menu

সাময়িকী কবিতা

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২০

বিসংস্রবের নারীগণ

উম্মে মুসলিমা

কোয়ারেন্টিনকে আমি বিসংরব বলি।

তুমি তো সেই কস্মিনকাল থেকেই বিসংরবে

তোমাকে জীবন্ত কবর জীবন্ত চিতায় একা রেখে

চলে গেছে যারা চায়নি তুমি চোখ তুলে চাও।

চীনা মেয়ে তুমি এক পড়তে এদেশে জেন্ডার সমতা

আর ফেরোনিকো ও দেশে, আনমনে বলেছিলে একদিন

শৈশবে ইস্কুলে যাবার পথে অন্তত পাঁচদিন

পাঁচটি নবজাতিকার শব ডাস্টবিনের অদূরে দেখেছ।

কুকুর আর কাকে টানাটানি করছিল তদের নাভিফুল।

ঋতুবতী হলে তোমাকে বিসংস্রব করেছিল প্রাচীনারা।

যে গাঁয়ে জন্ম সে গাঁয়েই দোজবরে বিয়ে হলো তোমার

‘শহরের সিনেমা হলে একটা সিনেমা দেখার ইচ্ছে’

বলাতে বাড়িসুদ্ধ লোক তোমাকে একঘরে করেছিল।

ছেলে ছেলে করে সাত মেয়ে জন্ম দিলে

তোমাকে দুয়োরাণি করে দূর করেছিল অসুর শ্বশুর।

কালো বলে কত বেণিমাধব তোমাকে ঘর দেয়নি,

আড়াল দেয়নি এমনকি সেলাইমেশিনও কিনে দেয়নি

যা তোমার পেটের জ্বালা যৌবনজ্বালাকে তুচ্ছ করে।

বাপ-ভাই মুক্তিযোদ্ধা তবে তুমি হলে লালসার বলি

তাদের কেউ কেউ তোমাকে দ্বিত্ব করেছিল

তবুও তুমি মহান বিসংরবা। আর জাতিকা জারজ

ভুল ঠিকানার সংরবে গায় একলা চলার গান।

তুমি তো একবাড়ি একটি মানুষ। তোমার ছেলেপুলে

পিতৃকুল ধারণ করে নাকে-চোখে-দৈর্ঘ্যে-আচরণে

তুমি তো চিরদিনের বৃক্ষ মারিয়াম।

ধর্ষণ পরে ওরা মুখ পুছে ঘরে ফেরে

তোমাকে আশ্রয় দেয় অচেনা জনপদ। জীবিত বা মৃত।

কখনও বা নগরের প্রান্তে তুমি খুলে রাখ বহুব্যবহৃত শায়া।

যারা ঘরে থাকে, পুজো করে, মশারি মেলার ছলে

সোনা বা কাঁচের চুড়িতে তোলে শারীরিক আহ্বান

তারাও জেনে রাখ তোমারই মতো বিসংস্রবা

কেবল তোমার আছে আকাশ, তাদের এক চিলতে গবা।

করোনাকালের পানতুম

মাহফুজ আল-হোসেন

কখনো সখনো শৃঙ্খখলেই থাকে মুক্তির চাবি

মন তবু মানতে নারাজ সাময়িক অবরুদ্ধতা

অশ্রুত কেন ঘাসফড়িং আর অশ্বত্থের দাবি

কোন প্রালনে ফিরে পাবে চিত্তের শুদ্ধতা

মন তবু মানতে নারাজ সাময়িক অবরুদ্ধতা

চোখাচোখি হোক তবু মুখ দেখাদেখি বারণ

সৈকতে ফিরেছে ডলফিন নীলাম্বরে মুগ্ধতা

আছে ঢের তবুও রোজ কেনাকাটা অকারণ

চোখাচোখি হোক তবু মুখ দেখাদেখি বারণ

অভুক্ত রোজ তাও হতভাগা পাতবে না হাত

আক্রান্ত মা থাকুক জঙ্গলে- বাহ্ অসাধারণ

কালরাত্রি শেষে তোমায় জানাবো সুপ্রভাত

অভুক্ত রোজ তাও হতভাগা পাতবে না হাত

কোন দোষে হলো পৃথিবী পর- সেটাই ভাবি

কালরাত্রি শেষে তোমায় জানাবো সুপ্রভাত

কখনো সখনো শৃঙ্খলেই থাকে মুক্তির চাবি

কোন এক অপরাহ্ণ

চন্দ্রশিলা ছন্দা

তুমি প্রথম পরিচয় করে দিয়েছিলে

এমিলি নেলিগানের সাথে

যিনি তোমার আমার মতো কবিতা ভালোবাসতেন

যিনি ভালোবাসতে বাসতে হারিয়ে যেতেন

কোন এক অচেনা পথে, ঘরের ভেতর ঘরে

ঘুলঘুলির ভেতর আলো আঁধারির ঘুলঘুলিতে

সুসমিতো তোমাকে পড়তে পড়তে

আমার নিশ্বাসে অবিশ্বাস্য ধাতবতায়

কেমন যেন জড়িয়ে গেলো সবকিছু

নেলিগান, তুমি, আমি, সিজোফ্রেনিয়া

এমন তো হয়নি কখনো আগে,

হবার কথাও তো নয়!

