঁয়া আছে বলে মনে হলো না, আছে বংশপরম্পরায় টিকে থাকা কোন মহা (এবং মহান) রাজমিস্ত্রির প্রতিভার ঐতিহ্য। বাড়িগুলোর কতগুলো মিলনাত্মক বৈশিষ্ট্য হলো তাদের রেলিংঘেরা বারান্দা ও ছাদ আছে, জানালাগুলো মিশে আছে দেয়ালের সাথে। বিবিধ উচ্চতার কারণে কোন symmetry পাওয়া যায় না, এবড়ো-খেবড়ো মনে হয়। এরকম বাড়িঘর আমি পাকিস্তানেও দেখেছি, আর এখান থেকে পাকিস্তান দূরে নয়।

মৃতপ্রায় যমুনাকে দেখা গেল অনেকটা শুকিয়ে যাওয়া জলাভূমির মতো। প্রথমে চিনতে পারি নি, পরে বুঝলাম এই সেই যমুনা, জৌলুসপূর্ণ দিল্লির কোল ছেড়ে এসে শহরতলীর মতো সেও নিঃস্ব ও দরিদ্র হয়েছে। হাইওয়ের মুখটায় বিবিধ এলাকার, যেমন আজাদপুর, গাজিয়াবাদ, টিমারপুর নাম লেখা সাইনবোর্ড, যার মাঝে বাকুলি নামের একটি গাঁও রয়েছে। নগরের চারিপাশের এলাকাগুলো তো গ্রামই; ঝগড়াটে প্রতিবেশির মতো নগর তার সীমানা কেবলি বাড়িয়ে নেয়, গাঁওগুলোকে শহুরে আলখাল্লার নিচে ঢেকে দেয়, গ্রাম হারিয়ে যায়, থাকে তার নামটি কেবল। সেখানে দিল্লি প্রায় ফুরিয়ে এসেছে, একটি নিচু পাহাড় দেখে ভাবছি দিল্লির উত্তরেই পাহাড়! পাশের পৃথুলা জানালো, পাহাড় নয়, ওটা হলো বর্জের বিরাট স্তূপ। আমি রীতিমতো অবাক, অবশ্য অবাক হবারও কিছু নেই, কেননা একটি মেগা সিটির বর্জ্যরে পাহাড় হওয়াটাই স্বাভাবিক। ঐ যে বলেছিলাম নিপাখি, তা কিন্তু নয়, বর্জ্যরে টিলায় বসে আছে শকুন। রীতিমতো হরর মুভির সেট। এখানেই দিল্লির সীমানা শেষ, দিল্লী মেট্রো এখানে এসে শেষ হয়েছে। আবর্জনার স্তূপের বিপরীতে জাহাঙ্গীর পুরি নামের একটি দরিদ্র এলাকা চোখে পড়ল। এ জাহাঙ্গীর মোঘল বাদশাহ না হয়েই যায় না। বেঁচে থাকলে স¤্রাটের এলাকাটি পছন্দ হতো না নির্ঘাৎ!

ওপাশে গাজিয়াবাদ নামের বিরাট উপশহরটি, সে এলাকার মানুষ এই মেট্রো চড়েই প্রতিদিন রাজধানীতে যাবে আর ফিরে আসবে বৃক্ষপত্রহীন এক রুক্ষ্ম বসতিতে, যাকে আমার উন্নত বস্তি বলেই মনে হলো। অবশ্য বাসের জানালা থেকে অমন ঢালাও মন্তব্য করা সমীচীন নয়। এখানে মেট্রোর অনেকগুলো বাঁকানো এলিভেটেড রুট এক সুন্দর দৃশ্যজাল সৃষ্টি করেছে। হাইওয়েটির উপর একটি বাঁকানো আর্চটাইপ গেটের কাছে ঐ আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থা নয়নাভিরাম লাগলো। বাস তখন হতশ্রী সব এলাকার মাঝ দিয়ে চলা সড়ক ধরে ছুটছে। বুঝি কী বিপুল সংখ্যক মানুষ দিল্লির আশেপাশে থাকে, তাদের জীবিকা ওই শহরেই, কিন্তু ব্যয়বহুল রাজধানীতে থাকার সামর্থ্য তাদের নেই। এসব এলাকা দেখলে মনে পড়ে আল মাহমুদের কবিতার সেই শব্দবন্ধ, ‘মানুষের সাধ্যমতো ঘরবাড়ি।’

