menu

সাময়িকী কবিতা

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৯

বাণিজ্য নগরীর দিকে

গোলাম কিবরিয়া পিনু

একটি গাভী, তার বাছুরের সাথে থাকতে

পারে না, বাছুরের সাথে খেলতে পারে না,

বাছুরও লাফাতে পারে না স্বচ্ছন্দে! জন্মের

পরই বাছুর ভিন্ন খাঁচায়, মা-গাভী বড়

খাঁচায়, দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতে বিঘ্ন হবে, তাই

এমন ব্যবস্থা! মফস্বল শহরের পাঁচ বছরের

শিশুটিও মায়ের কোল থেকে দূরে, ভিনদেশের

দার্জিলিংয়ের স্কুলে, পরিবারের কর্তাব্যক্তিটি

শিশুটির সমৃদ্ধি খুঁজছে, মায়ের অশ্রুলোচনের

ভেতর, হৃদয়ভাগ হওয়া বিচ্ছিন্নতার

ভেতর! আমাদের সকল রাস্তার অভিমুখ কি

বাণিজ্য নগরীর দিকে!

অনির্দিষ্ট

মোস্তাক আহমাদ দীন

অস্পষ্ট আলোয় দুলছ

জানি তাও কিছু নয়,

বণিকমেলার ভিড়ে

অযথাই ধা ধা নৃত্য

অহেতুই শোনা যায় গান

কোনো কোনো দিন

পৌষনিশীথের ক্ষীণ উজ্জ্বলতা :

অস্থায়ী চূড়ার আভায়

নগ্ন আর মগ্ন কারুময়

এরপরই পৃথিবীতে মৃদু-বিস্ফোরণ?

শেষমেশ চেনা যায় তাকে :

উষ্ণ মরুর দেশে

সর্বংসহা চিরতুষারিণী-

যখন ভিড়ল জাহাজ

জলে-ভাসা তোমার বন্দরে

লগ্ন

ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত

লগ্ন ছিল ভাগাভাগির,

মগ্ন ছিল ভালোবাসা,

তিথি ছিল জবরদস্তি,

এভাবেই কাছে আসা,

বিভোর ছিলাম সঙ্গীতে,

বাজাচ্ছিল দরবারী কে!

যতই ভাবি যতই লিখি,

পড়ছে না কেউ দেখছে না কেউ!

তবুও লিখে যাচ্ছি দেখ,

ছুঁড়ে ফেলবে?

ফেল দেখি,

কতো পারো!

এক একটি অবজ্ঞাতে

ধাক্কা পেয়ে অনেক লিখি,

তোমার যতই প্যাঁচানো ভ্রু বাঁকানো ঠোঁট

আমার কলম তীক্ষ্ণ ততো;

ভালোবাসা উড়ে যাচ্ছে,

ঘৃণার মাঠেই দেখা হোক।

জনম জনম হেঁটে যাই

রবীন্দ্রনাথ অধিকারী

জনম জনম হেঁটে যাই সাগর জলে

জল কেন ছোঁয় না দেহ

কে জানে?

কার টানে

আমি হাঁটি আড়াআড়ি

ভাঙা কণ্ঠে ডাকাডাকি

আমাকে ভাসিয়ে নাও শেষ ঠিকানায় নিবাসবিহীন

শববাহী জল তোমাকে অভিনন্দন

ময়নাতদন্তের মতো কাঁটাছেঁড়া করো দেহ

আমাকে স্পর্শ করো

আমাকে বিনাশ করো

আমাকে মুক্ত করো বন্ধন থেকে

আমি মিশে যেতে চাই

তোমার সঙ্গে অঙ্গে অঙ্গে

জল-তরঙ্গে বহু রঙ্গে

বেদনা-রহিত।

আদি

মেহনাজ আলতাফ

মৃত প্রজাপতির ডানায়, এই থেমে থাকা দুপুরের

পাতায় সেই সত্য ধরা দেয়।

এইখানে, এই মুহূর্তে, পৃথিবীর এই বিন্দুতে,

ডুমুরের ঝাঁপ দেওয়া জলে জীবনকে আলিঙ্গনের তীব্র উল্লাসে,

রোদে জলে ভেজা বাতাসে, শ্যাওলার ঘ্রাণে,

কোকিলের হাহাকারমাখা বাদামি পাতার সরসর শব্দে!

স্পষ্ট জীবনের মতো, অস্পষ্ট জীবনের মতো!

ইথারের বুকে লুকানো অনন্তকালের ফিসফাস,

লোকালয় থেকে দূরে এই প্রান্তরে পৃথিবীর যেখানে

গরম জল থেকে উঠে আসা ভ্যাপসা রোদে পচা পাতার ঘ্রাণ

এই রোদে রোদে ইথারে ইথারে লুক্কায়িত সেই সত্য!