তোমাকে পড়ার তীব্র আবেগ নিয়েই বন্ধ করি

বইয়ের পৃষ্ঠা

না, কোন ভুল ছিলো না ব্যাকরণে

বরং মিলে যাওয়াটাই নিজের বিরুদ্ধে কাউকে

দাঁড় করানো

অথচ আমি বেশিটুকুই আটপৌরে

এদেশের উঠোন মাটির মতো

আমার কিশোরী মেয়েটা আমাকে সারাণই

কিউট কিউট বলে

আদর করতে থাকে

আমি অনুভব করি এই সময়ের সাথে আমার অভিব্যক্তি

কিংবা কথকতার বৈপরীত্য

তাই স্বাভাবিক অস্বাভাবিকতার স্তরে স্তরে

যে ভার তাকে গ্রহণ করি অনায়াসে

সুসমিতো দ্যাখো, তুমি আমি নেলিগান কেমন

মিলে গেছি একই রেখায়

এসো তবে কোন এক অপরাহ্ণে

আলিঙ্গনাবদ্ধ হই

সবকিছু পেছনে ফেলে।

ধুলোবালির সংসার

মঈনুল হাসান

কান্ত দুপুরের শরীর বেয়ে

জীবনের বন্দনা শেষে

ভাঙাচোরা সংসারের টুকরো ভরা

বিষাদ টেনে নিয়ে চলেছে

এক কান্তিময় ভ্রমণগাড়ি।

সম্পর্কের অভিমান ঝরে পড়ে

খই-এর মতো বিন্দু বিন্দু স্বেদের ফোঁটায়,

চোখে আঁটা ছলনার রোদ্দুর

ভেঙে পড়ে দুজনের প্রাত্যহিক পথে।

পিচগলা পথের পিছুটান কাটিয়ে

ধ্বংসের পর অপোর হাসিমুখ নিয়ে

গড়িয়ে যায় বাতিল আসবাবদের ভাগ্য...

আমরা দুজন মিছেমিছি ধুলো নিয়ে খেলি

ফুল, পাতা আর বুনো লতাদের সাথে

সংসার পাতি খেলনার রুপালি তৈজসে।

সূর্যের শুশ্রুষা শেষে

দিনের যতটুকু মেরামত হলো

তাতে মেঘহীন কেটে যাবে কয়েকটা দিন।

বিগত দিনের ক্ষত মুছে গেলে

এসো ভেবে নিই আরেকবার;

স্বর্গের বুকে সাজাবো কি আবার?

আমাদের ধুলোবালির সংসার।

দিন চলে যায়

এলিজা খাতুন

অন্তর্গত য়, দহন-শোক, হৃদয়ে টাঙ্গিয়ে

পার করি নিরুদ্দেশ সময়

হৃদয় চিরে বুনে দিয়েছো অনন্ত অপোর বীজ

অথচ নিয়ম করে চেয়ে চেয়ে দেখেছি কত

একে অপরে; রক্তাক্ত প্রাণে, মননে, মেধায়

অনেকদিন পথ হাঁটিনি একসাথে

পাশাপাশি; কথার সাথে কথা ছুঁয়ে ছুঁয়ে

তুখোড় আলাপে কতদিন মেতে উঠিনি!

বিমর্ষ মন, অবনত বিরহ, মৌসুমি-খরা

দ"ষ্টিতে ঝুলিয়ে খুঁজি একজোড়া স্বপ্নবান চোখ

দুঃখ যখন সামনে এসে দাঁড়ায়,

তাড়ায় চোখের আলো

যখন নিয়মের লুকোচুরি চোখে দেয় ধুলোবালি

ঝেড়ে মুছে তারে উজ্জ্বল করি একা একা

কতদিন যে ভোরের মাচায়

টুনটুনির আনাগোনা নেই!

ব"ছায়ায় শীতল হয়নি সাদামাটা জীবন

বহুদিন কোন প্রতিবাদ নেই কণ্ঠে

গড়ার স্বপ্নে বিভোর হয়নি মন

অনেকটা দিন রৌদ্র থেকে ছিন্ন

পথের কাঁকর খুঁটে ফেলি না কতদিন!