বাসের চালক কারনেল বাইপাস থেকে যাত্রী তোলার চেষ্টা করলো, কেননা বাসের কিছু সীট তখনো খালি। ধীরপুর নামক জায়গায় নতুন আবাসিক এলাকা গড়ে উঠছে। রাস্তার চিহ্ন দেখাচ্ছে সোজা গেলে রোহিনি, বায়ে গেলে আজাদপুর, এখানেই দিল্লী বাইপাস, নগর ছাড়িয়ে হাইওয়েতে ওঠা। আলীপুর, সোনেপাত প্রভৃতি এলাকার নাম জানলাম সড়ক সাইনপোস্ট থেকে। ইংল্যান্ডে যেমন দেখেছি স্থানের নামের সাথে দূরত্ব লেখা থাকে, এখানে তেমন দেখলাম না, শুধু বুঝলাম এ সকল জায়গা ইতিহাসের চিহ্ন ধরে আছে, বিশেষ করে মোঘলদের সময়ে। রাস্তা ক্রমশ চওড়া হচ্ছে, রাস্তার উপর পাঞ্জাবী খাবারের বিখ্যাত দোকান ‘ধাবা’ দেখতে পাচ্ছি, একটি নয়, অনেকগুলো। মাঝে মাঝে উঁকি দিয়ে যায় শিখ মন্দির গুরুদুয়ারা। ঐ বাকসো টাইপ দালানপোরা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর ভিতরও দেখেছি উপসনালয়সমূহের চূড়া মানুষের অজ্ঞতা ও বিশ্বাসকে পুঁজি করে শির তুলে আছে। আমার ইচ্ছে হলো কোন একটি ধাবাতে নামি আর পাঞ্জাবী খাবারের স্বাদ নেই। বাস তখন কারনেলের দিকে ছুটছে।

দিল্লি থেকে সোজা উত্তরে চণ্ডিগড়, দূরত্ব ২৬০ কিলোমিটার। সোজা উত্তর হয়তো নয়, তবে রাস্তা এদিক সেদিক কোমর দুলিয়ে উত্তর দিকেই গেছে। শিখদের তীর্থস্থান অমৃতসর আর তাদের রাজধানী চণ্ডিগড় দেখার শখ আমার বহুদিনের। শখটি হালে পানি পেল হায়দ্রাবাদ কবিতা উৎসবে খোদ চণ্ডিগড়ের কবি লিলি স্বরনের সাথে পরিচিত হওয়াতে। আমার আগ্রহ দেখে তিনি উদার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। দিল্লির দক্ষিণ এশিয়া সাহিত্য উৎসব হঠাৎই স্থগিত হওয়ায় চণ্ডিগড় বেড়াবার একটি সুযোগ এসে যায়। ঢাকা থেকেই কবি লিলি স্বরনের সাথে যোগাযোগ হলো, তিনি একই আন্তরিকতা প্রদর্শন করলে চণ্ডিগড় যাওয়া সহজ হয়। তিনি আমাকে বলেছিলেন দিল্লি পৌঁছে তাকে ফোন দেবার জন্য। আমি মীনের ন্যায় অক্ষি যে মেয়েটির, তার মোবাইল থেকে লিলি স্বরনকে ফোন দিয়ে জানাই আমার বাসের সময়সূচি। তিনি আমাকে বাসস্টপ থেকে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তার কণ্ঠস্বরে দারুণ উষ্ণতা ও নিখাদ আন্তরিকতা টের পেয়ে আশ্বস্ত থাকি।

দিল্লি থেকে চণ্ডিগড় যাবার এই ২৬০ কিলোমিটার পথে অনেক ঐতিহাসিক জায়গা পড়ে। প্রথমেই পড়ল সোনিপাত, যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় সোনার পথ। সোনিপাত হয়তো অনেকের চেনা জায়গা নয়, কিন্তু এরপরে যে জায়গাটি পড়ে সেই পানিপথের নাম সকল স্কুলবালক ও বালিকা জানে। কেননা পানিপথ ইতিহাস বইতে জায়গা করে নিয়েছে। তার প্রান্তরকে যুদ্ধের জন্য বেছে নিয়েছিল মোগল স¤্রাট বাবর ও তার প্রতিদ্বন্দ্বি ইব্রাহিম লোদী। তারা বেছে নিয়েছিল নাকি যুযুধমান দুই সেনাদল এসে পড়েছিল পানিপথের প্রান্তরে, কে জানে? যাই হোক না কেন, দিল্লি থেকে ৯০ কিলোমিটার উত্তরে এই প্রান্তর ইতিহাসে সমুজ্জ্বল, কেননা এখানে সংঘটিত তিনটি যুদ্ধ ভারতবর্ষের ইতিহাস পাল্টে দিয়েছে ।