এই সব রোদের ছায়ায়, ডুমুরের ভালোবাসায়, পচা পাতায়,

জলে ভেঁজা বাতাসে, আদিসত্য সর্বদা থাকে অপেক্ষায়, অনন্তকালের।

অনেক দিন পারিনি যেতে

মাহমুদুজ্জামান জামী

এমন রুটিনে আটকা পড়েছি যে

অনেক দিন দূরে কোথাও পারিনি যেতে;

অনেকদিন একটু দূরের

সবুজ গ্রামটির কাছে-

যাওয়া হয়নি আর; শান্ত বাতাসের ঢেউ-

গাছের পাতায়, সবুজ ঘাসের দেহে

যে আন্দোলন বইয়ে দেয়- অনেক দিন

দেখা হয়নি সে নৈসর্গিক সমারোহ;

শুধু তালিকাবদ্ধ, যন্ত্রের উদ্দাম উৎসবে

রাত্রিদিন কৃত্রিম মনোভ্রমণে অবরুদ্ধ।

অনেক দিন উন্মুক্ত আকাশের নিচে-

অবারিত পথে-ঘাটে, ছোট নদীটির তীরে

যাওয়া হয়নি আমার!

কুহেলিকা ঘাট

নিলয় রফিক

শিল্পের আঁখিনিলয়ে রক্তফুলে আভা

সকালে স্বর্ণালিহাসি আয়না সতেজ

সন্ধ্যাডুবে মুদ্রাপথে শরীরে কুহক

কোমল বিছানা ডাকে শুয়ে পড়ো লতা।

মেঘের জানালা ফাঁকে দৃষ্টি মেলে রূপ

অপূর্ব নন্দনে মন ছুঁয়ে যায় দৃশ্য

ঢেউয়ে নৃত্যের পথে মোহনায় টানে

প্রকৃতির আঁচলের আঙুলের ছাপ।

জলভরা বসন্তের কুহেলিকা ঘাটে

কে যেন ভাটারস্রোতে অশনি পলক

আড়ালে গুপ্তকথন আরামে সূচনা

সদর হৃদয় খ্লি ডাকলেও ভয়!

ভোঁতাস্বাদ

নীলা হারুন

আগুনের স্বাদ নিতে যেয়ে দেখি

মুখখানা গেছে পুড়ে,

স্বাদগ্রন্থিতে লোভ নেই আর

এখন শুধু খাবার খাই-

বেঁচে থাকতে।

সফেদ দুগ্ধ;

রক্তিম ডালিম-

সব সমান এই জিভে।

কালিভরা মাছও খাইয়ে দিতে পার

স্বাদগ্রন্থি এখন সন্ন্যাসে।

  • কমলকুমার বিষয়ে ভাব প্রকাশ

    মামুন হুসাইন

    newsimage

    আমাদের জন্মের বছর সুনীল গাঙ্গুলী ঘোষণা করলেনÑ ‘কমলকুমার মজুমদারের অন্তর্জলী যাত্রা এ বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ কবিতার বই এবং উপন্যাস

  • ষাটের দশকে বিচরণ-

    কবি মানস ও কাব্য ভাবনা

    মারুফ কামরুল

    newsimage

    পঞ্চাশের একটা ছাপ ষাটের দশকে পড়লেও এই দশকের আলাদা বৈশিষ্ট্য দাঁড়িয়েছে; কিছু প্রতিভা উঠে এসেছে। পঞ্চাশ ও ষাটের একটা

  • অঞ্জনা সাহার কবিতা

    newsimage

    অভিসন্ধি, চৈতন্যলোকে, জয়যাত্রা

  • সবার জন্য নন্দনতত্ত্ব

    আবদুস সাত্তার

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হয়েছে বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল। কিন্তু এখনও প্রাচ্যকলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের

  • বৃষ্টির সেই অন্ধকারগুলো

    গৌতম গুহ রায়

    newsimage

    পুড়ে যাওয়া বা ছেকা খাওয়া রুটির মতো খসখসে সন্ধ্যার ভেতর চন্দ্রা চোখ

  • নীলিমা ইব্রাহিমের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের সাহিত্যমূল্য

    নাজনীন বেগম

    newsimage

    বাংলাদেশের শিক্ষা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির প্রগতিশীল বলয়ে অন্যতম বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ড. নীলিমা ইব্রাহিমের পুরো জীবন ছিল সার্বজনীন

  • পতনের পর

    আসমা চৌধুরী

    newsimage

    ঘরে ঢুকে মিষ্টি একটা গন্ধ পায় শরীফ। রান্নাঘরে ভালোকিছু রান্না করছে সায়মা। মন