menu

সাময়িকী কবিতা

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৯

কখনও-সখনও

খোরশেদ বাহার

কখনও-সখনও এমন হয়।

নিদ্রাঅচেতন দেহে স্নায়ুগুলো আচ্ছন্ন চিন্তামগ্নতায়

অদেখার ক্লান্তিভারে পর্যুদস্ত সমস্ত শরীর আর

নীলবর্ণ মাছের ইতস্তত সঞ্চরণ রক্তনালীর পথে পথে

অমরত্বের দূরত্ব তখন অমীমাংসিত

গণিতের খাতায় শূন্যের কোঠায়।

চেতনার রং জানা নেই। সবুজ অথবা হলুদ

আলোর ছটায় ভাঙ্গে ঘুম অপার বিস্ময়ে

কস্মিনকালেও দেখি নাই যাকে

অন্ধকূপের অতল গহ্বরে ভাসমান সে বিবর

আপন আহ্লাদে নাচছে সারাক্ষণ।

অচেনা এই সময়ের সিড়ি ভাঙতে ভাঙতে

অন্ধকারকে জেনেছি বিশ্বস্ত চিরসাথী।

কখনও-সখনও এমন হয়।

অপমৃত্যু ঘটে বিশ্বাসের

সংশয় আর সম্ভবনার সন্ধিক্ষণে মৃত কিংবা জীবিত

পড়ে থাকি আমি সময়ের সিঁড়িতে।

প্রাণের খোলসে প্রাণহীন এক অসাড় মানব

চেতনার সুবাতাস যখন বইছে চারদিক।

অবেলায় নদীপাড়ে

সনতোষ বড়ুয়া

অবেলায় নদী পাড়ে দাঁড়িয়ে বেহুলা

কত ভেলা ভেসে যায়, লখিন্দর নাই

সরু ছিদ্রে ভয় পায় সুতানলী সাপ

বুকের পাঁজরে জ্বলে কষ্টের উত্তাপ।

কারা যেন বসিয়েছে প্রকা- পাথর নদীপাড়ে

সংগীবিহীন পাথর এখন আর কথা বলে না

নদী তার জল নিয়ে খেলে ডুব ডুব খেলা,

এই অবেলায় তুমি দাঁড়িয়েছ নদী পাড়ে।

তোমাকেই মাঝে মাঝে বেহুলা মনে হয়

দেবী মনসা বাঁচে যার চোখের জলে,

শ্রাবণ আকাশে উড়ে গেলেই ভাদর

অপেক্ষায় আছি যদি সাপে কাটে আমিই লখিন্দর।

নীল প্রজাপতি

শাহিদা সুলতানা

সে ছিল, এখন নেই-

রেস্তোরাঁর কাচঘেরা ঘরে, কাচপাত্রে

ফালুদার বর্ণিল কারুকাজের মত

সেও মিলিয়ে গেছে সময়ের আবর্তে,

তাকে আর যায় নি পাওয়া কোনদিন,

সমূদ্রের নোনা হাওয়ার অন্ধকারে

অথবা কোন চাঁদের রাতে,

মোহনীয় টিউলিপ বনে।

এখনো এখানে বসে থাকি

কখনো একা,

কখনো একসঙ্গে!

রুপসার তীর ঘেঁষে

ভেজা বাতাসের গায়ে ভাসে

এলোমেলো গাংচিল-

এলোমেলো স্বপ্নের মত, গন্তব্যহীন,

শুস্ক সময়ের হিসেব রাখে না

কোন যাযাবর বেদুঈন।

ভালবাসা আর কিছু নয়

কল্পনার ক্যানভাসে নিজেরই আঁকা

এক নীল প্রজাপতি-

উড়ে বেড়ায় দিগন্ত রেখা ধরে,

ছুতে গেলে প্রান্তরেখা

কেবলই সরে যায় দূরে,

তারই স্মৃতির মতো!