সমরকন্দ উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে বাবর ভারতবর্ষ জয়ের জন্য দিল্লী অভিমুখে তার বাহিনী ছুটিয়ে দেয়। দিল্লী নয়, বাবরের ইচ্ছা ছিল পাঞ্জাব দখল করা, কেননা তার পূর্বপুরুষ তৈমুর লংয়ের সাম্রাজ্য পাঞ্জাব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অনেকটা পিতামহের অর্জিত সম্পত্তি পৌত্রের দাবি করার মতো। সেটা ১৫২৬ সাল, দিল্লির মসনদে তখন ইব্রাহিম লোদী, তিনি বাবরের অভিলাষ পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন। ফলশ্রুতি ঐ যুদ্ধ, যাতে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্যসংখ্যা বাবরের বাহিনীর চতুর্গুণ থাকা সত্ত্বেও ১০০টি যুদ্ধবাজ হাতি সজ্জিত এক লক্ষ সৈন্যের বিপুল বাহিনী হেরে যায়। মূলত কামানের কাছেই হেরে গিয়েছিল ইব্রাহিম লোদীর সেনাদল, কামানের বিকট শব্দে ভীতসন্ত্রস্ত হাতিদল দিকবিদিক ছোটাছুটি করে পিষে মেরেছিল আপন সৈন্যদের। ভারতে মোঘল শাসনের গোড়াপত্তন হলো সে যুদ্ধ জয়ে। ৩৩১ বছর মোঘলরা ভারতবর্ষ শাসন করেছিল, দখল করতে এসে তারা আর ফিরে যায় নি, লুণ্ঠনকারী অন্যান্য শাসক তৈমুর লং, হালাকু খান, কুবলাই খান, চেঙ্গিস খানের পথ অনুসরণ না করে বসতি স্থাপন করেছিল, হয়ে গিয়েছিল ভারতীয়।

ঐতিহাসিক প্রান্তরে তৃতীয় যুদ্ধটি হয় এর ২শ’ বছর পরে ১৭৬১ সালে মারাঠা বাহিনীর সাথে আফগান বাহিনীর, যাতে জয়লাভ করে আক্রমণকারী আফগানরা। সেসময় আফগানিস্তানের শাসনকর্তা ছিলেন আহমেদ আল আবদালী। তার পক্ষে লড়াই পরিচালনা করেন আহমেদ আল দুররানী। এ যুদ্ধে অপেক্ষাকৃত ছোট বাহিনীর হাতে পরাস্ত হতে হয়নি বিপুল বাহিনীর। সদাশিবরাওয়ের বাহিনীতে সৈন্য ছিল পঞ্চাশ থেকে সত্তর হাজার, যার অর্ধেকই যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছিল

দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধ সংঘটিত হয় প্রথমটির ত্রিশ বছর পরে ১৫৫৬ সালে। সে যুদ্ধেও অপেক্ষাকৃত ছোট সেনাদলের বিরুদ্ধে হেরে যায় বিপুলাকার বাহিনী। এ যুদ্ধে হিন্দু রাজা হিমু, যিনি হুমায়ূনের আকস্মিক মৃত্যুর পর মোঘল শাসনের দুর্বল মুহূর্তে দিল্লির মসনদ দখল করে নিজেকে রাজা বিক্রমাদিত্য হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, তিনি তৃতীয় মোঘল স¤্রাট আকবরের বিরুদ্ধে শোচনীয়ভাবে হেরে যান। অথচ হিমুর বাহিনী ছিল বিপুল, হাতিই ছিল ৫০০ (ভাবা যায়?)। আকবর তখন মাত্র তের বছরের বালক। তের বছরের হলে কী হবে, আকবরের ছিল বৈরাম খাঁন নামের এক প্রাজ্ঞ অভিভাবক। এ যুদ্ধে দুপক্ষই কামান ব্যবহার করেছিল। হিমুর বাহিনী হেরে যায় প্রতিপক্ষের উন্নত সমরকৌশলের কাছে। মোঘলরা যুদ্ধক্ষেত্রের দুপাশে পরিখা খনন করে হিমু বাহিনীকে একটি অপ্রশস্ত মধ্যভাগে ঠেলে দেয়, যেখানে তার হাতি ও সেনাদল কামানের গোলা ও ধনুকের তীরের মুখে পড়ে পর্যুদস্ত হয়। এমনি একটি বিক্ষিপ্ত ছোড়া তীর বাম চোখে বিঁধলে হাওয়াই নামক অতিকায় হাতির উঁচু পিঠের উপর বসানো মাচা থেকে হিমু মাটিতে পড়ে যান। এর আগ পর্যন্ত হিমু সাহসিকতাপূর্ণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেনানায়কের পতন দেখে সৈন্যদল মনোবল হারিয়ে ফেলে, তারা পালাতে থাকে, জয় হয় মোঘল বাহিনীর। হিমুর হাতিবাহিনীর বিক্রম দেখে মুগ্ধ আকবর মোঘল বাহিনীতে হস্তিপালটি জুড়ে দিয়েছিল।