দেখা হয়নি কতকাল-

মাটির গভীরে কীভাবে হারায় শিশির

বেশি কিছু না চায় ব্যাকুল দু’হাত

তবু কী যেন খোঁজে মন

কী যেন হারিয়েছি খুব

যা কিছু হারায় মানুষ তার কতটুকু খোঁজে!

কতটুকু পায়? পাওয়া যায় কোন্ পথে!!

পাওয়া গেলে কতটা কাটায় প্রশান্তিকাল?

বহুদিন হলো পথ-ঘাট সব বিরান প্রান্তর

এই পথে কতদিন আসোনি তুমি!

তুমিও প্রতীক্ষায় থেকো

সুপ্রসাদ গোস্বামী

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত মাত্র এক মিটার দূরত্ব

এর চেয়ে অধিক দূরত্ব ছিল অপ্রত্যাশিত

মুখে মাস্ক হাতে দস্তানাই যথেষ্ট ছিল তবুও

ভয়ে তুমি চলে গেলে নাগালের বাইরে কোথাও দূরে

যার কোনও প্রয়োজনই ছিল না।

ই"ছে ছিল কোমল চিবুকে করতল দিয়ে

চোখের ভেতরে চোখ রেখে খুব কাছে থেকে

এন্ডোস্কপির মতো তোমার ভেতরটার

একটি রঙিন আলোকচিত্র করোটির ভেতরে ধারণ করার।

তুমি ফিরে এলেই

অকস্মাৎ নেমে আসা হতাশা আর মৃত্যুকে

পরাজিত করে এগিয়ে যাবে

আমাদের জয়রথ।

অশ্বত্থের পায়ের ছায়ার নিচে কচি দূর্বায় পা রেখে

আমি অপেক্ষায় আছি

তুমিও প্রতীক্ষায় থেকো।

কারুকার্যময় প্রাণবন্ত শিখীপুচ্ছের

আশ্চর্য নীলের দিকে তাকিয়ে এসো,

আমরা ক্ষমা করে দেই

মৃত্যুর নীল যন্ত্রণা।

দু’মুঠো মাটি

শুকা গাঙ্গুলি

“আপনাকে হত্যার দায় কি নিয়েছিলো শিশু বাংলাদেশ?”

- থেমে যায় কবির কলম।

একটু কি শ্বাস নিল- ঘন দীর্ঘশ্বাস

ঠিক যতটুকু নিলে মস্তিষ্ক কাজ করে...

রাতের অন্ধকার গাঢ় হাতে- দেখি

সামরিক উর্দীর পকেট থেকে উড়ছে

তিব্বত ৫৭০ কয়েকটি

খণ্ড খণ্ড- অখ- ক্ষার

শাবল গাইতি দিয়ে- মানচিত্রের ভিতর

এক মানচিত্র কে আড়াল

সমস্ত বঙ্গজাতি লুকায় লজ্জা

পশ্চিমে হেলা সূর্যের- ব্যাঙ্গময় চাউনি

দু’মুঠো মাটি দিয়ে ঢাকি- যে ঋণ

স্বাধীনতার।

বিমানবন্দর

মাসুদ অর্ণব

এক আধা-পাগল বিমান দেখলে

বুক চাপড়ে বলে, আমাগো বিমানবন্দর

একটাই, আমাগো বিমানবন্দর একটাই,...

দামি গাড়ি দেখলে, পাগলটার কণ্ঠে একই

কথার ঢেউ বয়ে যায়।

কবে শেষ হবে অভিযান

মাহবুবা ফারুক

রবিনসন ক্রুশোর আত্মীয় হই কি আমি

অথবা মাকড়সার কেউ?

নাহলে এমন কেন হয়

আমার অভিযান শেষ হতে হতে আবার শুর" হয়,

সেই প্রথম থেকে সেই সেখান থেকে বার বার

যেখানে আর ফিরে যেতে চাই না

যেটাকে আমি গল্প বানিয়ে অতীতের খাঁচায়

রেখে দিতে চাই বিজয় উদযাপনের জন্যে,

হিমালয় ছুঁতে চাই তার চূড়া স্পর্শ করতে চাই

সবটুকু সাধ্য দিয়ে জয় করতে চাই আরাধ্য কঠিন,

সর্বো"চ শিখরের সাথে একবার হাসতে ইচ্ছে করে

বাতাসে ভাসিয়ে দিতে ইচ্ছে করে দুখী নিশ্বাস

কিন্তু বিরূপ আবহাওয়া তা হতে দেয় না

পারি না সফল হতে বার বার ফিরে যেতে হয়।

অভিমান বন্দি করে অধ্যবসায়ী হয়ে উঠি

খুলে রাখি স্বপ্নের দরজা

থেমে যায় অভিযান

আবার প্রথম থেকে শুরু

শেরপা বলে চল, আবার ক্যাম্প বেইস নং এক।

স্নিগ্ধ ভোরের প্রার্থনা

তরুন ইউসুফ

দুচোখ ভরে ভোর দেখি

আর যদি ভোর দেখার সুযোগ না পাই

কান পেতে পাখির ডাক শুনি

কাকের কণ্ঠেও এত মধু!