বরফকুচির শব্দ

দ্বীপ সরকার

তামাশার বিচি কিনতে যাই প্রেমিকের কাছে-

সে দৃষ্টির ভেতর থেকে আনে

টুকরো টুকরো বরফকুচি

পাঁজরের পাশ থেকে আনে মহাকালের দা-কুড়াল-

অতঃপর প্যাপিরাস থেকে অদ্ভুত কাগজে মুড়িয়ে দেয় তামাশার বিচি,

নিংড়ানো চুপকথার নিমগ্ন চোখ আমার চোখে রাখতেই

বেরিয়ে আসে বরফকুচির ঠাস ঠাস শব্দ

প্রেমিকা চোখে ঘৃণার ঝাঁপি খুলে বসে থাকে

আর আমি তাতে তাড়া খাওয়া মাছের মতো দৌড়ে এসে

আটকে যাই আর আটকে যাই-

কবিতার কথা

পরান জহির

কখনও কখনও স্তব ও স্তুতির ভিতর শব্দেরা

সুশোভিত হয়ে ওঠে

তখন আমার জ্যামিতির মতোই মনে হয় সব

কবিতাকে-

যেন কোন অজানা দ্রাঘিমাংশকে ছুঁয়ে জেগে

উঠেছে দৃশ্যের দ্বীপ

কখনও কখনও কবিতা সুরের মতো মনোহর

নির্দিষ্ট সংজ্ঞার ভিতর পৃথিবী যখন অতিক্রম

করে কক্ষপথের সূত্রমালা

ক্লেশ-বেদনা-আত্মরতি ও সুখ-দুঃখকে যখন

কবিতার ভিতর মিলে

দু-চোখের দর্শনায় তখন পাওয়া যায় মণিবদ্ধ

শ্লোকের আখ্যান

তখন মনে হয়- কারো জীবনই বুঝি হয়ে গেছে

কবিতাময়

অথচ এমন একটা গল্প আমি রোজ লিখতে

চাই- ইচ্ছের প্রতিকূলে জেগে থাকে আত্মতা।

আমাদের

সাদিয়া স্বাতী

ক্যাফেতে বসে আমরা যখন জ্যাঁ পল সার্ত্রের সঙ্গে

কফি ভাগাভাগি করছিলাম, আমাদের সমস্ত

মনোযোগ তখন তাকেই দিয়েছিলাম

অধীর আগ্রহে যখন দেখছিলাম কীভাবে তিনি

ওয়েটারকে বুঝিয়ে দিলেন যে ওয়েটারগিরিটা তার মাস্ক

তখনো আমরা একবারও নিজেদের কথা ভেবেছি কি

অথবা করেছি দৃষ্টি বিনিময়?

সার্ত্রর চোখে দেখা আমাদের পৃথিবীতে

শুধু ফিলোসফি

আর ভেবে অকুল ঈশ্বরের অস্তিত্বের সংকটে

কিন্তু ফিরবার পথে ইলশেগুড়ি বৃষ্টিটা আমাদের যাবতীয় ভুলের কারণ

আমাদের বন্ধন ও ছিন্নের নস্টালজিয়া সেই ইলশেগুড়ি।

  • বিশুদ্ধির বিরল উত্থানে সে

    ইমতিয়ার শামীম

    newsimage

    সাধারণ এক সংখ্যাই ছিল সেটা,- সাপ্তাহিক বিচিত্রার ওই সংখ্যা হয়ত এখন কোনওমতে টিকে আছে কারও ব্যক্তিগত সংগ্রহের ভিড়ে- সংগ্রাহকও

  • একাকিত্বে ও আমার একান্ত স্বজন

    মাসুদার রহমান

    newsimage

    প্রিয় কবি! এই অভিধাটি নিয়ে এ পর্যন্ত আমার কোন ভাবনা নেই। এই মুহূর্তে লিখতে বসে তা নিয়ে ভাবনা ও ধন্ধে পড়া গেল। প্রিয় কবি; এই

  • আবুল হাসানের কবিতায় দুঃখবোধের বৈচিত্র্য

    অনন্ত মাহফুজ

    newsimage

    জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা। দৃশ্যের বিপরীত

  • উড়াল

    মুজতাবা শফিক

    newsimage

    অফিস শেষ করে জ্যাম ঠেলে মতিঝিল থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতে প্রায় সাতটা বেজে যায়। জামাকাপড় খুলে মুখ হাত ধুতে

  • সুহিতা সুলতানার কবিতা

    newsimage

    এমন বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যায় স্তব্ধতা নেমে আসে দক্ষিণ দিগন্ত বেয়ে; বিশ্বাস অবিশ্বাসের জলে ভেসে বেড়ায় শাদা হাঁস যদিও ভয়ঙ্কর শীত নামেনি এখনও

  • ধারাবাহিক ভ্রমণ কাহিনি : চার

    সিমলা-মানালির পথে

    কামরুল হাসান

    newsimage

    সেন্ট্রাল বাসস্টপে যাত্রা বিরতি ১৫ মিনিট। আমি এ সুযোগে নিচে নেমে ডাবল