এই ঐতিহাসিক প্রান্তরে তৃতীয় যুদ্ধটি হয় এর দু’শ’ বছর পরে ১৭৬১ সালে মারাঠা বাহিনীর সাথে আফগান বাহিনীর, যাতে জয়লাভ করে আক্রমণকারী আফগানরা। সেসময় আফগানিস্তানের শাসনকর্তা ছিলেন আহমেদ আল আবদালী। তার পক্ষে লড়াই পরিচালনা করেন আহমেদ আল দুররানী। এ যুদ্ধে অপেক্ষাকৃত ছোট বাহিনীর হাতে পরাস্ত হতে হয় নি বিপুল বাহিনীর। সদাশিবরাওয়ের বাহিনীতে সৈন্য ছিল পঞ্চাশ থেকে সত্তর হাজার, যার অর্ধেকই যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছিল। বন্দি সেনাদেরও দয়া করেনি বর্বর আফগানরা, ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছে আরও চল্লিশ হাজার। আফগান পক্ষেও চল্লিশ হাজার সৈন্য নিহত হয়েছিল- সব মিলিয়ে এই যুদ্ধটি ইতিহাসেরই এক অন্যতম নির্মম যুদ্ধ।

আমরা যাচ্ছি দক্ষিণ থেকে উত্তরে, বাসের দু’পাশে পূর্ব-পশ্চিম। আমার জানালা পড়েছে পশ্চিমপাশে, মধ্যগগন ছেড়ে পশ্চিমে হেলে পড়া সূর্য এখন বাসের পশ্চিমপার্শ্ব আলোকিত ও উত্তপ্ত করে তুলেছে। সুব্রত যখন আমার জন্য বাসের সিট নির্বাচন করছিল, তখন এই বিষয়টি তার মাথায় ছিল না, ছিল আমার নিরাপত্তা ভাবনা। সোনিপাতে অনেক condominium দেখে আমার দিল্লির আরেক উপশহর নয়ডার কথা মনে পড়ল, যেখানে সুব্রত থাকে। নয়ডা অবশ্য অনেক সুশোভিত, কনডোমিনিয়ামের সংখ্যাও ঢের বেশি। ঢাকার চারিপাশ ঘিরে যে শহরপুঞ্জ গড়ে উঠেছে- গাজিপুর, সাভার, কেরানিগঞ্জ, পূর্বাচল, তেমনি দিল্লির চারিপাশে নয়ডা, গুরগাঁও, গাজিয়াবা প্রভৃতি প্রধানত আবাসিক, কোথাও শিল্পাঞ্চল, গড়ে উঠেছে। নবনির্মিত বলে দিল্লির উপশহরগুলো ঢের সুশোভিত ও নয়নকাড়া!

  • বিশুদ্ধির বিরল উত্থানে সে

    ইমতিয়ার শামীম

    newsimage

    সাধারণ এক সংখ্যাই ছিল সেটা,- সাপ্তাহিক বিচিত্রার ওই সংখ্যা হয়ত এখন কোনওমতে টিকে আছে কারও ব্যক্তিগত সংগ্রহের ভিড়ে- সংগ্রাহকও

  • একাকিত্বে ও আমার একান্ত স্বজন

    মাসুদার রহমান

    newsimage

    প্রিয় কবি! এই অভিধাটি নিয়ে এ পর্যন্ত আমার কোন ভাবনা নেই। এই মুহূর্তে লিখতে বসে তা নিয়ে ভাবনা ও ধন্ধে পড়া গেল। প্রিয় কবি; এই

  • আবুল হাসানের কবিতায় দুঃখবোধের বৈচিত্র্য

    অনন্ত মাহফুজ

    newsimage

    জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা। দৃশ্যের বিপরীত

  • উড়াল

    মুজতাবা শফিক

    newsimage

    অফিস শেষ করে জ্যাম ঠেলে মতিঝিল থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতে প্রায় সাতটা বেজে যায়। জামাকাপড় খুলে মুখ হাত ধুতে

  • সুহিতা সুলতানার কবিতা

    newsimage

    এমন বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যায় স্তব্ধতা নেমে আসে দক্ষিণ দিগন্ত বেয়ে; বিশ্বাস অবিশ্বাসের জলে ভেসে বেড়ায় শাদা হাঁস যদিও ভয়ঙ্কর শীত নামেনি এখনও

  • সাময়িকী কবিতা

    কখনও-সখনও, অবেলায় নদীপাড়ে, নীল প্রজাপতি