কত ভাললাগাকে অস্বীকার করেছি নিয়ত!

বেলকনির কার্নিশে অপরাজিতা ফুল

ফুটেছে কয়েকটা

আকাশে রঙ আঁকতে আঁকতে

রোদ যাচ্ছে যৌবনের দিকে

বারান্দায় এসে উঁকি দিচ্ছে আলো

এই স্নিগ্ধ ভোরে জীবনের সমস্ত সুন্দরের

দোহাই দিয়ে বলি-

আয় দয়াময়

আকাশের খোদা

করুণাধারা ঢালো

মানুষের ঘরে

সময়

জান্নাত লাবণ্য

যেখানে একসময় তরুণীর

হাসির ঝলকে তরুণের দল

ফোটাতো গোপন প্রেমের পদ্য,

সেখানে আজ ধু-ধু প্রান্তর।

জমেছে শিশিরের টুপটাপ

পতনের উপলব্ধি আর বিষাক্ত

সময়ের হাহাকার।

পৃথিবী নাকি আজ বুঝে নিচ্ছে

তার প্রতিটি মুহূর্তের কেদাক্ত

রণের জরিমানা, কিংবা

আমাদের করা সকল

অন্যায়ের প্রতিবাদ।

যে শিশুটি সৃষ্টিকর্তার কাছে

করেছে অশেষ কষ্টের নালিশ,

আজ তার জবাব দিতে হবে সবাইকে,

প্রস্তুত হও, হে নষ্ট সময়!

সুন্দরের স্বপ্ন

মেখে নিলে

হাসান নাজমুল

আমার এ দৃষ্টি যতদূর যায়

ততদূর দেখি সুন্দরের ভিড়;

দৃষ্টি দীর্ঘ হলে অহর্নিশ দেখতাম

সমস্ত দৃশ্য-অদৃশ্য;

দৃষ্টির আড়ালে হয়তোবা আছে আরো

অনেক অনিন্দ্য অদৃশ্য,

আমার পৃথিবীজুড়ে-

অসুন্দর- অপ্রতুল;

সুন্দরের স্বপ্ন মেখে নিলে-

দৃষ্টির দূরত্ব ভরে যায় অসীম সুন্দরে।

  • সাব-অল্টার্ন স্টাডিজের ‘মহামারি’ ভাবনা

    মিল্টন বিশ্বাস

    newsimage

    সাব-অল্টার্ন স্টাডিজ গোষ্ঠীর অন্যতম লেখক দীপেশ চক্রবর্তীর Community, state and the body

  • করোনানিশীথে জ্ঞানদেবীর সঙ্গে

    নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর

    newsimage

    রাতভর জেগে চেষ্টা করছি। কিছুই লেখা হচ্ছে না। জ্ঞানদেবীও বুঝি করোনাকে ভয়

  • নিমাই সরকার

    আগুনের পরশমনি

    newsimage

    হঠাৎ করেই ভেঙেচুরে কিছু একটা পড়ার শব্দ। কী হলো, কী হলো! আর

  • অফিসে একদিন

    হাইকেল হাশমী

    newsimage

    অমিত মাত্র বি-বি-এ করেছে। কতো কষ্ট করে এই প্রতিষ্ঠানে দুইটা লিখিত পরীক্ষা তিনটি মৌখিক পরিক্ষা,

  • আমার আছে বই : ১২

    মালেকা পারভীন

    newsimage

    সাহিত্যের প্রতি ভিনসেন্ট এর ভালোবাসা এতোটাই অপ্রতিরোধ্য ছিল যে তাঁর কিছু পোর্ট্রেট/স্থিরচিত্র

  • সোহরাব হাসানের কবিতা

    newsimage

    নারীর ভেতরে দ্রোহ দেখলেন মহান মার্কস তাঁর স্বপ্ন ছিল নারী-পুরুষের সুষম সমাজ

  • গাব্রিয়েলা মিস্ত্রালের কবিতা

    অনুবাদ : অনন্ত মাহফুজ

    newsimage

    বিষণ্ণ মা ঘুমাও, ঘুমাও, প্রিয়তম আমার চিন্তাহীন, ভয়হীন, যদিও আমার আত্মা ঘুমায় না, যদিও